মহারাষ্ট্রে বিজেপির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, কুপোকাত শিব সেনা ও কংগ্রেস

885
মহারাষ্ট্রে বিজেপির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, কুপোকাত শিব সেনা ও কংগ্রেস/The News বাংলা
মহারাষ্ট্রে বিজেপির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, কুপোকাত শিব সেনা ও কংগ্রেস/The News বাংলা

মহারাষ্ট্রে বিজেপির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক; কুপোকাত শিব সেনা ও কংগ্রেস। নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী; নাম হি কাফি হ্যায়। গোটা দেশ তো এখন একটাই কথা বলছে। ২০১৪-য় ছিল মোদী ম্যাজিক; আর এখন সেই গুজরাটি দাদার ক্যালমা দেখছে গোটা দেশ। যখনই কিছু করেছেন; তাতে একটা সাসপেন্স থেকেছে। তা সে নোটবাতিল হোক; বা সার্জিকাল স্ট্রাইক। দেশবাসীকে চমকে দেওয়াটা যেন অভ্যেসে পরিণত হয়েছে; ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

প্রায় ঠিকই করে নিয়েছেন, মাঝে মাঝেই ১৩০ কোটির এই বাসিন্দাদের চমকাবেন। সারপ্রাইজ আর মোদী এই শব্দ দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক। মোদীর ছত্রছায়ায় থাকতে থাকতে তার সেনাপতিও; এখন সারপ্রাইজ দেওয়া ভালই শিখে গেছেন। এখন মোদীজি মানেই নয়া কোনও সারপ্রাইজ, যা শোনার পরই নিজের কানকে বিশ্বাস করারটা দুরূহ হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ মোদীর চালে মহারাষ্ট্রে মাত শিব সেনা, পেছন থেকে ছুরি মারার অভিযোগ

ইদানীং মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে লম্বা নাটকের অন্তিমে যা ঘটল; তারপর সবকিছু ঠাহর করে উঠতে পারাটা ঠি্ক সহজ হচ্ছে না। পাকিস্তানের ওপর প্রয়োগ করবেন ঠিক আছে; তাবলে মহারাষ্ট্রে, সেখানেও ঠিক সময় মতো থাবা বসালেন। তাই শেষমেশ শিব সেনা প্রধানও মেনে নিয়েছেন; মহারাষ্ট্রের বিজেপির সরকার গঠন, মোদীর সার্জিকাল স্ট্রাইক।

জিততে জিততে একসময় জেতাটা নেশা হয়ে যায়। মোদীরও তাই হয়েছে। মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোটের ফলে দেখা যায়, প্রথমেই সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসেবে বিবেচিত হলেও; একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি গেরুয়ারা। মুখ্যমন্ত্রী কে হবে; শিবসেনার সঙ্গে কি তুলকালাম কাণ্ডটাই না বাঁধিয়েছিল বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ মহারাষ্ট্রে মহানাটক, পাশা উল্টে ক্ষমতায় এল বিজেপি

তাই প্রথমেই হাত তুলে নিয়ে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর বিজেপির এই সিদ্ধান্তে; রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেতে হয় এনসিপি ও শিবসেনাকে। দফায় দফায় বৈঠক, জোট ভাঙা গড়া, শেষে রাষ্ট্রপতি শাসন, এমন নাটকীয় মোড় যখন ঢুকে পড়েছিল মহারাষ্ট্রে; রাজনীতিতে তখন ধরি মাছ না ছুই পানি এমন অবস্থানই নিয়েছিল; আরব তিরের গেরুয়া শিবির। শুধু বল ঠেলে দিয়ে দূর থেকে খেলা দেখেছে।

আর প্রহর গুনেছে। মাঝে মাঝে মুখ টিপে হেঁসেওছে। তারপর শেষমেষ কংগ্রেস জখন রাজি হয়েছে জোট সরকার গড়তে; তখনও কার্যত নির্বাকই থেকেছে। কারণ বিজেপি জানত; যখন ময়দানে নামব প্র্যাকটিসে যেন কোনও খামতি না থাকে। বিরোধীর মুখ পোড়ালে; সেই দাগ যেন না মোছে; তার ব্যবস্থা করেই ওস্তাদের মার শেষ রাতে; সেটাই প্রমান করেছে।

আরও পড়ুনঃ সারারাত জেগে মোদী সরকার ভোরে ওঠাল রাষ্ট্রপতিকে, তারপরেই পাওয়ার কাট

কংগ্রেস, এনসিপি, শিব সেনা যখন সর্বসম্মতিক্রমে উদ্ভবের মুখ্যমন্ত্রীত্বে শিলমোহর দিয়েছে; তখনই হঠাৎ করে পওয়ারের গায়েব হয়ে যাওয়াটা পরের সূর্যোদয়ের সময় শিবসেনার কাছে ছিল; জন্মদিনের সারপ্রাইজ কেকের মতো। আর রাষ্ট্রপতি শাসন উঠে গিয়ে জখন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রীত্বের শপথ গ্রহণ করলেন; শিবসেনার অবস্থা পূর্ণিমায় ভূত দেখার মতো।

কি থেকে কি হল; কোনও হিসেবই মেলেনি। এমনকি উদ্ভবের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অর্ধেক সেলিব্রেশনও করা হয়ে গিয়েছিল শিব সেনার। কিন্তু ওই যে সার্জিকাল স্ট্রাইক; পুরোনো অভ্যেস। কুপোকাত করে ফেলল এক ঢিলে তিন পাখিকে। শনিবারের সকালটা ছিল বিজেপির কাছে যেমন জয়ের; তেমনই শিব সেনার মাথায় বিনা মেঘে বজ্রঘাতের মতো।

বেলা গড়াতেই দেবেন্দ্রে ফড়নবিশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘোষণায় চোখ আর মুখ দুটোই খোলা রয়ে গেছে শিব সেনার। আর গোটা নাটকের নেপথ্যে যিনি; সেই অজিত পওয়ারের প্রতি দ্বিতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা এখন অফুরন্ত।

কারণ গোটা গেম প্ল্যানে তো এখন তার ভূমিকাই; আলোচনার শিরোণামে। তবে শরদ পওয়ারের ভাইপো হলেও; গোটা ঘটনায় এনসিপি প্রধানের যে কোনও যোগ নেই; বারে বারে সেনা প্রধানকে এই বলেই আস্বস্ত করেছেন শরদ। না করেই বা উপায় কি; অভিযোগের আঙুলগুলোকে নামাতে হবে কি না। কিন্তু প্রথমেই হাত তুলে নিয়ে; আড়াল থেকে প্ল্যান সাজানো ও সময় মতো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে মহারাষ্ট্র সরকার গঠনে বিজেপির বাজিগর হয়ে ওঠায়; দেশ এখন একটাই শ্লোগান দেবে ‘হর হর মোদী, ঘর ঘর মোদী’।

দীপা মুখোপাধ্যায়, The News বাংলা

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন