খেলা শেষ, বাংলার মহিলা দলের গোলরক্ষক আজ ‘ফ্লিপকার্ট ডেলিভারি গার্ল’

3512
খেলা শেষ, বাংলার মহিলা দলের গোলরক্ষক আজ ‘ফ্লিপকার্ট ডেলিভারি গার্ল’/The News বাংলা
খেলা শেষ, বাংলার মহিলা দলের গোলরক্ষক আজ ‘ফ্লিপকার্ট ডেলিভারি গার্ল’/The News বাংলা

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ গল্প হলেও সত্যি! ঘাড়ে করে ছয়তলায় ফ্রিজ বয়ে নিয়ে উঠছেন; ইস্টবেঙ্গলের ও বাংলার মহিলা গোলরক্ষক। ‘ফ্লিপকার্ট ডেলিভারি গার্ল’। কথাটা শুনে কিছুটা খটকা লাগে। কারণ এই পেশায় সাধারণত; ছেলেদেরই দেখা মেলে। এই অনলাইন বিপণনী সংস্থার; ডেলিভারির দুটি অংশ। প্রথমটি মোবাইল, টি-শার্ট ইত্যাদি হালকা ‘প্রোডাক্ট’; ডেলিভারি করার জন্য। সাধারণত বাইক, স্কুটি বা সাইকেলেই; বাড়িতে বাড়িতে ডেলিভারি করেন এই বিপণনী সংস্থার কর্মীরা। তাদের সিংহভাগই পুরুষ। তবে মহিলারাও; এই কাজ করে থাকেন। এবার আসা যাক ডেলিভারির দ্বিতীয় অংশে। এটি মূলত ভারী জিনিসের জন্য। ছোট ম্যাটাডোরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়; ক্রেতার বাড়িতে। তারপর সংস্থার কর্মী এবং গাড়ির চালক মিলে; সেই ভারী আসবাব, ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিন; পৌঁছে দেন ক্রেতার ঘরে। এই অংশে শুধুমাত্র; ছেলেরাই কাজ করেন। কারণ অনেকটা ওজন নিয়ে; উঠতে হয় কখনও দোতলায়, কখনও তিনতলায় বা কখনও আরও উপরে। পেটের টানে ঠিক সেই কাজটাই করছেন; মহিলা ফুটবলার মহিমা খাতুন।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করলেই এফআইআর নয়, কলকাতা পুলিশকে ধমক দিল সুপ্রিম কোর্ট

এখানেই সবার থেকে আলাদা মহিমা খাতুন। হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের, বছর চব্বিশের এই যুবতী; ফ্লিপকার্টের ভারী ‘প্রোডাক্ট’ ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আরও একটা পরিচয়; তিনি ইস্টবেঙ্গল মহিলা দলের গোলরক্ষক। লকডাউনে খেলাধুলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। আর্থিক সমস্যাও ছিল সংসারে। মহিমা ভীষণভাবে চাইছিলেন; নিজেই কিছু রোজগার করতে। তিনি বলছিলেন, “প্রথমে কাজ শুরু করেছিলাম; ফ্লিপকার্ট অফিসে। কিন্তু একটানা অফিসে বসে; কাজ করতে ভালো লাগল না। তাই ওদের অনুরোধ করি; আমাকে ডেলিভারি করতে পাঠাতে”।

ভারী প্রোডাক্ট ডেলিভারিতে সারা ভারতে; আর কোনও মেয়ে কাজ করে কিনা কেউ জানে না। তাঁকে একটা ছোট ম্যাটাডোর দেওয়া হয়েছে। টিভি বা তুলনামূলক হালকা কিছু ডেলিভারি থাকলে; সে একাই পৌঁছে দেয় ক্রেতার ঘরে। কিন্তু ওয়াশিং মেশিন বা ফ্রিজের মত ভারী কিছুর সময়; সে সাহায্য নেয় গাড়ি চালকের। এমনও হয়েছে, ফ্রিজ বয়ে নিয়ে গিয়ে ছ’তলায় পৌঁছে দিয়ে এসেছে সে।

আরও পড়ুনঃ করোনা আ’ক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহে দুই বিডিও-র মৃত্যু, রাজ্যের সব বিডিওর লিস্ট চেয়ে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

বাড়িতে বয়স্ক মা এবং দিদি। মহিমা ইস্টবেঙ্গলের খেলার পাশাপাশি; একটি কোচিং সেন্টারে ফুটবল শেখাতেন। কিন্তু লকডাউনে সেটাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায়; কোনও আয় ছিল না তাঁর। তাই বেছে নিয়েছেন এই পেশা। ভারী জিনিস বয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময়; যে কোনও মুহূর্তে চোট লাগতে পারে। মহিমা বলেছেন; “আমি একজন ফুটবলার। চোট লাগার ভয় আমি পাই না। এমনও দিন গেছে, একই দিনে গোটা হাওড়া জেলায়; ২৩টা লার্জ প্রোডাক্ট ডেলিভারি করেছি। সব মিলিয়ে কাজটা আমি উপভোগ করছি”।

সাই থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার; খেলেছেন বাংলা দলের হয়েও। এই রাজ্যে এবং ভিন রাজ্যে; বহু ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। সবুজ মাঠে তিনি যে কোনও মূল্যে; দুর্গ রক্ষা করেন। আর মাঠের বাইরে ঝুঁকি নিয়েই; ‘টার্গেট ফুলফিল’ করেন মহিমা খাতুন। জীবনের লড়াইটা যে, ফুটবল মাঠের চেয়েও অনেক শক্ত।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন