করোনা ভাইরাস লকডাউন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

2917
করোনা ভাইরাস লকডাউন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
করোনা ভাইরাস লকডাউন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

করোনা ভাইরাস লকডাউন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়েই লেখা হল; এই লেখা। আর তার মধ্যে রইল রবি ঠাকুরের অমর সৃষ্টি। তবে ইতিমধ্যেই রবিঠাকুরের মুখে মাস্ক পড়ান ছবি নিয়ে; শুরু হয়েছে বিতর্ক। সেই করোনা আবহেই; রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি দিয়েই তৈরি হল এই নিউজ। পড়ুন; সেই সৃষ্টি।

সত্যিই আমার-আপনার, সবার ‘চোখের বালি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাইরাস। সব জায়গায় আজ ‘ছুটি’; একে একে সব যেন ‘তাসের দেশ’ এর মতো ভেঙে পড়ছে। এক অদ্ভুত ‘সভ্যতার সংকট’ তৈরী হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল; ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ দিয়ে। একদিন বিদেশ থেকে ‘সোনার তরী’ বেয়ে এলেন রাজপুত্র। আর সেই ‘বাল্মীকি প্রতিভা’-র হাত ধরেই; এদেশে হল মারণ ভাইরাসের প্রথম আগমন। যাকে বলে ‘গোড়ায় গলদ’। তারপর থেকে কর্তৃপক্ষ যতই আমাদের; ‘তোতা-কাহিনী’ শুনিয়ে যাক; আমরা জানি সহজে ‘মুক্তির উপায়’ নেই।

শুধু রোদ্দুর রায় না, রবীন্দ্রনাথকে অপমান করা বাঙালির নেশা

‘কাবুলিওয়ালা’ থেকে ‘পোস্টমাস্টার’; সবাই এখন লকডাউনে বন্দী। ‘সদর ও অন্দর’ করা চলবে না। বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে; ঘরে ঢুকলেই ‘নষ্টনীড়’। তা সত্ত্বেও কেউ ‘বীরপুরুষ’ সেজে বাইরে আড্ডা মারতে গেলে; তার ‘শেষের কবিতা’ লিখে দিচ্ছে পুলিশ। তাই ঘরে বসে ‘স্ত্রীর পত্র’ পড়েই; সময় কাটাতে হচ্ছে। সেই ‘চণ্ডালিকা’-র দুটি ‘রক্তকরবী’ চোখের ‘দৃষ্টি’-র সামনে; ঘর মোছা ও বাসন মাজাতেই জীবন ‘উৎসর্গ’ করতে হচ্ছে পুরুষজাতিকে। দুবারের লকডাউনের পরে; আর ‘সহে না যাতনা’

পাক অধিকৃত কাশ্মীরটাও ভারতের, আবহাওয়া রিপোর্ট প্রকাশ মোদী সরকারের

আর যাদের ঘরে বসেও ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছে; তাদের তো প্রায় ‘সম্পত্তি-সমর্পণ’ কেস। শুধু প্রতি ‘রবিবার’ শপিং এর ঝামেলা নেই বলে; ট্যাঁকের ‘কড়ি ও কোমল’ কিছুটা সুরক্ষিত থাকছে। তার বদলে সকাল-সন্ধ্যে অবশ্য; ‘গিন্নী’-র ‘গীতাঞ্জলি’ পড়া শুনতেই হচ্ছে।

বিশ্বের সব নেতার তুলনায় এগিয়ে আছেন মোদী, প্রশংসায় অমর্ত্য সেন

তবু আমরা যারা সামাজিক ‘ব্যবধান’ বজায় রেখে; সবকিছুর সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ বন্ধ করে আছি; কাজ বলতে রোজ ‘জীবিত ও মৃত’-র সংখ্যা দেখছি; আমরা কিছুটা হয়ত ভালো আছি। কিন্তু ‘সমাজ’ এর যারা ‘প্রান্তিক’ মানুষ; তাদের তো রোজ ‘ঘরে-বাইরে’ করতে হচ্ছে। তাদের আজ সত্যিই ‘নৌকাডুবি’ অবস্থা। রোজ শুনি কত মানুষ; ‘রোগশয্যা’-য় শুয়ে জীবনের ‘সমাপ্তি’ ঘোষণার অপেক্ষায় আছে মাত্র।

গঙ্গা জলে কি সারবে করোনা, গবেষণায় মোদী সরকার

সারা পৃথিবীর তাবড়-তাবড় ‘ল্যাবরেটরি’ চেষ্টা করছে; ওষুধ বার করতে। মোবাইলে ‘আরোগ্য’-সেতু অ্যাপ; ডাউনলোড করেছি আমরা। ‘বড়ো আশা করে’ বসে আছি যে; এই ‘আপদ’ যেমন ‘অতিথি’-র মতো একদিন এসেছিল; তেমনই দ্রুত বিদায় নেবে। কিন্তু সেই আশা ‘দুরাশা’ মাত্র।

একবার ভেবে দেখুন তো; এটাই কি ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ নয় ? পৃথিবী আজ ‘ক্ষুধিত পাষাণ’। উন্নতির নামে যেভাবে ‘আমরা সবাই রাজা’ ধরে নিয়ে; রোজ প্রকৃতি ধ্বংস করেছি; এই বিপর্যয় কি তারই ‘শাস্তি’ নয় ? এ তো আমাদেরই ‘কর্মফল’। আমাদেরই ‘দেনাপাওনা’। একটা ‘শোধ-বোধ’; একটা ‘প্রায়শ্চিত্ত’ হয়তো দরকার ছিল। ‘ঋণশোধ’ তো করতেই হত; সবই আসলে ‘মায়ার খেলা’

রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে চালাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গান, নির্দেশ পুলিশকে

প্রকৃতির আজ আনন্দের কথা; মানুষের আজ ‘দর্পহরণ’ হয়েছে। পরিবেশ এখন অনেক বেশি নির্মল। ‘মেঘ ও রৌদ্র’ আবার খেলা করছে। ‘শেষরক্ষা’ নিশ্চয়ই হবে। এই ‘অচলায়তন’ থেকে; ‘নিষ্কৃতি” ঘটবেই। মানব জীবন আবার; ‘মুক্তধারা’-য় বইবে। আবার আসবে সেই মুহূর্ত; সেই পরিবেশ, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ হবে। আর ‘চিরকুমার সভা-র সদস্যরা আবার একদিন; ‘শুভদৃষ্টি’ বিনিময় করবে ‘প্রতিবেশিনী’-র সাথে। ‘সানাই’ বাজবে; হবে ‘মাল্যদান’

‘পুনশ্চ’; ২৫শে বৈশাখের প্রাক্কালে; কবিগুরুর ‘জন্মদিনে’; তাঁরই ‘কথা ও কাহিনী’ দিয়ে গাঁথলাম এই মালাখানি। বাড়িতে থাকবেন; ভালো থাকবেন; সুস্থ থাকবেন সকলে। রচয়িতার নাম; জিৎ গুহ ঠাকুরতা

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন