শনি রবির ছুটিতে, আদিবাসী সাঁওতালি সংস্কৃতিতে, ঢাকের বাদ্যে মন ডুবিয়ে আসুন আমাডুবিতে

640
শনি রবির ছুটিতে, আদিবাসী সাঁওতালি সংস্কৃতিতে, ঢাকের বাদ্যে মন ডুবিয়ে আসুন আমাডুবিতে/The News বাংলা
শনি রবির ছুটিতে, আদিবাসী সাঁওতালি সংস্কৃতিতে, ঢাকের বাদ্যে মন ডুবিয়ে আসুন আমাডুবিতে/The News বাংলা

বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে; ধলভূমগড় গ্ৰামটাকে ডানহাতে রেখে; গাড়ী ছোটান রাউতাড়া রোড ধরে। দেখবেন ছোট ছোট সুন্দর জনপদ; একটা ছোট সুন্দর নদী; কোপাই নদীর একটি শাখা পার হয়ে পৌঁছে যাবেন সুন্দরদিহ। আর সেখান থেকেই গন্তব্যস্থল জামসেদপুরের ‘আমাডুবি’। ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়; এই গ্রামীণ পর্যটনের পথ চলা। পাথুরে রুক্ষ ভূমিকে ঘাসের আর গাছের ছায়ায় গড়ে তোলা; মোটেই সহজ কাজ ছিল না! টাটানগর থেকে ৬৫ কিমি দূরে আমাডুবি। প্রাথমিক উদেশ্য ছিল; স্থানীয় পটকর শিল্পীদের পুনর্বাসন; সে এক দীর্ঘ সংগ্রাম। শনি রবির ছুটিতে; আদিবাসী সাঁওতালি সংস্কৃতিতে; ঢাকের বাদ্যে মন ডুবিয়ে আসুন আমাডুবিতে।

আমাডুবি; সাঁওতালি স্টাইলে তৈরী কটেজ; আর সবুজের চাতাল; আপনার মনকে মাতাল করে তুলবেই। বাংলা ঝাড়খন্ড বর্ডারে ধলভূমগড় থেকে; মাত্র সাড়ে চার কিমি দূরে; আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট্ট একটি গ্রাম; নাম তার ‘আমাডুবি’। পটকর শিল্পীদের গ্রাম। মাত্র ৪৫টি পরিবার আছেন; যারা এই বিশেষ সংস্কৃতির সাথে জড়িত। আর গ্রামে আছে ৬৯টি সাঁওতালী আদিবাসী পরিবার। অসাধারণ তাদের শিল্প প্রতিভা। তাঁদের শিল্পসত্ত্বাকে অনুভব করলে; চোখ ফেরানো যায় না। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি; এক একটা শিল্প মন্দির। সমগ্র গ্রামটি অসাধারণ প্রতিভাবান মানুষদের বাস; যেন জীবন্ত উপন্যাসের প্রেক্ষাপট।

আরও পড়ুনঃ এবার পুজোয় চুপচাপ ঘুরে আসুন মুর্শিদাবাদ, দেখুন প্রথম পর্ব

গান সংকীর্তন ও পটকর শিল্প কলা চর্চা করার জন্য; ঘাটশিলার রাজাবাহাদুর রামচন্দ্রধর পটকর শিল্পীদের আমাডুবিতে জমি দান করেন। সেই থেকে এই শিল্পকলা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। ‘দাতা কর্ণ’, ‘নরমেধ যজ্ঞ’, এই ছিল পূর্বতন পটকর শিল্পীদের শিল্পের বিষয়। কাগজের ওপর হাতে তৈরী রং(মূলত এই রংগুলি তৈরী হয় গাছের ছাল ও স্থানীয় পাথর থেকে) দিয়ে আঁকা হয়; তুলি তৈরী করা হয় ছাগলের লোম ও বাঁশের কাঠি দিয়ে। তারপর সেই কাগজ কাপড়ের ওপর সাঁটা হয়। ফলে একটা শক্ত-পোক্ত রূপ পায় ছবিগুলি। শেষে দেওয়া হয় নিম গাছ থেকে তৈরী করা একধরণের আঠা; যাতে পোকা না লাগে।

‘করম পর্ব'(ভাদ্র মাসে একাদশী তিথিতে হয়); ‘মনসা পর্ব’ এরকম বিভিন্ন হিন্দু উৎসবের ছবি স্থান পেয়েছে এই শিল্পকলায়। পর্যটকরা কিনতে চাইলে পেয়েও যাবেন; দাম ৩০০ টাকা-৫০০টাকার মধ্যে। বিভিন্ন মাপের এই ছবিগুলি।

আরও পড়ুনঃ পুজোর কটা দিন চুপচাপ ঘুরে আসুন, দেখুন কোথায় যাবেন, কি দেখবেন

শাল মহুয়ার জঙ্গল; লাল মাটি আর নুড়ি ভরা রাস্তায় গ্রাম; আট দশটা কাঁচা বাড়ি; সাঁওতালি পরিবারগুলো নিজেদের ব্যাস্ত রাখে বাহা, শারহুল, দাসই, সরফা কতরকমের নাচে; এটাই ওঁদের আনন্দ; এটাই ওদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। সাঁওতালি ভাষায় নাচ কে বলে ‘এনেচ’ এবং ‘তিরিও ওরঙ্গ’ মানে বাঁশি বাজানো আর গান কে বলে ‘সেরেং’। সামিল হতে পারবেন আপনারাও! শাল পিয়ালের বন, সাঁওতালি নাচ গান, মাদলের বোল। মেয়েদের মাথায় লাল ফুল; পুরুষের পিঠে তীরধনুক; মাথার ওপর আকাশ! মনে হবে এ কোথায় এসে পরলাম।

শাল, মহুয়ার জঙ্গল আর তার মধ্যে ফুটে থাকা পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া; আপনার সামনে বাজছে মাদল। আর একজন নাচছেন; কেউ গান ধরেছেন। সঙ্গে মান্ডের, নাগারা আর শিঙ্গার শব্দ! গরুর গাড়িতে করে আমাডুবি ঘুরতে ঘুরতে নিজেদেরকে; ‘অরণ্যের দিনরাত্রির’ চরিত্র মনে হবে! বোহেমিয়ানিজম তাড়া করে ফিরবে আপনাদের। আপনারা হয়ে যাবেন; ‘হেমন্তের অরণ্যের পোস্টম্যান!’

রাত নেবে এলে, দূরে, বহু দূরে কানে ভেসে আসবে দ্রিদিম দ্রিদিম শব্দ, মাদল কিংবা খোল। কিন্তু এমনই আধোজাগা; গম্ভীর সেই শব্দ যে রীতিমতো রহস্যময় মনে হবে; চুপ করে শুনবেন! বা রাত্রিতে একটু নদীর ধরে এসে বসবেন। শহরের একঘেয়ে জীবন থেকে এক ঝটকায় হয়ে যাবেন চাঙ্গা, সতেজ।

কি ভাবে যাবেন আমাডুবি? গাড়িতে কলকাতা থেকে মাত্র ২৩০ কিমি; ৫ ঘন্টা মতো সময় লাগে। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে; ধলভূমগড় থানার পাশ দিয়ে যে রাস্তাটি চলে গেছে; সেটির নাম রাউতারা রোড; সেখান থেকে মাত্র ৫ কিমি, আমাডুবি। ট্রেনে গেলে টাটানগর পর্যন্ত ট্রেনে যেতে হবে। তারপর গাড়িতে।

কোথায় থাকবেন? থাকার জন্য মাত্র দুটি কটেজে, নন এসি, বাথরুম সংলগ্ন; আগে থেকে বলে রাখলে টাটানগর থেকে পিকআপ ও ড্রপ এর ব্যবস্থা করে দেন। সাঁওতালি গ্রাম দেখা; নাচ, গরুর গাড়ি চড়া; নদীর ধারে গিয়ে বসা; এসবই কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা করে দেন;০ তবে আগে থেকে বলে দিতে হয়। গরমে তীব্র গরম আর শীতের সময় তীব্র ঠান্ডা; সারাবছরই যাওয়া যায়।

যোগাযোগের ঠিকানা: ওয়েব পোর্টাল : http://www.kala-mandir.org/amadubi.html। ইমেইল:kalamandir.jsr@gmail.com
ফোন নম্বর: ০৬৫৭২৩২০১০৯, ০৯০৬০০৬৭০৯৩, ০৮৯৮৭৭০৭৭০১, ০৯০৬০০৬৭০৯২

ব্যস আর কি। যোগাযোগ করে বেরিয়ে পড়ুন এক নতুন রোমাঞ্চের দিকে। কাটিয়ে আসুন ছুটির দুটো দিন। আর বিভিন্ন বেড়াতে যাবার খবর দেখতে লাইক করে রাখুন The News বাংলা ফেসবুক পেজ। কোথাও ঘুরে এসে আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন; সব তথ্য দিয়ে। আমাদের মেইল আই ডি; thenewsbanglaofficial@gmail.com আমাডুবি ঘুরে এসে লিখেছেন; লেখক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন