প্রতিদিন দুপুর ১টায় গভীর সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠেন বাবা মহাদেব

155
প্রতিদিন দুপুর ১টায় গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠেন মহাদেব/The News বাংলা
প্রতিদিন দুপুর ১টায় গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠেন মহাদেব/The News বাংলা

ভারতবর্ষের প্রায় প্রতি রাজ্যেই লুকনো আছে আশ্চর্য এমন অনেক কিছু যা হয়তো গোটা বিশ্বের কোথাও নেই। কিন্তু সেই সব আশ্চর্য ঘটনা অনেকেরই অজানা। তেমনি এক আশ্চর্য জায়গা আছে ভারতের মধ্যে; যেখানে আছে মাঝ সমুদ্রে ডুবে থাকা শিব মন্দির। গুজরাত থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে; আরব সাগরের মধ্যেই রয়েছে ভগবান শিবের এই মন্দিরটি। ভাদকেশ্বের বা নিশকলঙ্গেশ্বর নামেই এই মন্দির বিখ্যাত।

লোকমুখে কথিত যে; এই মন্দিরে শিবের কাছে নাকি যা চাওয়া যায়; তাই নাকি সত্যি হয়। মন্দিরটির চারপাশ শুধু সমুদ্র আর সমুদ্র; আর তার মাঝখানে একটুখানি জমির উপর তৈরি হয়েছে এই মন্দির। কিন্তু সমুদ্রের প্রায় মাঝখানে হওয়ায়; পূর্ণাথীরা সবসময় এই মন্দিরে চাইলেই যেতে পারেন না।

আরও পড়ুনঃ বৃহস্পতিবার কি ভাবে লক্ষ্মী পুজো করলে, আপনি হতে পারেন লাখপতি

ভগবান শিবের দর্শন করতে হলে; দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে আসতে হয়। কারণ; অন্য সময় জলের তলায় থাকে এই মন্দিরের প্রবেশ পথ। কোনও এক আশ্চর্য কারণে বেলা ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মন্দিরটি সমুদ্রের উপরে আসে।

দুপুর ১টার পরে ভক্তরা মন্দিরে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করতে পারেন। জোয়ারের সময় মন্দিরটি সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। শুধুমাত্র মন্দিরের ২০ ফুট লম্বা পাথরের তৈরি থামটির উপরের অংশ ও মন্দিরের ধ্বজাটি দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা জেনে নিন সেই দেবতার গল্প

লোকমুখে প্রচারিত; এই মন্দির নাকি পান্ডবদের সময়ে তৈরি হয়েছিল। যদিও এই নিয়ে অনেক ভিন্নমতও আছে। শোনা যায়; কার্তিক এই মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারকাসুরকে হত্যাকরার পর; কার্তিকের মনে অনুশোচনা জন্ম নেয়; নিজের অনুশোচনা দূর করতে তিনি বেছে নেন পিতা শিবের আরাধনার পথ। তারপরই তিনি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই মন্দির দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে গুজরাতের দেবভুমি দ্বারকা জেলায়। এখানেই সমুদ্রের ভেতরে ১.৫ কিলোমিটার গেলে তবে দেখা পাওয়া যায় এই মন্দিরের। মন্দিরটি “মহাদেবের অদৃশ্যমন্দির” নামেও পরিচিত। কথিত আছে মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরে কৌরব ও অন্যান্যদের হত্যা করার পাপ ধুতে এখানেই পুজো দেন পঞ্চপাণ্ডব।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন