আলাপনই প্রথম নন, আগেও ‘অবসরপ্রাপ্ত আমলা’দের উঁচু পদে বহাল করেছেন মমতা

3682
আলাপনই প্রথম নন, আগেও 'অবসরপ্রাপ্ত আমলা'দের চাকরি দিয়েছেন মমতা
আলাপনই প্রথম নন, আগেও 'অবসরপ্রাপ্ত আমলা'দের চাকরি দিয়েছেন মমতা

আলাপনই প্রথম নন, এর আগেও ‘অবসরপ্রাপ্ত আমলা’দের; উঁচু পদে বহাল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণে পদে রয়েছেন; অবসরপ্রাপ্ত আমলারা। অনেক সময় পদ না থাকলেও, তাদের চাকরি দিতে; নতুন পদ সৃষ্টি করেছেন মমতা। তাই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা, প্রধান সচিব-সহ একাধিক পদে রয়েছেন; অবসরপ্রাপ্ত মমতা ঘনিষ্ঠ আমলারা। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে, সুরজিৎ পুরকায়স্থ; রাজীব সিনহা; গৌতম সান্যাল; রিনা মিত্র সহ অনেকেই সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পরেও; তাঁদের বহাল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, বিগত তিন বছর ধরেই তিনি ছিলেন; রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে। রাজ্য পুলিশের ডিজির পদ থেকে অবসরের পরই; এই পদে তাঁকে এলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সুরজিৎবাবুকে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত রাখতে; রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদটি; নতুন তৈরি করে রাজ্য সরকার। বিধানসভা ভোটের আগে; সুরজিৎকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার; তাঁকেও নতুন পদ দিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের অধীনে; সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর সিভিল সার্ভিস অ্যাকাডেমির প্রধান করা হচ্ছে তাঁকে।

আরও পড়ুনঃ ‘নয়া ফরমান’, আলাপন ইস্যুর পরেই অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের মুখ বন্ধ করল মোদী সরকার

গৌতম সান্যাল; বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব। ২০১১ সালে তাঁর কেন্দ্রের সিভিল সার্ভিসের; মেয়াদ শেষ হয়। তাঁকেও ছাড়েননি মমতা। তারপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিবের; দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সেক্রেটারিয়েটের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী পদে; এইমুহূর্তে রয়েছেন তিনি। মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার হস্তান্তর মামলায়; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি গৌতম স্যান্যালকে তলব করেছিল ইডি। ২০১৭ সালে নিজেদের হাতে থাকা মেট্রো ডেয়ারির সমস্ত শেয়ার; নামমাত্র মূল্যে একটি বেসরকারি সংস্থাকে বিক্রি করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায়; কয়েকশো কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলেই অভিযোগ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।

আরও পড়ুনঃ ‘মানবিক মমতা’, প্রয়াত সাংবাদিকের স্ত্রীকে পর্যটন নিগমে লক্ষাধিক মাইনের চাকরি

রাজীব সিনহা, ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর; রাজ্য মুখ্যসচিবের পদ থেকেই অবসর নেন রাজীববাবু। তার পরদিনই তাঁকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদ; ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়্যারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়। যার মেয়াদ ৩ বছর। রাজ্যের নতুন শিল্পক্ষেত্রে; ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্ব সামলান রাজীববাবু। রাজীব সিনহার পরেই; মুখ্যসচিব হন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকতালীয় হলেও অবসরের দিনেও; নিজের চেয়ারটি তিনি ছাড়েননি। বরং তা আগেই তিনি পাঠিয়ে দেন; ক্যামাক স্ট্রিটে শিল্পোন্নয়ন নিগমের অফিসে। জানতেন, তাঁকে ওখানেই বসাবেন মমতা।

রিনা মিত্র, ২০১৯ সালে ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের; বিশেষ সচিব হিসেবে অবসর নেন তিনি। সিবিআই প্রধান হবার ব্যাপারেও তাঁর নাম এসেছিল। মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার রীনা মিত্রকে; রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর তাঁকে; রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার ওএসডি বা অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি বা ওএসডি করা হয়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন