‘এগিয়ে বাংলা’, করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে ‘কাজে লাগিয়ে’ চমকে দিল স্বামী

1888
'এগিয়ে বাংলা', করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে 'কাজে লাগিয়ে' চমকে দিল স্বামী(প্রতীকী ছবি)
'এগিয়ে বাংলা', করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে 'কাজে লাগিয়ে' চমকে দিল স্বামী(প্রতীকী ছবি)

এগিয়ে বাংলা, করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে; ‘কাজে লাগিয়ে’ চমকে দিল স্বামী। এও সম্ভব! স্ত্রী করোনা আক্রান্ত। আর তাঁকে কাজে লাগিয়ে; কাজ উদ্ধারের চেষ্টা স্বামীর! করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে; টাকা আদায় করার জন্য ব্যবহার করলেন তারই স্বামী। পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে, কোভিড পজিটিভ স্ত্রীকেই; এক ইটভাটার মালিকের বাড়িতে টানা দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখে দিলেন পাওনাদার! ঘটনায় শোরগোল পরে গেছে; গোটা রাজ্যে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে; বৈদ্যবাটির শুভতলা এলাকায়।

জানা গেছে, বৈদ্যবাটি কাজীপাড়ার বাসিন্দা; গঙ্গারাম সরকার ইটের কারবারী। ব্যবসায়িক সূত্রে শুভতলার ইটভাটার মালিক শেষনাথ সিংকে; ইটের কারবারের জন্যই, পাঁচ লক্ষ টাকা কয়েক মাস আগে দিয়েছিলেন গঙ্গারাম। বিনিময়ে শেষনাথ তাঁকে কোনও ইট তো দেননি; উলটে টাকা শোধের কথা বললে নানা অছিলায় ঘুরিয়ে যাচ্ছিলেন।

এরমধ্যেই করোনা আক্রান্ত হন; গঙ্গারাম সরকারের স্ত্রী। শেষনাথের হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর স্ত্রীর করোনা রিপোর্ট পাঠিয়ে; চিকিৎসার জন্য টাকা ফেরত চান গঙ্গারাম। শেষনাথ তাঁকে একটি লক্ষাধিক টাকার; চেক দেন। কিন্তু সেই টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলতে গিয়ে; গঙ্গারাম জানতে পারেন, শেসনাথের অ্যাকাউন্টে অত টাকাই নেই। এরপরই গঙ্গারাম বুধবার তাঁর করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে নিয়ে; সোজা হাজির হন বৈদ্যবাটি শুভতলায় শেষনাথের বাড়িতে।

আরও পড়ুনঃ মানবসেবা করতে নেমে, মানুষের ফোনে দু-দিনেই তিতিবিরক্ত তারকারা

আক্রান্ত স্ত্রীকে শেষনাথের বাড়িতে; টানা দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন গঙ্গারাম। পরে অবশ্য শেষনাথ তাঁকে দশ হাজার টাকা দিলে; গঙ্গারাম স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শেষনাথ সিং টাকা ধার নেওয়ার কথা, স্বীকার করে নিয়ে বলেন; গত কয়েক মাস ধরে ভাটা বন্ধ। কোনও রোজগার নেই। তিনি গঙ্গারামকে চেক দিয়ে বলেছিলেন; দু-দিন বাদে ব্যাঙ্কে জমা দিতে। তার আগেই তিনি; চেক জমা করেছেন।

তবে যেভাবে করোনা আক্রান্ত স্ত্রীকে বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন; তাতে ইট ভাটা সংলগ্ন এলাকার পরিবারগুলো; আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে এই এলাকা স্যানিটাইজ করার দাবি উঠেছে। শেষনাথ মৌখিকভাবে মহকুমাশাসক ও শ্রীরামপুর থানায়; বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে, থানায়; লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে গঙ্গারাম বলেছেন; “স্ত্রীর করোনা চিকিৎসার টাকা নেই; স্ত্রীর করোনা হয়েছে; এটা প্রমাণ করে নিজের পাওনা টাকা নিতে গিয়েছিলাম”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন