ব্যাঙ্ক লোন মকুব নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে, জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

47049
ব্যাঙ্ক লোন মকুব নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে, জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
ব্যাঙ্ক লোন মকুব নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে, জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক

ব্যাঙ্ক লোন মকুব নয়; সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে; দেশব্যাপি বিতর্কের জেরে জানাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বাবা রামদেব থেকে বিজয় মালিয়া; সবার ব্যাঙ্ক লোন কি মাফ করে দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক? উঠে গেছে প্রশ্ন। দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ৬৮ হাজার কোটি টাকা লোন এর হিসাব; খাতা থেকেই মুছে দিল ব্যাঙ্কগুলি। করোনা সংক্রমণের জেরে ভয়াবহ অবস্থা বিশ্বজুড়ে। প্রথম শ্রেণির দেশগুলিও; পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল। অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই খারাপ সময় চলছে সমস্ত দেশে। বাদ নেই ভারত, জিডিপির পতন ঘটেছে ব্যপক পরিমাণে। ঠিক এই সময়ে ভয়াবহ তথ্য দিলো; রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যা রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী ভারতের কিছু শীর্ষ ঋণ গ্রহণকারীদের; খামখেয়ালিপনার ফলস্বরূপ মকুব করা হয়েছে; প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা। তবে একথা অস্বীকার করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

RBI বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এর চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে; LOAN WRITE OFF। কখনই LOAN Weaver বলা হয় নি। তাহলে বাঙলা তর্জমা-য় মানে; লোন মুকুব দাঁড়াল কি করে। প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। বিজেপি-র তরফে অভিযোগ উঠেছে; Bank Loan Write Off ও Loan Weaver এর মধ্যে Basic Difference না বুঝেই; ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে রাজনৈতিক নেতা ও Paid Media।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে পরিষ্কার বলা হয়েছে; “যদি কোনো ব্যক্তি ব্যাঙ্কে লোন নেওয়ার পর; নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করতে না পারে; তারপর তাকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয় পরিশোধ করার জন্য। এই সময়ের মধ্যে যদি লোন পরিশোধ করতে না পারে; তাহলে সেটা NPA বা Non Performing Asset হিসেবে ধরে নিয়ে; ব্যাঙ্ক একটি Balance Sheet তৈরি করে। এরপর এটা Write Off or Written Off হিসেবে ধরা হয়। এর মানে ব্যাঙ্ক লোন মাফ নয়। এই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য; সরকার সব রকম আইনি পদক্ষেপ নেয়”।

আরো সোজা ভাবে বললে; “Write Off” এর মানে (লোনের ক্ষেত্রে) ব্যালেন্স সিট এর অ্যাসেট থেকে; লোন কে NPA (Non Performing Asset) তালিকায় নিয়ে আসা। ঋণ মকুব আর রাইট অফ এর মধ্যে এক বড় পার্থক্য হলো; ঋণ মকুব হলে ঋণ গ্রহীতার কোন দায় থাকে না। সে পুরোপুরি ঋণ থেকে; মুক্ত হয়ে যায়। রাইট অফ এর ক্ষেত্রে; কিন্তু সেটা হয় না। এক্ষেত্রে লোন এনপিএ তালিকায় থাকে; কিন্তু গ্রহীতার দায় পুরোপুরি থেকে যায়। ব্যাঙ্ক এক্ষেত্রে; গ্রহীতার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিতে পারে। গ্রহীতার জেল বা অন্য শাস্তি হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাংকের হিসাবে যাই থাকুক; ঋণ গ্রহীতা দায়ভার থেকে মুক্ত হয় না।

এটা ব্যাংক প্রতি বছর; নিয়ম অনুযায়ী করেই থাকে। এই ‘রাইট অফ’ গুলো না করলে অকারণে; ব্যাঙ্কের অ্যাসেট কৃত্রিম উপায়ে বেশি দেখায়। এতে ব্যাঙ্কের বারোটা বাজে। সম্প্রতি ইয়েস ব্যাংক তার উদাহরণ। সাময়িক ভাবে ভালো মনে হলেও; আখেরে ভিতরে ভিতরে আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ।

জানান হয়েছে, SBI বা স্টেট ব্যাঙ্ক; 1 Trillion Write off থেকে ২০১৯ এর মে মাস পর্যন্ত; ৩১৫১২ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছে। পূর্বতন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি-কে; সংসদে এই রকম একটা প্রশ্ন করেছিলেন বাম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি। উত্তরে জেটলি বলেছিলেন যে; Written Off মানে লোন ছাড় দেওয়া নয়; আইনি পদক্ষেপ নিয়ে টাকা পুনরুদ্ধার করা।

RBI তার নোটিশেও কিন্তু; Written Off ই লিখেছে। ঋণ মুকুব নয় কিন্তু। আসলে সারা পৃথিবীতেই বর্তমানে Double Entry System ফলো করে; হিসাব করে যেখানে দুটি ভাগ থাকে; একটি ডেবিট আর একটি ক্রেডিট। এবং খাতায় সবসময় এই দুটি দিকেই; মোট রাশি এক দেখাতে হয়। যাই হোক এর বিভিন্ন নিয়মের মধ্যে; একটি নিয়ম হচ্ছে স্থাবর সম্পত্তির অবমূল্যায়ন করা এবং ঋণের পরিমান একটা সময় পরপর মুছে দেওয়া; নাহলে সেটা ডবল এন্ট্রি সিস্টেমে গোলমাল করে দেয়।

আদপে কিন্তু সেটা পুরোপুরি মোছা হয় না; সেই ঋণ আইন আদালতের মাধ্যমে আদায় পর্ব চলতে থাকে। অপরদিকে যে সম্পত্তিগুলো অবমূল্যায়ন করতে করতে; জিরো হয়ে গেছে সেগুলোকে ফেলে দেওয়া হয় না; সেগুলো বহাল তবিয়তে ব্যবহার করা হয় বা বিক্রি করে দেওয়া হয়।

বিজেপির অভিযোগ, “এমনিতেই এই খবরগুলোকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; তাছাড়া এই ভুল খবর সোশ্যাল মিডিয়া-তে ছড়িয়ে দিয়ে; করোনার সময়ে লোকের এই লক ডাউনে এর বিরক্তির সুযোগে; একটু মোদী বিরোধিতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী শিবির”। তবে এই নিয়ে বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়ছে না; কংগ্রেস সহ বাম ও তৃণমূল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন