গোরু ও শুয়োরের মাংস ইস্যু নয়, প্রধান ইস্যু রাজনীতি জানালো জোম্যাটো

147
গোরু ও শুয়োরের মাংস ইস্যু নয়, প্রধান ইস্যু রাজনীতি জানালো জোম্যাটো/The News বাংলা
গোরু ও শুয়োরের মাংস ইস্যু নয়, প্রধান ইস্যু রাজনীতি জানালো জোম্যাটো/The News বাংলা

কিছুদিন ধরেই হাওড়ার জোম্যাটো কর্মীদের বিক্ষোভ চলছিল। তাদের দাবী; গোরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করতে গিয়ে; তারা নিজেদের ধর্মকে অশ্রদ্ধা করছে। তাই তারা ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়ে; কোন কাজ করতে নারাজ। বিক্ষোভ শুরু হয় আগস্টের ৩ তারিখ থেকে। তবে ঘটনাটা যে শুধুই ধর্মীয় নয়; আছে রাজনৈতিক রঙ তা বোঝা গেল ধর্মঘটের মাথাদের দেখে; মঙ্গলবার এমনটাই অভিযোগ জোম্যাটো কোম্পানির। বিজেপির ঘাড়েই এর দায় চাপিয়েছে তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা যায়; সঞ্জীব কুমার শুক্লা এবং বজরং নাথ ভার্মা নামে; দুই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে প্রথমে মিটিং হয় এই বিষয়ে। এই ব্যক্তিরাই; জোমাটো কর্মীদের গোরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলে। এমনটাই অভিযোগ জোম্যাটো কোম্পানির।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় মুখোশ খুলল জোম্যাটোর, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পেয়ে ধর্মঘটে নামলেন কর্মীরা

বজরং নাথ ভার্মা গত ১৪মাস ধরে জোম্যাটোর সাঙ্গে কাজ করছেন; এই ব্যক্তিই প্রতিবাদের প্রধান মাথা। রাজনৈতিক ভাবে; তিনি বহু বছরের বিজেপি কর্মী। তবে তিনি এই ধর্মঘটের সঙ্গে; গেরুয়া শিবিরের কোন যোগ নেই জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দীপেন্দ্র গোয়েল; ওই বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি; একদমই অস্বীকার করেছেন। জোম্যাটোর কর্ণধার জানান; খাবার, ধর্ম এবং বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁদের কিছু করার নেই। কাজের ক্ষেত্রে সকলের ব্যক্তিগত পছন্দের দিকে; নজর দেওয়া কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।

গত শনিবার শুয়োর ও গোমাংস ডেলিভারি জোর করে করানো হচ্ছে বলে; প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান হাওড়ার জোম্যাটোর রাইডাররা। তাঁদের অভিযোগ; রাইডারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুয়োর ও গোমাংস ডেলিভারি করানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের; ধর্মঘটও ডেকেছেন তাঁরা।

জোম্যাটো দাবি করেছে; ওই এলাকায় গত তিন মাসে একটাও শুয়োরের মাংসের ডেলিভারি হয়নি। গোমাংসের একটি অর্ডার আসলেও; তা পরে বাতিল করে গ্রাহক। অর্থাৎ, জোম্যাটোর দাবি অনুযায়ী গত তিন মাসে; হাওড়ার ওই এলাকার রাইডাররা শুয়োর বা গোমাংসের কোনও ডেলিভারি করেনি।

সম্প্রতি জোম্যাটোর মুসলিম ডেলিভারি বয়ের হাতে খাবার নিতে অস্বীকার করেন; অমিত শুক্ল নামে এক গ্রাহক। তিনি টুইটে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন; কেন তাঁকে টাকা রিফান্ড করা হয়নি। গ্রাহকের টুইটের জবাবে সংস্থা জানায়; খাবারের কোনও ধর্ম নেই; খাবার নিজেই ধর্ম।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন