চেনা প্রতিবেশি আজ ‘অচ্ছুৎ’, বাড়ির পাশে রাস্তায় পরে চাদরে ঢাকা করোনা রোগীর দেহ

2265
চেনা প্রতিবেশি আজ 'অচ্ছুৎ', বাড়ির পাশে রাস্তায় পরে চাদরে ঢাকা করোনা রোগীর দেহ
চেনা প্রতিবেশি আজ 'অচ্ছুৎ', বাড়ির পাশে রাস্তায় পরে চাদরে ঢাকা করোনা রোগীর দেহ

চেনা প্রতিবেশি আজ ‘অচ্ছুৎ’! বাড়ির পাশে রাস্তায় পরে; চাদরে ঢাকা করোনা রোগীর দেহ। বাংলার বউকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে; জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দোলপাড়া এলাকায়। জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগেই; বাড়ির বড় ছেলের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপর থেকে গৃহবন্দি; সেই ছেলে। তাঁর বাবা বয়স্ক ছিলেন। বুধবার তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা; প্রবল হয়। আর রাতেই মৃত্যু হয় বাবার। প্রতিবেশিরা সন্দেহ করছেন; বয়স্ক মানুষটি করোনা-তেই মারা গেছেন। আর এই ভয়েই এগিয়ে আসেননি; কোন প্রতিবেশি।

আরও পড়ুনঃ ‘ভ্যাকসিন নিয়ে দায় এড়াচ্ছেন মমতা’, মোদীকে লেখা দুটি চিঠি প্রকাশ্যে আনল বিজেপি

এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত, মৃতদেহ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশেই; সাদা চাদরে মুড়ে রাখা ছিল। আর তাতেই আতঙ্কিত এলাকাবাসীরা। বাড়ির পাশে সাদা চাদরে মোড়া মৃতদেহ। কিন্তু কাছে ঘেঁষছেন না কেউই। বাড়ির সামনের রাস্তার এক পাশে; ফেলা রাখা রয়েছে বৃদ্ধের মৃতদেহ। বাড়ির মহিলারা কোনওক্রমে; শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। না, প্রতিবেশিরা কেউ দেখতেও আসেননি ভয়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনার স্বাক্ষী; জলপাইগুড়ির জেলার ধূপগুড়ির; ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দোলপাড়া।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ‘করোনা ভ্যাকসিন শিল্প’, মোদীকে জমি দিতে চান মমতা

এইভাবে চেনা প্রতিবেশি আজ ‘অচ্ছুৎ’, হয়ে যাবেন; ভাবতে পারেননি কেউই। অভিযোগ, এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ফোন করা হলেও; তিনি যাননি এলাকায়। যোগাযোগ করা হয়; ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গেও। সেখান থেকেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান; ধূপগুড়ি টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবদুলাল ঘোষ ও ডিওয়াইএফআই নেতা নির্মাল্য ভট্টাচার্য। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায়; যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। তবে মৃতদেহ কীভাবে সৎকার করা হবে; তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুনঃ ‘পরিকাঠামোর উন্নয়ন করুন’, ফিরহাদকে ২লাখ টাকা ফেরালেন ঋষভের পরিবার

জীবিত অবস্থায় বৃদ্ধের করোনা টেস্ট হয়নি। মৃতদেহেরও করোনা টেস্ট হয়নি। শ্বাসকষ্ট সমস্যাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আর বাড়ির বড় ছেলে করোনা আক্রান্ত। তাই প্রতিবেশীরা ধরেই নিয়েছেন; বৃদ্ধও মারা গেছেন; করোনা আক্রান্ত হয়ে। যার সম্ভাবনা অনেকটাই। কিন্তু এভাবে প্রতিবেশীরা এড়িয়ে যাবেন; ভাবতেই পারেনি এই পরিবার। গোটা বাংলার অনেক এলাকাতেই; এটাই এখন স্বাভাবিক চিত্র। করোনাই কি একমাত্র কারণ? না কি পরিস্থিতি; বদলে দিয়েছে বাঙালিকে? উঠে গেছে প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন