অজানা জ্বরে রাজ্যে শিশু মৃত্যুর মিছিল, চরম আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

395
বিহারে এনকেফালাইটিসে শিশুমৃত্যু সংখ্যা ছাড়াল ১০০/The News বাংলা
বিহারে এনকেফালাইটিসে শিশুমৃত্যু সংখ্যা ছাড়াল ১০০/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

বিহারে বাড়ছে শিশুমৃত্যু। ১৬ দিনের মধ্যে বিহারের মুজাফফরপুরে; এনকেফালাইটিস সিন্ড্রোমে মারা গেছে প্রায় ১০০ শিশু। শুধুমাত্র শ্রী কৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজেই; মারা গেছে ৮৩ শিশু। কেজরিয়াল হাসপাতালে আরও ১৭। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেড়ে চলেছে মৃত্যু সংখ্যা।

বিহারের ১২টি জেলার ১২২টি ব্লকে; অ্যাকিউট এনকেফালাইটিস সিনড্রোমের সংক্রমণ দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুজফ্ফরপুর ও তার চারপাশের এলাকায়। এখনও শ্রী কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজে; অন্তত ২৯০ টি শিশু আইসিইউ তে ভর্তি।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতাল আন্দোলনের মাঝেই জন্ম নিল আর এক ছোট্ট আন্দোলন

বিহারের সরকারী স্বাস্থ্য পরিষেবা খতিয়ে দেখতে; আসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। গত রবিবার দিল্লির একটি চিকিৎসকের দল পৌঁছায় বিহারে। ওই দলের হাসপাতাল পরিদর্শনের সময়ই; মৃত্যু হয় আরও ৪ শিশুর।

পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন; প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে। মন্ত্রীদের সামনেই শোনা যায়; সন্তানহারাদের চিৎকার। মৃতের পরিবার কে ৪ লক্ষ টাকা; অনুদানের কথা দেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন; রোগ মোকাবেলায় সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

অ্যাকিউট এনকেফালাইটিস সিন্ড্রোম একটি ভাইরাল রোগ। এর লক্ষণগুলি অত্যাধিক জ্বর; খিচুনী এবং মাথা ব্যাথা। রাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগ এই রোগের মৃত্যুর কারন হিসাবে; রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন।

আরও পড়ুনঃ এনআরএস কাণ্ডে এবার কর্মবিরতি শুরু করল দিল্লির এইমস ও আইএমএ ডাক্তাররা

কয়েক বছরে এনসেফেলাইটিস মহামারীর আকার নিয়েছে বিহারে। যদিও প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রক শিশুমৃত্যুর জন্য ‘ব্রেন ফিভার’- কে দায়ী করে। এই সব এলাকায় অপরিণত লিচু খেয়েও; শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তাপপ্রবাহের কারণে লিচু থেকে বেরনো টক্সিন; রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিয়ে মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে। ২০১৪ সালের পর আবার এই শিশুমৃত্যু মিছিল।

আরও পড়ুনঃ নবান্নেই জুনিয়র ডাক্তারদের সোমবার বৈঠকে ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন এই শিশুমৃত্যু একটাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুজফফরপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে খুশি নন তিনি। বায়লজি ল্যাব সব আইসিইউ-এর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। তবে এখনও একের পর এক শিশু মৃত্যু হতে থাকায়; চরম আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন