এতদিনে প্রকাশ্যে, কংগ্রেস অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম আমলে ৪২টি ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে উধাও ৭২০০ কোটি

5845
এতদিনে প্রকাশ্যে, কংগ্রেস অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম আমলে ৪২টি ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে উধাও ৭২০০ কোটি/The News বাংলা
এতদিনে প্রকাশ্যে, কংগ্রেস অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম আমলে ৪২টি ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে উধাও ৭২০০ কোটি/The News বাংলা

এতদিনে প্রকাশ্যে, কংগ্রেস অর্থমন্ত্রী চিদম্বরম আমলে ৪২টি ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে উধাও ৭২০০ কোটি টাকা। অনাদায়ী ঋণের বোঝায় হাঁসফাঁস অবস্থা; ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির। এরমধ্যে আরও ৪২টি নতুন ব্যাঙ্ক জালাতির ঘটনা সামনে এল। এক্ষেত্রে মোট জালিয়াতি পরিমাণ প্রায় ৭,২০০ কোটি। প্রথম ইউপিএ জমানায় পি চিদম্বরম কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন; এই সমস্ত ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে; কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যেই দেশের ১৮৫টি স্থানে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে; লেনদেনের নথি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেরা করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংস্থার হিসেবের খাতায়; কারচুপি বা ভুয়ো নথি দিয়ে ব্যাঙ্ককে প্রতারিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতি রুখতে দেশের ১৬৯ ব্যঙ্কে হানা দিল সিবিআই

একাধিক কোম্পানি ব্যাঙ্কের ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে; ওই বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই সময়ে ব্যাঙ্কে যে অফিসাররা ছিলেন; তাঁদের একাংশ এই ঋণ পাইয়ে দিতে সাহায্য করে বলে অভিযোগ। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে; প্রাথমিকভাবে দেশের ১৫টি ব্যাঙ্কে এই ৪২টি জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। এই তালিকায় আছে দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং সংস্থা ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলির; মোট অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ১০.৬৬ লক্ষ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে।

গত মাসে পঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ (PMC) ব্যাঙ্কের জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পরে; দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তদন্তে জানা গেছে, কমপক্ষে ২১,০০০টি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে; একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে বেআইনিভাবে বিপুল ঋণ দিয়েছিল; পঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কো-অপারেটিভ (PMC) ব্যাঙ্ক ব্যাংক।

জানা যায়, প্রথম ইউপিএ জমানায় পি চিদম্বরম কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন; বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয় একাধিক কোম্পানি। বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করার নামে; ওই ঋণ নেওয়া হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২০০ কোটির টাকারও বেশি। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও; ওই সংস্থাগুলি ঋণের টাকা ফেরত পায়নি।

টাকা জমা না পড়ায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে; খোঁজখবর শুরু করে। দেখা যায়, ভুয়ো লেনদেন এবং ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যালান্স শিট তৈরি করে; ঋণ নেওয়া হয়েছে সমস্ত ক্ষেত্রেই। সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে; ১১টি কেসের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ ছিল; ১০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটি টাকা। আর চারটি কেসে প্রতারণা অঙ্ক; ১০০০ কোটির টাকারও বেশি। এই সময় সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন পি চিদম্বরম।

তদন্তে উঠে এসেছে; বেশ কিছু কোম্পানিকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তদ্বির করেছিলেন; কংগ্রেসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। একাধিক ব্যাঙ্ক কর্তার কাছে তাঁদের ফোন গিয়েছিল; বলেই সিবিআই জানতে পেরেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ভূমিকাও যাচাই করা হবে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন