ভাঙা বাঁধে বিপদে বাংলার মানুষ, কলকাতায় জমা জল ও শোভন বৈশাখী নিয়েই ব্যস্ত ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’

836
ভাঙা বাঁধে বিপদে বাংলার মানুষ, কলকাতায় জমা জল ও শোভন বৈশাখী নিয়েই ব্যস্ত 'গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ'
ভাঙা বাঁধে বিপদে বাংলার মানুষ, কলকাতায় জমা জল ও শোভন বৈশাখী নিয়েই ব্যস্ত 'গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ'

পার্ক স্ট্রিটের একদিকে জল জমেছে; বেহালায় হাঁটু জল; চরম সমস্যায় মানুষ। শোভন-বৈশাখীর অভিযোগ; ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারার হুমকি রত্না চট্টোপাধ্যায়-য়ের। সারাদিনের অধিকাংশ সময়; বাংলার সংবাদমাধ্যমে এটাই খবর। অন্যদিকে জেলায় জেলায় ভাঙা বাঁধে বিপদে; বাংলার অসংখ্য মানুষ। তবে তাতে কি? তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই; বাংলার অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের। কলকাতায় জমা জল ও শোভন বৈশাখী নিয়েই ব্যস্ত; ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’। অন্যদিকে, ইয়াসের পর থেকেই; জেলায় জেলায় চরম সমস্যায় মানুষ। বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন; অসংখ্য মানুষ। আবার টানা বৃষ্টির পর; মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শুধু নজর পড়েনি; বাংলা মিডিয়ার।

ইয়াসের পরে অনেক জায়গাতেই; নদীবাঁধ ভেঙেছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার মানুষ; সেই ধাক্কা এখনও সামলাতে পারেননি। সুন্দরবন এলাকার মানুষ; ইয়াসের পর থেকেই দুর্ভোগে। টানা ২ দিনের বৃষ্টিতে; সমস্যা ও দুর্ভোগ বেড়েছে তাঁদের। বাংলায় উপকূলীয় অঞ্চলে; মানুষের দুর্ভোগ চোখে দেখা যায় না। টানা দুদিনের বৃষ্টিতে; এবার জেলায় জেলায় ফুঁসছে সব নদ-নদী। হুগলীর আরামবাগে তারকেশ্বর নদীর জলে; জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা।

আরও পড়ুনঃ ১১ বছর বয়সেই কম্পিউটার পোগ্রামিং বই লিখে বিশ্বকে চমকে দিল বাঙালি বালক

মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টিতে; বাঁকুড়ার সবকটি নদীতে বেড়েছে জলস্তর। ফুঁসছে জেলার গন্ধেশ্বরী; দ্বারকেশ্বর; শীলাবতি; কংসাবতি নদী। ভাদুল ও মীনাপুর সেতুর উপর দিয়ে; বইছে জল। জলের তলায় মানকানালি সেতুও। আশঙ্কার প্রহর গুনছে বাঁকুড়াবাসী। বানভাসি হয়েছেন; অনেক এলাকার মানুষ। প্রায় পাঁচ-ফুট জলের তলায়; গন্ধেশ্বরী নদীর মানকানালি সেতু। গন্ধেশ্বরীর ওপাড়ে থাকা; মানকানালি, উখড়াডিহি-সহ গ্রামগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা; বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নদীর দুপাড়ে থাকা নীচু এলাকার মানুষ; প্লাবনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা; অন্যদিকে বীরভূমের ইলামবাজার; মাঝে বইছে অজয় নদ। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে; জল বেড়েছে অজয় নদে। প্রবল জলের তোড়ে; ভেসে গেছে অস্থায়ী সেতুটিও। ফলে দুই জেলার মধ্যে; যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মানুষের হাতে তৈরি, বাঁশের মাচার উপর দিয়ে; অজয় নদ পেরোতে গিয়ে ঘটেছে দুর্ঘটনা। বাইক-সহ ভেসে যাওয়া দুজনকে কোনওমতে উদ্ধার করা গেলেও; বাইক দুটির আর খোঁজ মেলেনি। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন; স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব নয়, কলকাতার রাস্তায় জল জমা ও শোভন-বৈশাখী নিয়েই ব্যস্ত; ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন