রাস্তায় নামাজ বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর বঙ্গ বিজেপি, চলতে থাকবে হনুমান চালিশা

486
রাস্তা আটক করে ফের হনুমান চালিশা পাঠ বিজেপির/The News বাংলা
রাস্তা আটক করে ফের হনুমান চালিশা পাঠ বিজেপির/The News বাংলা

ধর্ম সংকটে হাওড়াবাসী। রাম নামের ঠেলায়; গোটা দেশের প্রাণ ওষ্ঠাগত। হাওড়াই বা বাদ যাবে কেন সেই তালিকা থেকে। মুসলমান সম্প্রদায়ের নামাজ পাঠের; পাল্টা আক্রমণ হনুমান চল্লিশা দিয়ে।

মঙ্গলবারের বদলে; সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গেল; রাস্তা আটকে হনুমান চল্লিশা পাঠ। হাওড়ার বিজেপি যুব মোর্চার উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন। এবার উত্তর হাওড়ার এসি মার্কেট সংলগ্ন হনুমান মন্দিরে পাঠ করা হল হনুমান চল্লিশা।

আরও পড়ুনঃ জন্মদিনে কমরেড জ্যোতি বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জীবনের কিছু অজানা তথ্য

জুম্মাবার অর্থাৎ শুক্রবারগুলোতে; নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তা আটকে নামাজ পড়েন মুসলিম ধর্মবিশ্বাসীরা। জুন মাস থেকেই পথে নেমে; এর বিরোধিতা শুরু করে বিজেপি যুব মোর্চারা। বালিখালের বজরংবলি মন্দিরের সামনে; প্রায় ১০০ জন গেরুয়া কর্মী রাস্তায় বসে হনুমান চল্লিশা পাঠ করেছিলেন প্রথমদিন। সোমবার ফের রাস্তায় হনুমান চল্লিশা পড়ল গেরুয়া শিবির।

বিজেপি যুব মোর্চার হাওড়া সভাপতি ওমপ্রকাশ সিং জানান; “যতদিন না রাস্তা আটকে নামাজ পড়া বন্ধ হচ্ছে, ততদিন আমরাও রাস্তা আটকে হনুমান চল্লিশা পড়ব”। কথা অবশ্য রাখেন বিজেপি কর্মীরা।

তারপর থেকেই প্রতি মঙ্গলবার নিয়ম করে; কোন না কোন রাস্তা আটকে হনুমান চল্লিশা পাঠ করে তারা। জিটি রোড ও বালির ডবসন রোডের পর এবার উত্তর হাওড়াতে রাস্তা আটকেছে তারা।

আরও পড়ুনঃ Exclusive: অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠই কি হবেন নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি

এদিকে তীব্র যানজটে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শক। এই বিষয়ে পুলিশের আধিকারিক কোনো মন্তব্য করতে চান নি। অপরদিকে; রাস্তা মানুষের হাঁটার জন্য। গাড়ি চলাচলের জন্য। ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্য নয়। এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ।

তাদের দাবি, এটা সরকারের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া; যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও গাড়ি চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়ের দাবি; “এটা একটা ধর্মীয় রীতি। বিজেপি এসব করে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে”।

পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বলা হয়েছে; “এটা তাদের প্রাচীন ধর্মীয় চিরাচরিত প্রথা। তাই এটা তারা বন্ধ করতে পারবেন না। আর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা যদি জোর করে; হনুমান চল্লিশা পড়তে শুরু করেন, তাহলে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা আরও বাড়বে”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন