‘গণহীন গণতন্ত্র’, বাংলার মানুষের মতকে চরম অসম্মান রাজনৈতিক দলগুলির

599
'গণহীন গণতন্ত্র', বাংলার মানুষের মতকে চরম অসম্মান রাজনৈতিক দলগুলির
'গণহীন গণতন্ত্র', বাংলার মানুষের মতকে চরম অসম্মান রাজনৈতিক দলগুলির

মানব গুহ, কলকাতাঃ ‘গণহীন গণতন্ত্র’। বাংলার মানুষের মতকে চরম অসম্মান; রাজনৈতিক দলগুলির। আরও পরিষ্কার করে বললে; বিজেপি ও তৃণমূলের। জনতা নাকি জনার্দন? সেই ‘জনতা জনার্দন’-কেই; অপমান করে চলে, রাজনৈতিক দলগুলি। ভোট দেওয়া মানুষের; গণতান্ত্রিক অধিকার। ব্যাস ওই পর্যন্তই। ভোট দেওয়ার পরে বিজয়ী বিধায়ক বা সাংসদের, কোন কার্যকলাপের উপর; তাঁর কেন্দ্রের ভোটারদের কোন হাত বা মত নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধি জেতার পরেই, দলবদল করতে পারেন; ইস্তফা দিয়ে আবার ভোটের লাইনে দাঁড় করাতে পারেন সেই ভোটারদের; যাদের ভোটে জিতে এসেছিলেন তিনি। আর বাংলায় যেন, সেই ‘গণহীন গণতন্ত্র’র উৎসব শুরু করেছে; বিজেপি ও তৃণমূল।

খেলাটা শুরু করেছিল বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে; বিজেপির প্রার্থী তালিকায় ছিল পাঁচ সাংসদের নাম। ২০১৯-এই এঁরা মানুষের ভোটে; জিতেছিলেন লোকসভায়। মানুষের সেই মতকে পাত্তা না দিয়ে; ফের তাঁদের মানুষের ভোট নিতেই আসরে নামিয়েছিল বিজেপি। তাঁদের মধ্যে তিন সাংসদকে বিধানসভা লড়াইয়ে; হারের মুখ দেখতে হয়েছে। এঁরা হলেন, বাবুল সুপ্রিয়; লকেট চট্টোপাধ্যায় ও স্বপন দাশগুপ্ত। তবে জিতে গেছেন; নিশীথ প্রামানিক ও জগন্নাথ সরকার। আর তারপরেই তাঁরা, বিধায়ক পদ থেকে; ইস্তফাও দিয়ে দিয়েছেন। আবার ভোট হবে; এই দুই কেন্দ্রে।

আরও পড়ুনঃ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী শোভনদেব

অর্থাৎ, নিজের নির্বাচন কেন্দ্রের মানুষকে; সরাসরি অপমান। তাঁরা কেউ মারা যাননি, তাও ফাঁকা তাঁদের বিধানসভা। আবার ভোট দিতে; বুথে যেতে হবে মানুষকে। গণতন্ত্রে অবশ্য এটা; খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বাংলায় যেন, গণতন্ত্রের নামে মানুষকে অপমান ও জনতার সিদ্ধান্তকে অমর্যাদা করার; এক নতুন খেলা শুরু হয়েছে। কোচবিহারের দিনহাটায় ও নদিয়ার শান্তিপুরের মানুষকে; করোনা কাটলেই আবার ভোট দিতে বুথে যেতে হবে।

একই রাস্তায় হাঁটল তৃণমূলও। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তাঁর পুরনো আসল ভবানীপুর থেকেই; জিতে আসতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর জেদের জন্য; ভবানীপুরের মানুষকে আবার রাস্তায় নামতে হবে ভোট দিতে। কারণ, ভবানীপুর বিধানসভার বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করলেন; রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ওই আসনে আবার ভোটে লড়বেন; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ ভোটার বা বাংলার আমজনতাকে, গণতন্ত্রের নামে এই অপমান করার খেলা; কবে বন্ধ করবে দলগুলি? ‘গণহীন গণতন্ত্র’ আর কতদিন? প্রশ্ন তুলেছে মানুষ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন