দেশ জুড়ে চালু ৫ জি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম রেডিও ওয়েভে ঘরে ঘরে ক্যান্সারের আশঙ্কা

329
দেশ জুড়ে চালু হচ্ছে ৫ জি, ঘরে ঘরে ক্যান্সারের আশঙ্কা/The News বাংলা
দেশ জুড়ে চালু হচ্ছে ৫ জি, ঘরে ঘরে ক্যান্সারের আশঙ্কা/The News বাংলা

দেশ জুড়ে চালু হচ্ছে ৫ জি; ঘরে ঘরে ক্যান্সারের আশঙ্কা। ফাইভ জি নেটওয়ার্ক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর; সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এখন। প্রশ্ন উঠছে এর রেডিয়েশন ছড়ানো নিয়ে। পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে; এরই মধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক চালু হয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও অনেক দেশে; ফাইভ জি নেটওয়ার্ক চালু হবে। ভারতেও শুরু হচ্ছে ৫ জি নেটওয়ার্ক। আর তার আগেই উঠছে অনেক প্রশ্ন।

ফাইভ জি-র ব্যতিক্রমী কোথায়? ফাইভ জি নিয়ে কেন এতো উদ্বেগ? এমন কি প্রমাণ রয়েছে যে; স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ; ফাইভ জি নেটওয়ার্ক? পুরনো মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মত; ফাইভ জি নেটওয়ার্কও নির্ভর করে এমন একটা সিগন্যালের উপর; যেটি রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। অ্যান্টেনা এবং মোবাইল ফোন সেটের মধ্যে; ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম প্রবাহিত হয়। যেটা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত খারাপ।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ও বিক্রম কতদিন দৃষ্টি ঘুরিয়ে রাখতে পারবে, দেশে চাকরি যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের

আমরা সবসময়; ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের মধ্যেই বসবাস করছি। টেলিভিশন এবং রেডিওর সিগন্যাল; মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে; ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি সূর্যের আলোতেও; ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম রয়েছে। ফাইভ জি মোবাইল নেটওয়ার্কে; অনেক হাই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হয়। যা মানুষের শরীরের পক্ষে; অত্যন্ত খারাপ বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা।

এর মাধ্যমে একই সময়ে অনেক মোবাইল ফোন সেটে; দ্রুত গতিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। ফাইভ জি নেটওয়ার্কে যে তরঙ্গ থাকে; সেটি শহরাঞ্চলে খুব বেশি দূর যায় না। এই তরঙ্গ ছড়িয়ে দেবার জন্য; অনেক বেশি ট্রান্সমিটার ব্যবহার করতে হয় এবং সেগুলোর অবস্থান হতে হয় মাটির কাছাকাছি।

আরও পড়ুনঃ সর্বহারা চাষির ছেলের হাতে ভারতের চাঁদে নামার স্বপ্ন, মন্দির যাওয়া ও কান্না নিয়েই ব্যস্ত বাম

উদ্বেগ কোথায়? মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে যে; ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়; সেটির কারণে বিশেষ কয়েক ধরণের ক্যান্সার হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে; মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। তবে ৫ জি চালু হবার পরে; সেই ধারণা থেকে সরে আসছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার; যৌথভাবে সব ধরণের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়শেনকে শ্রেণীবিন্যাস করে বলেছে; এর মাধ্যমে ক্যান্সারের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। আর মোবাইল ফোন সিগন্যালের; একটি অংশ হচ্ছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি।

আরও পড়ুনঃ আসাম এনআরসি-তে বাদ যাওয়া ৯০ শতাংশই হিন্দু, এনআরসি কাল হবে বিজেপির

রেডিও ওয়েভ? ক্যান্সার গবেষক ডেভিড রবার্ট গ্রিমস বলেন; মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের জন্য যে ধরণের রেডিও ওয়েভ ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়; যেটি শরীরের ডিএনএ ভাঙ্গা এবং কোষ ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তবে তিনি এও বলেন; মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে যত উচ্চমাত্রার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম ব্যবহার করা হবে; ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বাড়বে। আর ৫জির ক্ষেত্রে সেটাই হতে চলেছে।

ফাইভ জি ট্রান্সমিটার নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে? ফাইভ জি প্রযুক্তি চালু করার জন্য; অনেক নতুন স্টেশন লাগবে। মোবাইল ফোনের সিগন্যাল পাঠানো এবং গ্রহণ করার জন্য; অনেক নতুন টাওয়ার বসাতে হবে। ব্রিটেনের বেশ কিছু শহরে ফাইভ জি; মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া; স্পেন; সুইজারল্যান্ড এবং আমেরিকাতে চালু হয়েছে ৫জি পরিষেবা। একদল বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক; ফাইভ জি চালু বন্ধ করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি দিয়েছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন