ক্রিকেট পৃথিবী জয়ের প্রথম যুদ্ধে জয়ী ১৮ বছরের পৃথ্বী

323
Image Source: Google
Simple Custom Content Adder

বিশেষ রিপোর্ট: প্রথম ব্যাটে-বলে লাগার আওয়াজটাই বুঝিয়ে দিল এ ছেলে থাকার জন্য এসেছে। আর তারপর, ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’। এই প্রবাদটা নিজের জীবনের সমর্থক শব্দ বানিয়ে নিয়েছে সে। বৃহস্পতিবার, নতুন জীবনের প্রথম যুদ্ধটাও অনায়াসে জিতল পৃথ্বী সাউ। ফের টেস্ট ক্রিকেটের ওপেনিংয়ে যেন ‘আক্রমনাত্মক’ সুনীল গাভাসকারকে ফিরে পেল টিম ইন্ডিয়া।

রঞ্জি ট্রফিতে নেমেই সেঞ্চুরি, দলীপ ট্রফিতে নেমেই সেঞ্চুরির পর এবার টেস্ট ক্রিকেটে নেমেই সেঞ্চুরি। এই রেকর্ড ‘ক্রিকেটের ভগবান’ সচিনেরও নেই। মাত্র ১৮ বছর বয়সে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের উপস্থিতি যেন সাড়ম্বরে জানান দিল ‘বিস্ময় বালক’ পৃথ্বী সাউ।

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই স্কুলের হয়ে নেমে এক ইনিংসে ৩০০ বলে ৫৪৬ রান করে প্রথম নজরে আসে পৃথ্বী। তখনই ছোটবেলার সচিনের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়ে যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার।

অভিষেকেই রঞ্জি, দলীপে সেঞ্চুরির পর এই বালক যে খুব তাড়াতাড়ি ভারতের হয়ে টেস্ট খেলবে, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারোরই। আর প্রথম সুযোগেই বাজিমাত। বৃহস্পতিবার, রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওপেন করে ১৫৪ বলে ১৩৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস।

আরও পড়ুন – গল্প হলেও সত্যি:মহিলা অঙ্গের জন্য দিতে হত ট্যাক্স

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই অনায়াস সেঞ্চুরি। তারপরেও, খেলার গতির বিরুদ্ধে হঠাৎ আউট হয়ে ক্রিজেই তার আফসোস ক্রিকেটপ্রেমী ভারতবাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আরও রান-খিদে নিয়ে পরবর্তী সচিন আরও উন্নত হয়ে হাজির হয়েছে।

টেস্ট শুরুর আগে ‘বাচ্চা ছেলে’র চাপ কমাতে কোচ রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন, রঞ্জি ট্রফির মতই খেলতে। জীবনের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওপেন করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের ‘বাচ্চা’ বানিয়ে সেই পৃথ্বীই খেলল চাপহীন, অসাধারণ একটি ইনিংস।

এই ইনিংস যে শিখর ধাওয়ান ও মুরলি বিজয়ের টেস্ট কেরিয়ারে বড়সড় প্রশ্ন চিন্হ ঝুলিয়ে দিল তাই নয়, রোহিত শর্মা সহ অনেকেরই টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসার রাস্তাও বন্ধ করে দিল।

আরও পড়ুন – কি কি কারণে লোকসভা ভোটে ডুবতে পারে ‘মোদী ম্যাজিক’

১৮ বছর ৩২৯ দিনে টেস্ট অভিষেক হল পৃথ্বী সাউর। অভিষেকেই টেস্ট ক্রিকেটের বেশ কয়েকটি রেকর্ড পকেটে। সচিনের মত এই ছেলেও যে ২২ গজে রাজত্ব করতে এসেছে সেটা প্রথম দিনেই ভারতীয় ফ্যানদের কাছে পরিষ্কার।

১৯৭৫ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেই অভিষেক হয়েছিল ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট ওপেনার সুনীল গাভাসকারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম সিরিজেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এসে গেছেন। দেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করলেও পৃথ্বীর আসল পরীক্ষা কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেস বাউন্সের পিচেই হবে।

গাভাসকার শুরুতেই দেখিয়ে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। সচিন ছাপ রেখেছিলেন পাকিস্তানের পিচে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ওপেন করে পৃথ্বী সফল হলে সচিনের পর আবার একজন ‘ক্রিকেট ভগবান’ এর আগমন হয়েছে বলেই মেনে নেবে ভারত ও বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন