চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, নার্স পালালে ঘুম ভাঙে স্বাস্থ্য ভবনের

4673
করোনা বিপদের মাঝে, বাংলা থেকে নার্স তুলে নিচ্ছে কয়েকটি রাজ্য
করোনা বিপদের মাঝে, বাংলা থেকে নার্স তুলে নিচ্ছে কয়েকটি রাজ্য

“চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে”; আর নার্স পালালে ঘুম ভাঙে স্বাস্থ্য ভবনের। এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ। কয়েকদিন ধরেই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিতর্কের পর দেখা গেছে; এই রাজ্য থেকে কতজন পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে আছেন; তার কোন হিসাব নেই রাজ্য সরকারের কাছে। এবার, রাজ্যের একের পর এক বেসরকারি হাসপাতালের নার্স; চাকরি ছেড়ে নিজের রাজ্যের হাসপাতালে ফিরে যাওয়ায়; টনক নড়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে কতজন নার্স কাজ করেন; তাঁদের মধ্যে কতজন ভিন রাজ্যের; তার কোন হিসাবই নেই স্বাস্থ্য ভবনের কাছে। শনিবার, রাজ্যের সব বেসরকারি হাসপাতালে চিঠি দিয়ে; নার্স ও বিশেষ করে ভিন রাজ্যের নার্স নিয়ে জানতে চাইল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

করোনা বিপদে, বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া সঙ্কট

করোনা বিপদে, বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া সঙ্কট (প্রতীকী ছবি)
করোনা বিপদে, বাংলায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নয়া সঙ্কট (প্রতীকী ছবি)

করোনা আবহে নতুন সঙ্কটে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা। বাংলায় কর্মরত ১৮৫ নার্সকে ফিরিয়ে নিল মণিপুর। চাকরি ছেড়ে নিজের রাজ্যের পাঠানো বাসে করে; এখন ইম্ফলের পথে ১৮৫ জন নার্স। সমস্যায় পরে গেছে; কলকাতার বহু বেসরকারি হাসপাতাল। এখানেই শেষ নয়। ভিন রাজ্যের নার্সদের; এ রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার স্রোত অব্যাহত। ফের রাজ্য ছাড়লেন ১৬৯ জন নার্স। যারা কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন; তারা রাজ্য ছেড়ে চলে গেলেন। চলে যাওয়ার নার্সদের ১৫০ জন; ত্রিপুরা মনিপুর এবং মিজোরামের বাসিন্দা। বাকিদের বাড়ি ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ড।

মমতাকে কিম জং উন এর সঙ্গে তুলনা করলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং

এরপরেই, রাজ্য ছেড়ে নার্সদের একের পর এক চলে যাওয়ার ঘটনায়; নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য ভবন। উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য ভবন শনিবার রাতের মধ্যেই; একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালকে। নার্স সংক্রান্ত একাধিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে; সেই চিঠিতে।

পিছু হটলেন মুখ্যমন্ত্রী, অশোক ভট্টাচার্যর যুক্তি মেনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সংশ্লিষ্ট সেই হাসপাতালে মোট কতজন নার্স কাজ করেন; তাঁদের মধ্যে কতজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে; কতজন অন্য রাজ্যের; কোন কোন রাজ্যের কত বাসিন্দা এখানে নার্সিং কাজ করেন; ইত্যাদি জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। নির্দেশদেওয়া হয়েছে, আজ অর্থাৎ রবিবার দুপুর ১২ টার মধ্যে; যাবতীয় তথ্য স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে হবে; সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে।

মমতা বলছেন, বাসভাড়া ঠিক করবে বাসমালিক; শুভেন্দু বলছেন, বাস ভাড়া বাড়ছে না

রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক বলেন; “গোটা বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে হঠাৎ করে; যাঁরা এখানে চাকরি করতেন, তাঁরা নিজেদের রাজ্যে বাড়তি সুবিধা; এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ডেকে পাঠানোয় তারা সে রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন। এটা শহর এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতলে পক্ষে; সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। তাই আমরা কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছি”।

স্বভাব যাবে কোথায়, করোনা উড়িয়ে বাসে ভিড়

এই বিষয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে আধিকারিক বলেন; “আমরা এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে; আবেদন জানিয়েছিলাম। তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। স্বাস্থ্য ভবন প্রত্যেকটি হাসপাতালকে; শনিবার রাতে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে একটি বয়ান অর্থাৎ ফর্ম। সেটি পূরণ করে, রবিবার দুপুরের মধ্যে; স্বাস্থ্য ভবন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে”। আর মানুষ বলছেন; “চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে; আর নার্স পালালে ঘুম ভাঙে স্বাস্থ্য ভবনের”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন