কালাম কেন মসজিদে, শিভন কেন মন্দিরে, বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন

1838
আব্দুল কালাম কেন মসজিদে, কে শিভন মন্দিরে, বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন/The News বাংলা
আব্দুল কালাম কেন মসজিদে, কে শিভন মন্দিরে, বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন/The News বাংলা

মানব গুহঃ বিজ্ঞানীরা কেন মন্দিরে যাবেন? বিজ্ঞানীরা কেন মসজিদে যাবেন? বিজ্ঞানীরা কেন ধর্মস্থানে প্রার্থনা করতে যাবেন? চন্দ্রযান ২ ও ল্যাণ্ডার বিক্রম এর সঙ্গে ইসরোর বিজ্ঞানীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পর; এই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। বিজ্ঞান আর ঈশ্বরবাদের মধ্যে; নাকি চিরকালীন দ্বন্দ্ব৷ বিজ্ঞানীরা কি ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরবিশ্বাসী হতে পারেন না? সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ঝড় উঠেছে। আব্দুল কালাম কেন মসজিদে; কে শিভন কেন মসজিদে মন্দিরে; বিজ্ঞানীদের ধর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্ন।

বিজ্ঞানীদের ধর্মবিশ্বাস। ঐতিহ্যের নিদর্শন আছে; এদেশের সর্বোচ্চ মহাকাশ গবেষণা সংস্থায়৷ যে কোনও মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণের আগে; ইসরো প্রধানরা নিজেরাই দেবতার আশীর্বাদ নেন৷ শ্রীহরিকোটার আশেপাশে যত মন্দির আছে; সমস্ত মন্দিরে শুভ কাজের আগের দিন পুজো দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুনঃ এখনো মহাকাশ থেকে ছবি পাঠাচ্ছে চন্দ্রযান, আশার আলো ইসরোর বিজ্ঞানীদের

শ্রীহরিকোটায় গবেষণা কেন্দ্রের লঞ্চ প্যাডের কাছেই; একটি ছোট মন্দির আছে৷ সেখানে গিয়ে ইসরো প্রধান কে শিবন পুজো দিয়েছেন; চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের আগে৷ অভিযানের সাফল্য চেয়ে ইসরো চেয়ারম্যান কে শিবন; দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত মন্দির তিরুপতি ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরেও পুজো দিয়েছিলেন। চন্দ্রযান ২-এর একটি প্রতিরূপও; নিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে।

ইসরো সূত্রের দাবি; এটা দীর্ঘদিনের রীতি। মঙ্গলযানের সময় তৎকালীন ইসরো প্রধান; কে রাধাকৃষ্ণন মন্দিরে গিয়ে কীর্তনও গেয়ে এসেছিলেন। চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের আগে; তিরুপতি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন; সস্ত্রীক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ শ্রীহরিকোটায় গবেষণা কেন্দ্রের ভিতরে; সব ধর্মের বিজ্ঞানীদের প্রার্থনার ঘর আছে। যে কোন উৎক্ষেপণের আগেই; বিজ্ঞানীরা নিজেদের উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করে নেন।

আব্দুল কালাম থেকে কে রাধাকৃষ্ণন; আর এখন কে শিভন; প্রত্যেকেই নিজের নিজের ধর্ম পালন করেছেন। বড় কোন কাজের আগে; নিজের নিজের ধর্মস্থলে গিয়ে কেউ পুজো; কেউ আবার প্রার্থনা করে এসেছেন। সর্ব-শক্তিমানের কাছে কাজের সাফল্যের আর্জি জানিয়ে এসেছেন। এটাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে; ভারতীয় সংস্কৃতি।

আরও পড়ুনঃ মনখারাপ কেন আমরা আবার চাঁদে যাব, দেশের মানুষের মন জিতলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

আর এর বিরুদ্ধেই কোমর কষে নেমে পড়েছেন; কিছু অর্ধশিক্ষিত মানুষ। মানুষের ব্যক্তিগত রুচিকেও আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না তারা। আর সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এটাই; সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মতই; এই ইস্যুতে লেখা শুরু করেছেন; তথাকথিত কিছু বাঙালি বুদ্ধিজীবী।

আব্দুল কালাম ‘ইসরো’; ‘ডিআরডিও’-তে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হন। ভারতের ‘মিসাইল ম্যান’ নামে খ্যাত এই মানুষটির; ধর্মপালন নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবেন কেন? মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে কারোর নাক গলাবার অধিকার কি আছে?

একসময়ে ক্ষেতে খালি পায়ে নিজের কৃষক বাবার সঙ্গে; চাষের জমিতে কাজ করেছেন কে শিভন। সাফল্যের নানা সিঁড়ি পেরিয়ে; সেই তিনি আজ ইসরোর প্রধান। যে মানুষটি নিজের জীবনে প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে; এমন সাফল্য পেতে পারেন; তাঁর নেতৃত্বে ইসরো চাঁদকে ছোঁয়ার চেষ্টা করবে; তাতে আর আশ্চর্য কী! ইসরোর চেয়ারম্যান শিভন চন্দ্রযান-২ অভিযানের প্রধানও ছিলেন।

২০১৮ সালে ইসরোর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে; বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের প্রধান ছিলেন তিনি। পিএসএলভি; জিএসএলভি-র মতো লঞ্চ ভেহিক্যাল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য; তাঁকে ইসরো-তে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবেও ডাকা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০৪টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে; ইসরো যে বিশ্বরেকর্ড করেছিল; তাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শিভনের।

বিজ্ঞানী হয়েও তিনি কেন মন্দিরে যাবেন? প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপাচ্ছে কিছু অর্ধ শিক্ষিত আঁতেল। মানুষ বুঝছেন তারা এটা করছেন; শুধুই খবরে থাকার জন্য। পরীক্ষায় ৯৫ পাওয়ার পরেও, বিষয় ঘুরিয়ে তারাই ব্যর্থতার উপহাস করবে; যাদের এই পরীক্ষায় ৫ পাবারও যোগ্যতা নেই। অন্য মানুষের ব্যক্তিগত ব্যপারে তারাই নাক গলায়; যারা আসল শিক্ষায় শিক্ষিত নয় বলেই মনে করা হয়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন