পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ঘাঁটি গাড়ছে, ওসামা বিন লাদেনের আল কায়েদা

1637
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়, ঘাঁটি গাড়ছে আল কায়দা সংগঠন/The News বাংলা
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়, ঘাঁটি গাড়ছে আল কায়দা সংগঠন/The News বাংলা

মানব গুহ, কলকাতা: পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে; ২০১১ র ২ মে মার্কিন নেভি সিল কমান্ডোদের হাতে মারা যায়; আল কায়েদা সংগঠন প্রধান ওসামা বিন লাদেন। বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল কায়েদা সংগঠনটি; বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি সংগঠনগুলোর একটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। বিশ্ব জুড়ে, হাজার হাজার যোদ্ধা ছিল এই বাহিনীর। তবে ওসামা ও অন্যান্য নেতাদের মৃত্যু; আর ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উত্থানের পর; আল-কায়েদার ক্ষমতা ও প্রভাব অনেকখানিই কমে গেছে। কিন্তু, এবার বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়; ঘাঁটি গাড়ছে সেই ওসামা বিন লাদেনের আল কায়েদা সংগঠন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর; ইজরায়েল এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি; ভারতকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে আগেই সতর্ক করেছে। আল কায়েদা এবার ভারতে; সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, ভারতে আল কায়েদার সংগঠন বিস্তারে; মূল ফোকাস এলাকা দুটি। এক, কাশ্মীর এবং দুই পশ্চিমবঙ্গ সমেত পূর্ব ভারতের বাংলা ভাষী মুসলিম এলাকা। আল কায়েদার সংগঠন, ‘একিউআইএস’; তৈরি হয় ২০১৪ সালে। যার আসল নাম, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট (একিউআইএস)। এটি সক্রিয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশে। এই সংগঠনটিই, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে; আল কায়েদার সংগঠন তৈরি করছে।

আরও পড়ুনঃ Ladakh Exclusive: চিনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড ড্রোন হামলা; একের পর এক নেতার মৃত্যু; এবং ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ। এর জেরেই, আল-কায়েদা নতুন কৌশল বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। সংগঠনটি সফলভাবে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায়; তাদের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন বা ‘শাখা’র একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ভারতীয় উপমহাদেশের জিহাদি মুজাহিদিনদের জন্য; আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশও করেছে আল কায়েদা। বাংলা ভাষায় ওই আচরণবিধি; একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে আল কায়েদা।

শুধু এই অডিও বার্তাই নয়। আল কায়েদা তাদের অন্যতম শীর্ষনেতা আনওয়ার আল আওলাকির; বিভিন্ন ভাষণ সঙ্কলিত করে বাংলায় ‘দ্য বুক অব জিহাদ’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে। আওলাকির ভাষণের বাংলা অনুবাদ করে; সিডিও তৈরি করেছে বিশ্ব ত্রাস ওই জঙ্গি সংগঠন। অনলাইন প্রচার, ফেসবুক ও হোয়াটস আপ গ্রুপকে; প্রচারের হাতিয়ার করেছে আল কায়েদা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রতি মাসেই, বেশ কিছু ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেন; যেখানে প্রকাশ্যে আল কায়েদার হয়ে প্রচার চালানো হয়। তার মধ্যে অনেক ওয়েবসাইট বাংলায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলা ও কেরলে ভয়ঙ্কর আল কায়দা মডিউল, বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল এনআইএ

বাংলা ওই ওয়েবসাইটগুলি আল কায়েদার মতাদর্শ থেকে শুরু করে; সংগঠনের শীর্ষ জিহাদি নেতাদের আরবি বক্তব্যকে; বাংলায় ডাব করে প্রচার করছে। সেই সঙ্গে ওই ওয়েবসাইটের পড়ুয়াদের জন্য; দেওয়া হচ্ছে অনলাইন প্রশিক্ষণ। কী ভাবে ফোন এবং ইন্টারনেটের উপর নজরদারি এড়ানো সম্ভব; বা কী ভাবে নিজের মোবাইলে কোনও নির্দিষ্ট ফাইল গোপনে রাখা সম্ভব হবে; এইসব শিক্ষাও দেওয়া হয় এখানে। এক শীর্ষ গোয়েন্দাকর্তা বলেন; “মূলত ওয়ার্ডপ্রেসে ওই সাইটগুলি বানানো হচ্ছে। সাইটগুলিকে চিহ্নিত করে; ব্লক করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সাইট খোলা হচ্ছে”।

লাদেন জীবিত থাকাকালীন; আল কায়েদা কখনওই এ ভাবে সংগঠনের প্রচার করত না। আইএস বা আল কায়েদার মতো সংগঠনে; এত দিন বাঙালিদের আলাদা কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি, মার্কিন গোয়েন্দাদের বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল; আইএস শিবিরেও, মূল বাহিনীতে ভারতীয় এবং বাঙালিদের; যোদ্ধা হিসাবে কোনও সম্মান ছিল না। মূলত পশ্চিম এশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার মুজাহিদরাই; বেশি গুরুত্ব পেত ওই দুই সংগঠনে।

আরও পড়ুনঃ চিনা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন, লাদাখে বড়সড় আক্রমণের ছক জিনপিংয়ের

কিন্তু আল কায়েদার সাম্প্রতিক কার্যকলাপ থেকে; গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে এবার তারা সংগঠন বিস্তার করতে; বাংলাভাষী মুজাহিদদেরই গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা তাদের প্রচারে বাংলাভাষী শহিদদের কথাও; ফলাও করে প্রচার করছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এ ভাবে বাংলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে; আল কায়েদা দুই বাংলাতেই জিহাদি নিয়োগ শুরু করেছে। আর সেই নিয়োগে সাহায্য করছে; জামাতুল মুজাহিদিনের মতো সংগঠন।

স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে; আল কায়েদা প্রতি সপ্তাহে একটি উপ-মহাদেশীয় সংবাদ বুলেটিন প্রচার করছে। যেখানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সমেত দেশের মুসলিমদের উপরে হওয়া; বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হচ্ছে। উস্কানিমূলক খবর দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে; মগজধোলাই করার পরিকল্পনা করছে আল কায়েদা।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এ রাজ্যে সক্রিয়; কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে চিহ্নিত করেছেন। ওই সংগঠনগুলি দাবি করে; তারা নিপীড়িত মুসলিম মানুষদের জন্য কাজ করে। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই প্রকাশ্য মুসলিম সংগঠনগুলিই; রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আল কায়েদা জিহাদের তলায় তলায় তৈরি করছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির ক্ষেত্রেও; এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের; সরাসরি ভূমিকা পাওয়া গিয়েছে। খুব পরিকল্পিত ভাবেই সাধারণ একটি দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনাকেও; অন্যদিকে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে উস্কানি দেয়; ওই ধরনের কিছু সংগঠন।

আরও পড়ুনঃ ঘুম উড়ল পাকিস্তানের, গিলগিট বালটিস্তানের মানুষ চাইল ভারতের অংশ হতে

আল-কায়দা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের ‘হেডমাস্টার’। বর্তমানে, আল-কায়দা বাংলাদেশ সহ; মোট ৪৫টি দেশে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি; অন্যান্য মুসলিম সংগঠনকে মদত দিচ্ছে বিভিন্ন ভাবে। তারা “জিহাদ” এর নামে বিভিন্ন সংগঠন তৈরি করছে; আর এর কার্যক্রম অবাধে চালাচ্ছে। ইসলামকে বিক্রিত করে সারা বিশ্বে; এক বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানোর চেষ্ঠা করছে। এই রকম অনেক জঙ্গি সংগঠন, এই যুদ্ধের নাম দিতে চাইছে; ‘মুসলিম ভার্সেস নন মুসলিম’।

বাংলাদেশে আল-কায়দা হরকতুল জিহাদ; হিজবুত-তাহিরি; হিজবুত তাওহিদ; খিলাফত আন্দোলন; লস্কর-ই-তাইবা সহ নানা উগ্র ইসলামিক সংগঠনের মাধম্যে; তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের নতুন টার্গেট এবার; পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষী মুসলিম এলাকা। রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে; এবার টার্গেট করে এগোচ্ছে আল কায়েদা। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে ৬ আল কায়েদা জঙ্গির গ্রেফতার হওয়াটা; তাদের এই বাংলাতেও সংগঠন তৈরির প্রমাণ দেয়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন