বর্ধমানের মেমারির যুবকের মরণোত্তর অঙ্গদানে বাঁচল ৫টি তাজা প্রাণ

4353
বর্ধমানের মেমারির যুবকের মরণোত্তর অঙ্গদানে বাঁচল ৫টি তাজা প্রাণ/The News বাংলা
বর্ধমানের মেমারির যুবকের মরণোত্তর অঙ্গদানে বাঁচল ৫টি তাজা প্রাণ/The News বাংলা

বর্ধমানের মেমারির যুবকের; মরণোত্তর অঙ্গদানে বাঁচল ৫টি তাজা প্রাণ। গত বুধবার স্কুটি দুর্ঘটনায়; মাথায় গুরুতর চোট পান মেমারির বাসিন্দা চিন্ময় ঘোষ (৩৪)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়; বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর অপারেশনের জন্য তাঁকে কলকাতার পার্ক ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। সোমবার সন্ধে নাগাদ সেখানেই ব্রেন ডেথ হয় চিন্ময়ের।

ছেলের অঙ্গে যাতে আরও কয়েকজন নতুন জীবন ফিরে পান, তার জন্য অঙ্গদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার৷ সেইমতো সোমবার রাতেই শুরু হয় হার্ভেস্টিং (অঙ্গগ্রহণের প্রক্রিয়া)। চিন্ময়ের মাধমেই মরণোত্তর অঙ্গদানে; ফের নজির গড়ল বাংলা। বর্ধমানের মেমারির যুবকের অঙ্গে; বাঁচতে চলেছে একাধিক প্রাণ। লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র-সহ চিন্ময়ের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হবে; একাধিক রোগীর শরীরে।

আরও পড়ুনঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংরক্ষণের আওতায় কারা কারা পড়লেন, আপনিও আছেন তালিকায়

গ্রিন করিডরের মাধ্যমে হাসপাতালগুলিতে; ইতিমধ্যেই একে একে পৌঁছে গিয়েছে অঙ্গ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছে; চিন্ময়ের ত্বক এবং হৃদযন্ত্র। লিভার এবং একটি কিডনি পৌঁছে গিয়েছে; এসএসকেএম হাসপাতালে। অন্য আরেকটি কিডনি গিয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে।

চিন্ময়ের হৃদযন্ত্র পাচ্ছেন সুরজিৎ পাত্র। তাঁর পরিবার বলছে, হার্টের অবস্থা ভাল ছিল না সুরজিৎ পাত্রের; কলকাতা থেকে সুদূর চেন্নাই সর্বত্রই হন্নে হয়ে ঘুরেছে তাঁর পরিবার। অবশেষে মিলল সমাধানসূত্র। কার্যত ‘দেবদূত’ হয়েই এলেন মেমারির চিন্ময় ঘোষ। এমনই বলছেন সুরজিৎ-এর পরিবার, উত্তেজনা সুরজিৎ-এর মা-এর চোখে মুখে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই সিরোসিস অফ লিভারে ভুগছিলেন; বনগাঁর বাসিন্দা বিধান অধিকারী (৫২)। তার শরীরেও প্রতিস্থাপিত হবে চিন্ময়ের লিভার।

মঙ্গলবার সকালে শহরে গ্রিন করিডর করে; অঙ্গগুলি বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার আগে অঙ্গগ্রহীতাদের তালিকা তৈরি হয়। কিডনি, লিভার, ত্বক, হৃদযন্ত্র সহ; বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের তোড়জোড় শুরু হয়। হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি প্রতিস্থাপন তো ছিলই। এবার শহর কলকাতায় অঙ্গদানের তালিকায় যুক্ত হল ত্বকও। চিন্ময়ের ত্বক সম্ভবত মেডিক্যাল পড়ুয়াদের গবেষণা; বা অন্য কোনও কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার ব্রেন ডেথ হওয়া পর; বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের নজির রয়েছে কলকাতায়। ইদানিং সচেতনতার কারণে সেই প্রবণতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও, মেমারির ঘোষ পরিবারও সেই নজিরই রেখে; আরও উজ্জ্বল করল বাংলার মুখ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন