নিজেকে শেষ করে বিখ্যাত ব্যবসায়ি আঙুল তুলে দিলেন, ভারতের অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের দিকেই

705
কেন নিজেকে শেষ করে দিলেন বিদেশমন্ত্রীর জামাই ও বিখাত কফি ব্যবসায়ি/The News বাংলা
কেন নিজেকে শেষ করে দিলেন বিদেশমন্ত্রীর জামাই ও বিখাত কফি ব্যবসায়ি/The News বাংলা

ম্যাঙ্গালোরে নেত্রাবতী নদী থেকে; বুধবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ মিলল; সিসিডি মালিক সিদ্ধার্থের দেহ। সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন; বিখ্যাত কফি ব্যবসায়ি। সিদ্ধার্থের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে হাত লাগায় এনডিআরএফ; উপকূলরক্ষী বাহিনীও। কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণের; জামাইয়ের নিখোঁজ হওয়া ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কেন নিজেকে শেষ করে দিলেন; বিদেশমন্ত্রীর জামাই ও বিখাত কফি ব্যবসায়ি? উঠে গেছে প্রশ্ন।

ক্যাফে কফি ডে ছাড়াও; একটি হসপিটালিটি চেন রয়েছে তাঁর৷ সেরাই ও সিসাদায় সাত তারা হোটেল আছে৷ ১৯৯০ সালে ক্যাফে কফি ডে নামে; একটি ছোট ক্যাফে খোলেন তিনি৷ বর্তমানে যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড৷ ১০ হাজার কর্মী সারা দেশে কাজ করেন; ক্যাফে কফি ডে-তে৷

আরও পড়ুনঃ মোদী সরকারের বড় সাফল্য, তিন তালাক বিল এবার আইন, তিন তালাক দিলেই জেল

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভিজি সিদ্ধার্থের অফিসগুলিতে; আয়কর আধিকারিকরা অভিযান চালায়। দেশের বৃহত্তম রফতানিকারীদের; মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীও। তাঁর পরিবার ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে; কফি সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু কেন আত্মহত্যা করলেন ভিজি সিদ্ধার্থ? নিজেকে শেষ করে বিখ্যাত ব্যবসায়ি আঙুল তুলে দিলেন; ভারতের অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের দিকেই।

সিদ্ধার্থ সংস্থার কর্মচারী এবং পরিচালনা পর্ষদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠিতে বলেছিলেন; “আমি একজন শিল্পপতি হিসাবে ব্যর্থ”। যদিও চিঠিটা তারই লেখা কিনা; তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেন না। এই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন; “আমি নিজের সম্পূর্ণটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু যারা আমাকে এতটা বিশ্বাস করলেন; আমি তাদের বিশ্বাস রাখতে পারিনি; তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী”।

সিদ্ধার্থ বলেছিলেন যে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছিলেন তবে; “আজ আমি সাহস হারাচ্ছি; কারণ আমি বেসরকারী ইক্যুইটি অংশীদারদের পক্ষে থেকে পুনরায় শেয়ার কেনার চাপ আর সহ্য করতে পাচ্ছি না। এর আগে বন্ধুর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে আমি আংশিকভাবে পরিশোধ করতে পেরেছি”।

তাঁর এই চিঠি তুলে দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই ভারতের ব্যাংক পরিষেবা ও সরকারি সংস্থার চাপকেই এই আত্মহত্যার পিছনে; আসল কারণ বলে জানিয়েছেন। ভারতের বর্তমান অর্থনীতি ও তার রুপায়ন আরও কি অনেক ব্যবসায়ীকেই আত্মহত্যার পিছনে ঠেলে দেবে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন