বিল মেটাতে না পারার ‘শাস্তি’, করোনায় মৃতার দেহ আটকে রাখল বাংলার হাসপাতাল

2281
বিল মেটাতে না পারার ‘শাস্তি’, করোনায় মৃতের দেহ আটকে রাখল বাংলার হাসপাতাল (প্রতীকী ছবি)
বিল মেটাতে না পারার ‘শাস্তি’, করোনায় মৃতের দেহ আটকে রাখল বাংলার হাসপাতাল (প্রতীকী ছবি)

বিল মেটাতে না পারার ‘শাস্তি’; করোনায় মৃতার দেহ আটকে রাখল বাংলার হাসপাতাল। বারবার সাবধান করেছেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার সতর্ক করা হয়েছে; রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর দেখে। কিন্তু তারপরেও শোধরাচ্ছে না; বাংলার কিছু হাসপাতাল। এবার করোনায় মৃতের পরিবার, বিল মেটাতে না পারায়; ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও; করোনায় মৃতের দেহ ছাড়ল না দুর্গাপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতাল। সেই সঙ্গে সরকারি নির্দেশ মেনে; সরকারি পোর্টালেও তুলল না মৃতার নামও। বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে; অভিযোগ জমা পরেছে রাজ্য প্রশাসনের কাছে।

গত ১২ মে করোনা আক্রান্ত হওয়ায়; দুরগাপুরের কাঁকসার বামুনাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন; বাঁকুড়ার সোনামুখির বাসিন্দা উমারানী বারুই। গতকাল ৩১ মে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; ৯ লক্ষ টাকার একটি বিল ধরায় উমারানীর পরিবারকে। এই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায়; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায়; সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় রফা করে পরিবার। সেই টাকা দিয়েও দেয় পরিবার।

আরও পড়ুনঃ ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া শুরু, মোদী সরকারের শো-কজ নোটিশ এল আলাপনের কাছে

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এত টাকা মেটানোর পরেও; দেহ আনতে গেলে হাসপাতাল নানা টালবাহানা করে। মঙ্গলবার সকালে; হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেই মতো এদিন সকালে গেলে জানানো হয়; কোন ছাড় দেওয়া যাবে না; পুরো টাকা না পেলে মৃতদেহ ছাড়া হবে না। এরপরই মায়ের মৃতদেহের দাবিতে, ছেলে অতনু বারুই; স্থানীয় মলানদিঘি ফাঁড়ি ও দুর্গাপুর মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হন।

আরও পড়ুনঃ সত্য বলায় দময়ন্তী সেনকে বদলি করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

সেই সময়ই মৃতার পরিবার জানতে পারে; সরকারি পোর্টালে ওই মহিলার মৃত্যুর কোনও তথ্যই নেই। অথচ সরকারি নিয়মমাফিক করোনায় মৃত্যু হলে; সঙ্গে সঙ্গে সরকারি পোর্টালে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই; মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে প্রশাসন।

মৃতার ছেলে অতনুবাবুর অভিযোগ; “পুরো টাকা পায়নি বলে; হাসপাতাল মৃত্যুর ঘটনা চেপে যাচ্ছে। মৃত্যুর পর চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও; চরম হয়রানি করছে আমাদের”। দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অর্ঘ্য প্রসূন কাজী বলেন; “একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে”। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে; কোনও কথা বলতে চায়নি। ঘটনায় শোরগোল পরে গেছে রাজ্যে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন