অবিভক্ত বাংলায় উত্তর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ফুটবল ক্লাব এখন শতবর্ষের ইতিহাসে

116
অবিভক্ত বাংলায় উত্তর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ফুটবল ক্লাব এখন শতবর্ষের ইতিহাসে/The News বাংলা
অবিভক্ত বাংলায় উত্তর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ফুটবল ক্লাব এখন শতবর্ষের ইতিহাসে/The News বাংলা

অবিভক্ত বাংলায় উত্তর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ফুটবল ক্লাব; এখন শতবর্ষের ইতিহাসে। বাংলার বিখ্যাত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্ম ১৯২০তে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব জন্ম নেওয়ার নেপথ্যে; কিন্তু রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন মোহনবাগানের ভূমিকাও৷ ১৯১৯ সালে কোচবিহার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি মোহনবাগান ও জোড়াবাগান। চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান৷ সেই ম্যাচ জোড়াবাগান জিতলে হয়ত; ‘ইস্টবেঙ্গল’ নামক ক্লাবটার উৎপত্তিই হত না৷ আসলে সেই ম্যাচে দুই ‘বাঙাল’ শৈলেশ বসু ও নসা সেন খেলেছিলেন৷

বাঙালদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে দল হারার সব দায়; ওই দুজনের কাঁধে চাপিয়ে দিলেন ক্লাবের বাঙালি কর্তারা৷ ব্যস! রাগে জোড়াবাগানের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন; পদ্মার ওপারের ব্যক্তি সুরেশ চৌধুরী৷ ‘ঘটি’দের উচিত শিক্ষা দিতেই; তারপর তাঁর হাত ধরে ১৯২০তে জন্ম নিল ‘ইস্টবেঙ্গল’। সেই রেষারেষি আজও অব্যাহত৷

আরও পড়ুনঃ মোহনবাগান দিবসে ‘মোহনবাগান রত্ন’ কেবল ফুটবলেই আটকে রইল না

সমর্থক সংখ্যার বিচারে ইস্টবেঙ্গল প্রথমদিকে নেহাতই মাঝারি ক্লাব। সমর্থক বাড়তে শুরু করে; দেশভাগের পরে। ইস্টবেঙ্গল নামে কেউ কেউ; অদ্ভুত একটা টান অনুভব করলেন। ছিন্নমূল মানুষরা ইস্টবেঙ্গল নামটির মধ্যেই; ফেলে আসা দেশের ছায়া খুঁজে পেলেন। দেশভাগের মতো দুঃখজনক ঘটনা না ঘটলে; ইস্টবেঙ্গল আজও হয়তো মাঝারি ক্লাব হয়েই থাকত।

জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই; ইস্টবেঙ্গল হারকিউলিস কাপ জেতে। পরের বছর ১৯২১ সালে ইস্টবেঙ্গল জেতে শচীন শিল্ড; ফাইনালে এরিয়ানসকে ৫-০ হারিয়ে। ১৯২৪ সালে মোহনবাগানকে ১-০ পরাজিত করে; ইস্টবেঙ্গল জিতল কোচবিহার কাপ। এছাড়াও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ১৯৪২, ১৯৪৩, ১৯৪৫, ১৯৬০-এ কোচবিহার কাপ; ১৯৪২-এ গিরিজা শিল্ড এবং ১৯৬০, ১৯৬৬, ১৯৭৫ ও ১৯৭৬-এ ট্রেডস কাপ জেতার ইতিহাস তৈরি করে।

তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এরপর ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড ব্রিউয়ারিস গ্রুপ; ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ৫০% মালিকানা লাভ করে। এরপর বিজয় মালিয়ার কিংফিশারের সাথে চুক্তি হয়। নাম হয় ‘কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’।

একটা সময়, মোহনবাগান যদি ম্যাচ জিতত; তো কলকাতার বাজার ছেয়ে যেত চিংড়িতে আর যদি ইস্টবেঙ্গল জিতত তো; বাজার জুড়ে ইলিশের রমরমা। শুধু তাই নয়; একজন বিরোধী সমর্থক অপর বিরোধী সমর্থককে মাছ কিনে দিত; এটাই নাকি ছিল রেওয়াজ। সেসব ‘বাঙালিয়ানা’ কিংবা ‘বাঙালয়ানা’ এখন আর নেই। সবই হারিয়ে গেছে; মিশ্র হুজুগে সংস্কৃতির জেরে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন