বিদ্যুৎ বিলে ঘায়েল জনতা, কেন চুপ মমতা, CESC-মমতা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল মুকুল রায়ের

2057
বিদ্যুৎ বিলে ঘায়েল জনতা, কেন চুপ মমতা, CESC-মমতা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল মুকুল রায়ের
বিদ্যুৎ বিলে ঘায়েল জনতা, কেন চুপ মমতা, CESC-মমতা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল মুকুল রায়ের

বিদ্যুৎ বিলে ঘায়েল জনতা; কেন চুপ মমতা? CESC-মমতা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল; মুকুল রায়ের। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর; CESC র ব্যর্থতা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। রাজ্যের তৎকালীন দুই মন্ত্রী, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এর পরে; CESC কে তুলধোনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। CESC সদর দফতর ভিক্টোরিয়া হাউসে; যান মমতা। এবার করোনা আবহে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে; ফের জেরবার ছিল মানুষ। কিন্তু বিধানসভা ভোটের পর যেন; ভুতুড়ে বিলের হাহাকার পরে গেছে। কেউ ছাড় পাচ্ছেন না; CESC এর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের মার থেকে। বিদ্যুৎ বিলে ঘায়েল জনতা; তবু কেন চুপ মমতা? উঠেছে প্রশ্ন।

“CESC মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে হাত মিলিয়ে; ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন মমতা”; ঠিক দুবছর আগেই এই অভিযোগ করেছিলেন; তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সারদা-রোজভ্যালি নয়; ২০১৯ এর মে মাসে, বাংলায় আরও এক বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা; সামনে এনেছিলেন তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। “বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে বাংলার উপভোক্তাদের থেকে; ১৩ হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে মমতা সরকার”; এমন বিস্ফোরক অভিযোগই করেছিলেন মুকুল রায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় এবার ‘ভুয়ো বিয়ে’ করে, মমতার রূপশ্রী প্রকল্পর লক্ষ টাকা প্রতারণা

“রাজ্য সরকারের মদতেই বাংলায় বিদ্যুতের মাশুল; লাগামছাড়া ভাবে বাড়ানো হয়েছে; যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। রাজ্য সরকার ও সিইএসসি মিলে টাকা লুঠ করেছে”; বলে অভিযোগ করেছিলেন একদা তৃণমূলের চাণক্য। মমতাকে নিশানা করে মুকুলের অভিযোগ ছিল; ‘‘এই লুঠের টাকা কে নিল? শুধুমাত্র সিইএসসি নাকি শাসকদলের কাছে গেল? নাকি কোনও ব্যক্তি বিশেষের কাছে গেল? এর তদন্ত করা হোক’’।

২০১৯ এর মে মাসে; ঠিক কী অভিযোগ করেছিলেন মুকুল রায়?
সিইএসসি (ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন)-র বিরুদ্ধে গ্রাহকদের থেকে; অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মাসুল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মুকুল রায়। তাঁর দাবি ছিল, “এর পিছনে শাসক দল; ও রাজ্য সরকারের হাত রয়েছে। গোটা বিষয়টির তদন্ত; হওয়া উচিত”। মুকুল রায় ২০১৯ এর মে মাসে; সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন; “পরিবর্তনের সরকার আসার পর থেকেই; লাগামছাড়া হারে বেড়েছে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম। আর এর মাধ্যমে সিইএসসি; গ্রাহকদের টাকা লুট করেছে।

মুকুল রায় বলেন, “৩২ হাজার গ্রাহকের প্রত্যেকের থেকে; গড়ে ৪০ হাজার টাকা করে লুট করেছে সিইএসসি। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত; মোট লুট হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা”। মুকুল রায় বলেছিলেন; “বিদ্যুতের দাম ঠিক করে; স্টেট রেগুলেটরি অথরিটি। ২০১৫ সালে সিইএসসি দাম বাড়াতে চাইলে; বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত জানিয়েছিলেন; “বিদ্যুতের দাম কমানো দরকার। কারণ, দেশের মধ্যে এই রাজ্যেই; বিদ্যুৎ সব থেকে দামী”। রেগুলেটরি অথরিটিও রাজি হয়নি। দাম নিয়ে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট চায়; সিইএসসির থেকে। এরপরেই রাজ্য সরকার; অথরিটিকে অথর্ব করে দেয়। কোনও ক্ষমতাই আর থাকে না। আর সেই সুযোগে বিদ্যুৎ মাসুল বাড়িয়ে দেয় সিইএসসি”।

মুকুল রায় বলেছিলেন; “২০১১ সালে মমতা সরকারে আসেন। ২০১১-১২ সালে বাড়ল ৩১ %; ২০১২-১৩ সালে বাড়ল ৪%; ২০১৪-১৫ সালে বাড়ল ১৭.৩৩%। এই দাম বৃদ্ধির ফলে ৩২ লক্ষ উপভোক্তার পকেট থেকে; মোট ১৩ হাজার কোটি টাকা বেরোল। এই টাকা লুঠ করল; রাজ্য সরকার ও সিইএসসি। এই লুঠের টাকা কোথায় গেল? শুধু কি সিইএসসি নিল? নাকি রাজ্য সরকারের কাছে গেল? নাকি কোনও ব্যক্তি বিশেষের কাছে গেল? এই ব্যক্তিবিশেষ কে? আমরা এর তদন্ত চাই’’।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি জঙ্গির পর, কলকাতায় গ্রেফতার কাবুলিওয়ালা ছদ্মবেশে আফগান চর

এই ব্যক্তিবিশেষ বলতে, মুকুল রায় ঠিক কাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন; সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও; বিজেপি নেতার ইঙ্গিত যে তাঁরই একসময়ের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল; তেমনটাই মনে করেছিল রাজনীতি মহল। অন্যদিকে, সিইএসসি কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা; মমতা ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি বলেই পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক সফরে; প্রায়শই দেখা যায় সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে। ফলে, মমতার পাশাপাশি গোয়েঙ্কার দিকেও; মুকুল অভিযোগের আঙুল তাক করেছিলেন বলেই মনে করেছিল সংশ্লিষ্ট মহল। এই নিয়ে জল; আদালত অব্দি গড়িয়েছিল। এখন সেই অভিযোগ শিকেয়; কারণ মুকুল রায় এখন ফের তৃণমূলে। তাঁর আর কোন অভিযোগ নেই; যতই ভুগুক মানুষ।

বিধানসভা ভোটের পর; অসংখ্য মানুষ অভিযোগ করছেন বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। ৬ গুন-৭ গুন; কারোর আবার ১০ গুন বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে বলেই অভিযোগ। সাউথ সিটির এক ভদ্রমহিলার ফ্লাটে, ১০ গুন বেশি বিল এসেছে; যেখানে তিনি গত তিনমাস থাকেনই না। এই ধরণের ভুরি ভুরি অভিযোগেও; চুপ রাজ্য প্রশাসন। এবার এই পরিস্থিতিতে ফের উঠে এসেছে; মুকুল রায়ের সেই অভিযোগ। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধি নিয়ে হইচই আছে; বিদ্যুতের বিল নিয়ে কিন্তু বাংলায় কোন আলোচনাই নেই।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন