ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাস, রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর পুত্রবধূ

3797
ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাস, রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর পুত্রবধূ/The News বাংলা
ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাস, রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর পুত্রবধূ/The News বাংলা

ফেসবুক তুমি কার? মোদীর না মমতার? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের মূল কেন্দ্রে আছেন; ভারতে ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাস। আঁখি দাস ভারতে ফেসবুকের অন্যতম কর্ত্রী; ফেসবুকের ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর পুত্রবধূ। আর তাঁর যমজ বোন রশ্মি দাস আবার; আরএসএস’র ঘনিষ্ঠ, বর্তমানে একটি এনজিও’র কর্ত্রী, যা দিল্লিতে আরএসএস’র একটি ভবন থেকেই পরিচালিত হয়। আর এই দুটি খবর সামনে আসতেই; প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বাম নেতারা। “মোদী ভাই-দিদি ভাই প্যাক্ট”; বলছেন সিপিএম নেতারা।

আরও পড়ুনঃ পিকে এবং ভাইপো মিলেই শান্তিনিকেতন কাণ্ড ঘটিয়েছে, বিস্ফোরক সৌমিত্র খাঁ

সাম্প্রদায়িক পোস্ট, বিজেপির উগ্র পোস্ট; আরএসএসের সাম্প্রদায়িক নোংরা পোস্ট; প্রতি মুহুর্তে অনুমোদন পাচ্ছে; ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বদান্যতায়। ন‍্যুনতম বিরুদ্ধ স্বর অনায়াসে ‘ব্ল্যাক আউট’ করে দেওয়া হচ্ছে; মোদীর বিজেপির বিরুদ্ধে এমনটাই ছিল অভিযোগ। নিজেদের নিয়ম, অবস্থানকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; বিজেপি নেতাদের উগ্র ঘৃণার প্রচার; ‘ব্যবসা ও শাসক দলের সঙ্গে সম্পর্ক’র খাতিরে; ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়ে চলেছে; অভিযোগের তীর আঁখি দাসের দিকে। এবার তাঁর সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সম্পর্ক প্রমাণ করল বাম নেতা কর্মীরা।

বামেদের অভিযোগ, ভারতে ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান; প্রবল ক্ষমতাধর আঁখি দাস, রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ। জানা গেছে, মন্ত্রী হতেও তাঁর প্রভাবই কাজে লেগেছিল! ২০১১ ও ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে; এরাজ্যে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী প্রচার লড়াইয়ে; রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আঁখি দাস। ২০১৬’র নির্বাচনে ফেসবুকের মতো; সামাজিক মাধ্যমে প্রচারেও ‘মেঘের আড়াল’ থেকেই; কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিলেন আঁখি দাস। এমনকি এরাজ্যের একটি বিধানসভা নির্বাচনী কেন্দ্রে; সশরীরে হাজির থেকে তৃণমূলের ‘ওয়ার রুম’র তদারকি করেছিলেন আঁখি দাস। এমনটাই অভিযোগ বামেদের।

আরও পড়ুনঃ কবিগুরুর বিশ্বভারতীতে নৈরাজ্য, কেন চুপ বাংলার বুদ্ধিজীবী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা

তখন আঁখি দাস মাইক্রোসফট-এর; ভারতের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর, একেবারে শীর্ষস্তরের পদে ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত; তিনি এই পদে ছিলেন। ২০১১’র শেষদিকেই তিনি; ফেসবুকে যোগ দেন। ২০১১ সালে অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত; প্রথমে ফেসবুক ইন্ডিয়া এবং পরে সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর হন। ২০১১ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ বর্ধমান কেন্দ্রে; তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার সামলেছেন আঁখি দাস নিজেই।

২০১৬ সালের নির্বাচনেও তার স্বামী; বর্তমানে কেন্দ্রীয় উচ্চ পদস্থ আমলা সৌম্য চট্টোপাধ্যায় (১৯৮৭ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে; এবিভিপির ইউনিট খুলেছিলেন) এবং আঁখি দাস ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারের সময় ছিলেন বর্ধমানেই। ২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায়; শাসক তৃণমূলের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় সাহায্য পরামর্শও দিয়েছেন।

আবার, একাধিক বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও; আঁখি দাসের ছবি দেখা গিয়েছে। ২০২০ সালেই এমনকি খোদ তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে; কোভিডের জন্য ‘মুসলিমদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করা উচিত’র মতো; সূক্ষ্ম প্রচারও শেয়ার করতে দেখা গেছে। নরেন্দ্র মোদী ডট ইন-এ; তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আবার ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পরে; কমিউনিস্টদের পরাজয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ে; উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে লিখেছেন সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালেও। বামেদের অভিযোগ, মোদী মমতার সঙ্গে; সমানতালে সম্পর্ক আছে, ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাসের।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন