মদ খাওয়া নিয়ে বাঙালিদের ৮টি ভুল ধারণা, এখনই শুধরে নেওয়া দরকার

337
মদ খাওয়া নিয়ে বাঙালিদের ৮টি ভুল ধারণা, এখনই শুধরে নেওয়া দরকার/The News বাংলা
মদ খাওয়া নিয়ে বাঙালিদের ৮টি ভুল ধারণা, এখনই শুধরে নেওয়া দরকার/The News বাংলা

মদ খাওয়া যেমন বাঙালির এক প্রিয় নেশা; তেমনই এই নেশা সম্পর্কে; হাজারটা ভুল ধারণাও বাঙালির রয়েছে। সেরকমই ৮টি ভুল ধারণার উল্লেখ রইল এখানে। মদ খাওয়া নিয়ে বাঙালিদের ৮টি ভুল ধারণা; এখনই শুধরে নেওয়া দরকার। আর পরিমিত মদ খেতে; উৎসাহিত করেন ডাক্তাররাই। তাই ভুল ধারণা থেকে; বেরিয়ে এসে মদ্যপান করুন। এখনই জেনে নিন ভাল ও খারাপের দিকগুলি। তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।

১; মদ খেলে নাকি মস্তিস্কের কোষ নষ্ট হয়ে যায়: মদের প্রভাবে মস্তিস্কের কোষ নষ্ট হয়ে যায়; এটা বাড়াবাড়ি রকমের অতিরঞ্জিত ধারণা। মস্তিস্কে যে ডেন্ট্রাইট নামক বস্তুটি থাকে; যার কাজ হল মস্তিস্ক থেকে শরীরে বৈদ্যুতিক বার্তা প্রেরণ করা; তার সামান্য ক্ষতি মদের কারণে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অত্যধিক মদ্যপানের সঙ্গে; যদি সেরকম পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া হয়; তাহলে স্মৃতি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু মস্তিস্কের কোষ এর দ্বারা কোনরকমেই; প্রভাবিত হয় না।

২; মদ খাওয়ার আগে পেট ভরে খেয়ে নেওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যেস: মদ খাওয়ার পর পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রে সেই মদ শোষিত হয়। খাবার খেলে শরীরে মদ শোষণের সেই প্রক্রিয়াটি; একটু মন্দীভূত হয় ঠিকই; কিন্তু খাবার হজম যাওয়ার পরেই; মদের ক্রিয়া শুরু হয়ে যায় শরীরে। ফলে খাবার খেয়ে মদ খাওয়ার অর্থ; মাতাল হওয়ার অনুভূতিটিকে; একটু পিছিয়ে দেওয়া মাত্র। খালি পেটে মদ খাওয়া ভাল অভ্যেস নয়; তবে ভরা পেটে মদ খাওয়াও একইরকম অস্বাস্থ্যকর অভ্যেস।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষক দিবসে বাংলার কিশোরী দেখিয়ে দিল শিক্ষকের আসল রূপ

৩; বমি করলে মদের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়: মদ্যপানের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা রক্তে মিশে যায়। আর বমি করলে রক্তে মিশে যাওয়া মদ; শরীর থেকে আদৌ বেরোয় না। কাজেই বমি করলে; মদের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

৪; অল্প বয়সে মদ খাওয়া শুরু করলে শরীরের আলাদা কোনও ক্ষতি হয় না: সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে; যাঁরা যত বেশি বয়সে প্রথমবার মদ খান; তাঁদের মদে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তত কম। কাজেই অল্প বয়সে মদ না খেলে; শরীর কিছু‌টা তো উপকৃত হয়ই।

আরও পড়ুনঃ মমতার শিক্ষারত্ন, মঙ্গলবার তৃণমূলে যোগ দিয়েই বুধবার বাংলার শিক্ষারত্ন ওমপ্রকাশ

৫; গাঢ় রঙের মদ শরীরের ক্ষতি করে কম: বিয়ার; ওয়াইন; রাম প্রভৃতি গাঢ় রঙের মদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে ঠিকই; কিন্তু এইসব মদে কোগেনার নামের এক ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকও বেশি পরিমাণে থাকে। ফলে শরীরের পক্ষে এই ধরনের মদ ভাল; এমনটা নয়।

৬; বিয়ার খেলে নেশা হয় কম: ভারতে বিয়ারে সাধারণত অ্যালকোহলের পরিমাণ থাকে ৮ শতাংশ। আর হুইস্কিতে সেই পরিমাণ ১০ শতাংশ। কাজেই বিয়ার অ্যালকোহলের পরিমাপে; হুইস্কির থেকে খুব পিছিয়ে রয়েছে; এমনটা নয়। আর যে কোনও মদই কতটা নেশার কারণ হবে তা নির্ভর করে; কী পরিমাণ মদ আপনি পান করছেন তার উপরে।

৭; মদ খেলে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: একেবারেই ভুল ধারণা। বরং মনস্তাত্ত্বিকরা বলেন; মদ খেলে মানসিক ও শারীরিক শিথিলতার কারণে; যৌন আনন্দলাভের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

৮; ভদকা খেলে নাকি যৌন ক্ষমতা ক্মে জায়ঃ এটাও একটা ভুল ধারণা। তবে দীর্ঘদিন ধরে বেশি মাত্রায়; যে কোন মদ খেলেই যৌন শিথিলতা আসতে পারে। তবে নিয়মমত পরিমাপে মদ খেলে; শরীর স্বাভাবিক থাকবে; বলেই মত সমীক্ষায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন