পাহাড়ে গুরুং শিবিরের ঘর ভাঙল গেরুয়া, বিধানসভা ভোটের আগেই নতুন সমীকরণ

692
পাহাড়ে গুরুং শিবিরের ঘর ভাঙল গেরুয়া, বিধানসভা ভোটের আগেই নতুন সমীকরণ
পাহাড়ে গুরুং শিবিরের ঘর ভাঙল গেরুয়া, বিধানসভা ভোটের আগেই নতুন সমীকরণ

পাহাড়ে গুরুং শিবিরের ঘর ভাঙল গেরুয়া; বিধানসভা ভোটের আগেই নতুন সমীকরণ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে, বিমল গুরুং শিবির বদল করায় চিন্তায় পড়েছিল পদ্মফুল শিবির। তবে এবার গুরুংয়ের দলের অন্দরেই; সিঁধ কেটেছে তারা। গুরুং শিবিরের ২৫ জন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতারা; যোগ দিলেন বিজেপিতে। তৃণমূলের মতই; গুরুং শিবিরেও লাগল ভাঙন। বিমল গুরুং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ নেওয়ায়; তাঁরা গুরুংয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে দলত্যাগ করেছেন। ফলে পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমেজে; বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে গুরুং পন্থীদের এই দল পরিবর্তনে।

গুরুং পন্থীদের একটা বড়ো অংশ; গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সোচ্চার। ফলে তারা বিজেপি শিবিরে যোগদান করা মানেই; রাজ্যের শাসক দলের উপর তাদের আস্থা না থাকার চিত্র পরিস্কার। বিজেপি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে; দার্জিলিং-এ জয়ী হয়েছিল। বিজেপিকে সাহায্য করেছিল স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক দল এবং বিমল গুরুং এর অবিভক্ত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। কিন্তু এখন সেসব অতীত।

আরও পড়ুনঃ রাজনীতি ছেড়ে দেবার বাজি ধরলেই হেরেছেন, এবার জিততে ২৩০ আসন পাবার যজ্ঞ অনুব্রতর

বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চান বলে; মাথায় মা’র্ডারের মামলা নিয়েও; হঠাৎ আত্মপ্রকাশ করে জানিয়েছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে; এই বিমল গুরুং পাহাড়ের বাইরে বসে; বিজেপিকে সমর্থন করে জিতিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্ত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে; তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য সরকারের দেওয়া একাধিক মামলা থেকে; নিষ্কৃতি পেতেই এবং পাহাড়ে ফিরে আসার তাগিদেই সম্ভবত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছেন।

তবে তাঁর এই মত বদলের প্রভাব; পড়তে শুরু করেছে তার দলের অন্দরেই। শুরু হয়ে গেল ভাঙন। যে ২৫ জন নেতা গুরুং শিবির থেকে, বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছেন গুরুংয়ের পরামর্শদাতা স্বরাজ থাপা; গুরুংপন্থী মোর্চা মুখপাত্র বি পি বাজগাই; তরাইয়ের মোর্চা নেতা শংকর অধিকারীর মতো হেভিওয়েটরা। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ; পালটে গিয়েছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ মমতার মন্ত্রীর রাস্তা অবরোধে আটকে গেল করোনা ভ্যাকসিনের গাড়ি

গুরুং শিবিরে ভাঙন; পাহাড়ের মাটিতে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে তৃণমূল শিবিরও। এদিকে গুরুং শিবিরে ভাঙন লাগতেই; স্বস্তির শ্বাস ছাড়তে শুরু করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু; এই ঘটনাকে ট্রেলর বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ে আরও বড় যোগদান শিবির হবে খুব শিঘ্রই”। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (গুরুঙ্গ পন্থী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেছেন; “এঁদের সঙ্গে অনেক আগে দলের সম্পর্ক; ছিন্ন হয়ে গেছে। এরা বিজেপিতে গেলে; দলের কোনও ক্ষতি হবে না”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন