অন্ধকারে বাংলা, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক বিল নিয়েও চরম ব্যর্থ CESC

1359
অন্ধকারে বাংলা, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক বিল নিয়েও চরম ব্যর্থ CESC
অন্ধকারে বাংলা, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক বিল নিয়েও চরম ব্যর্থ CESC

অন্ধকারে বাংলা। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে দমদম থেকে টালিগঞ্জ; বেহালা থেকে বজবজ থেকে সোনারপুর হয়ে ব্যারাকপুর; এখনও অন্ধকারে অনেক অঞ্চল। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়েও; চরম ব্যর্থ CESC। ব্যর্থ রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরও। চন্দননগর থেকে বরানগর; পাটুলি থেকে টালা; বহু জায়গাতেই এখনও ফেরে নি বিদ্যুৎ। যাদবপুর, গড়িয়া, লেক গার্ডেনস, নাকতলা; গোটা কলকাতার অধিকাংশ এলাকা এখন অন্ধকারে। বিরক্ত বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এদিন দেকে পাঠান; CESC অফিসারদের। বিভিন্ন অজুহাত দেখাবার চেষ্টা করলে; CESC অফিসারদের রীতিমতো ধমক দেন মন্ত্রী।

রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না, বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে

ধ্বংসলীলা চালিয়ে চলে গেছে; ঘূর্ণিঝড় আমফান। কিন্তু তার রেশ এখনও হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন; কলকাতা ও বেশ কয়েকটি জেলার বাসিন্দারা। সেই যে আমফানের সময় চলে গিয়েছে বিদ্যুৎ; তা এখনও পর্যন্ত ফিরে আসেনি। বিভীষিকার এত ঘন্টা পরেও; শহর কলকাতার বহু অঞ্চলে ফেরেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। আর তার জেরেই; শুক্রবার কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়া গাছ ফেলে; চলল রাস্তা অবরোধ। কবে ফিরবে ইলেকট্রিক; কেউ জানে না।

দরাজ প্রধানমন্ত্রী মোদী, ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ

দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিলে; সবচেয়ে বেশি টাকা নেয় সিইএসই। সেই CESC এখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এখনও বহু জায়গায় পৌঁছতেই পারেন না CESC বিদ্যুৎকর্মীরা। যেখানে যেখানে বিক্ষোভ হয়েছে; অফিসে তালা মেরে কেটে পড়েছেন; CESC কর্মীরা। কেন বেশি টাকা নিয়েও; আমফান আবহে ব্যর্থ CESC ? গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলেকট্রিক বিল নেয় CESC; প্রমাণ দেখিয়ে এমন অভিযোগ রয়েছে মানুষের। সেই CESC এখন সম্পূর্ণ উদাসিন; অভিযোগ মানুষের।

মমতার হাতে টাকা দেবেন না, একই দাবি মমতা করেছিলেন বামেদের বিরুদ্ধে

বেহালার বিভিন্ন এলাকায় এদিন সকাল থেকে; শুরু হয় রাস্তা অবরোধ। দীর্ঘ ৪০ ঘন্টা হয়ে গেলেও বেহালা ঠাকুরপুকুর এলাকার; বিভিন্ন জায়গা বিদ্যুৎ বিহীন। স্থানীয়দের ক্ষোভ চলে আসে রাস্তায়। অভিযোগ, সিইএসই কোনরকম ভাবে; সাহায্য করছে না। অনেকের বাড়িতে শিশু ও অসুস্থ মানুষজন রয়েছেন। তাঁরাও ভেবে পাচ্ছেন না, কী করবেন। রাজা রামমোহন রায় রোড ও বেহালা শ্রীসংহ রোড; অবরোধ করে স্থানীয় মানুষজন।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীকে, কানে কানে কথা রাজ্যপালের সঙ্গে

বেহালা থেকে টালিগঞ্জ; গড়িয়া থেকে যাদবপুর; শুধু দক্ষিণ নয়, উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গাতেও একই ছবি ফুটে উঠছে। এ দিন জল এবং বিদ্যুতের দাবিতে টালিগঞ্জ সার্কুলার রোড; অবরোধ করেন সেখানকার বাসিন্দারা। এছাড়াও নেতাজি নগর, আজাদগড়, রানীকুঠি, বিজয়গড়, কুঁদঘাট ও ইএম বাইপাস সংলগ্ন; বেশ কিছু এলাকায় অবরোধ চলতে থাকে।

আমফানের পর আসবে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ, তারপর গতি ও নিভার

যদিও বিদ্যুৎ সংস্থার দাবি; “এত বিপুল বিপর্যয়ের মোকাবিলা করা; এত দ্রুত কঠিন হয়ে উঠছে। সিইএসই-র কর্মীরা দিনরাত কাজ চালাচ্ছেন; যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার। কিন্তু বিপর্যয়ের পরিমাণ এত বিপুল যে; সময় লাগছে”। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁদের আহ্বান; “দয়া করে একটু ধৈর্য ধরুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব; আপনাদের প্রত্যেক এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হবে”।

মমতা পাশে আছে দাবি করে হিন্দু মেয়েদের নিয়ে কদর্য পোস্ট

যাদবপুরের বিভিন্ন জায়গায়; বিজয়গড়, বাঘাযতীন এলাকাতেও একই অবস্থা। শহর যেন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে; অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ভবানীপুরের রমেশ মিত্র মোড, গঙ্গাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, যোগেশ মিত্র রোড; গাছ পড়ে রাস্তা আটকে রয়েছে। একইভাবে শরৎ বোস রোড, মিন্টো পার্কের কাছে রাস্তা আটকে যাওয়ায়; দক্ষিণ কলকাতা থেকে ধর্মতলাগামী বিভিন্ন রাস্তায় যানজট তৈরি হয়।

এজেসি বোস রোডের উপর রিপন স্ট্রিট; জোড়া গির্জার কাছে পর পর ছটি গাছ পড়ে রাস্তার এক দিক বন্ধ। এসএন ব্যানার্জি রোডে; এখনও পড়ে রয়েছে বিশালাকার গাছ। তা এখনও সরানো যায়নি। যার জেরে সেখান দিয়ে; চলাচল করতে পারছে না কোনও যানবাহন। আর এই গাছ পরে থাকাকেই ঢাল করেছে CESC। কবে কলকাতা ও জেলায় বিদ্যুৎ ফেরে; তার জন্যই অপেক্ষা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন