করোনার ভয়ে মানুষের যৌনশক্তি কমে যাওয়ার কারন ও নিরাময়

1312
করোনার ভয়ে মানুষের যৌনশক্তি কমে যাওয়ার কারন ও নিরাময়/The News বাংলা

করোনার ভয়ে; আপনার যৌনশক্তি কমে যাচ্ছে? গায়ে জোর পাচ্ছেন না? আপনার যৌনশক্তি কম হওয়ার বিষয়টি; হরমোনের জন্যও হতে পারে। যৌনশক্তি কমে যাওয়ার কারণ; ও প্রতিকারের রাস্তাগুলি জেনে রাখা দরকার। যৌনশক্তি কমে যাওয়ার কারনগুলো হলো; ১. হৃৎপিন্ডের দূর্বলতার কারণে যৌনশক্তি কমে যায়। ২. বদহজমের কারণেও যৌনশক্তি কমে যায়। কেননা খাদ্য হজম না হওয়ার কারণে রক্ত তৈরী হয় না।
৩. যকৃৎ দুর্বল হওয়ার কারণে যৌনশক্তি কমে যায়। এর কারণ যকৃৎ হলো মানুষের শরীরের রক্ত প্রস্ততকারীর অন্যতম একটি উপাদান। বিশেষ করে যকৃতের কাজই হলো রক্ত তৈরী করা। যকৃৎ দুর্বলের লক্ষণ হলো; মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়া। শরীরের রঙ অল্প হলদে হয়ে যাওয়া। সহবাসের সময় উত্তেজনা কমে যাওয়া। এসব যখন দেখা দেবে; তখন বুঝতে হবে যে; তার যকৃৎ দুর্বল হয়ে গেছে।

৪. অনেক যুবকের মধ্যেই এ রোগটি বেশি দেখা যায়। তা হল; সে নিজেকে দুর্বল মনে করে। এর সবচেয়ে বেশি যে কারণটি পাওয়া যায়; তার ধারণা ‘আমি মনে হয় সহবাসে হেরে যাব’; বা ‘বেশিক্ষন টিকতে পারব না’। এ হল তার অন্তরের দুর্বলতা। এ মানসিক রোগ যখন তার মাঝে কাজ করতে থাকবে; তখন ঠিক আসল সময়ে যৌনশক্তি কমে আসবে। সহবাসের ইচ্ছা করতেই হৃৎপিণ্ড জোরে ধকধক করতে থাকে। সহবাসের সময় বা সহবাসের পর এসব লোকেরা হাঁপিয়ে উঠে হৃদয়ের ওঠানামা বেশি করতে থাকে।

৫. আবার অনেকের মস্তিঙ্কের দুর্বলতার কারণেও; যৌনশক্তি কমে যায়। যখন যৌনাঙ্গের শিরা দুর্বল হয়ে যায়; সব সময় রোগী মাথায় ব্যথা অনুভব করে কিংবা সহবাসের পরই; অস্থিরতা অনুভব করে এবং চোখে অন্ধকার দেখে। সহবাসের পরই অধিক ক্লান্তি নেমে আসে। তাহলে বুঝতে হবে যে; তার মস্তিঙ্কের দুর্বলতা রয়েছে। যার কারণে তার যৌনশক্তি কমে গেছে।

৬. অনেক সময় পার্শ্ব’র দুর্বলতার কারণেও যৌনশক্তি কমে যায়। যদি কারো পাঁজরে ব্যথা অনুভব হয়; বা পার্শ্ব পরিবর্তন করলেই ব্যথা শুরু হয়ে যায়। বারবার প্রস্রাব এর প্রয়োজন দেখা দেয়। যৌনাঙ্গের উত্তেজনা পূর্ণভাবে অনুভব হয় না। মাঝে মধ্যে ব্যথা অনুভব হয়। তাহলে বুঝতে হবে যে; তার পার্শ্ব দুর্বলতার কারণেই তার যৌনশক্তি কমে গেছে।

যৌন শক্তি বৃদ্ধির উপায় :১. মধুঃ যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখার শ্রেষ্ঠ উপাদান হল মধু। সকালে খালি পেটে জিভ দিয়ে মধু চেটে খেলে কফ দূর হয়। পাকস্থলী পরিস্কার হয়; দেহের অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ বের হয়। গ্রন্থি খুলে দেয়; পাকস্থলী স্বাভাবিক হয়ে যায় ও মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে। স্বাভাবিক তাপে শক্তি আসে; রতি শক্তি বৃদ্ধি হয়; মূত্রথলির পাথর দূর করে; প্রস্রাব স্বাভাবিক হয়। গ্যাস নির্গত হয় ও ক্ষুধা বাড়ায়। প্যারালাইসিসের জন্যও মধু উপকারী। মধু হাজারো রকম ফুল ও দানার নির্যাস।

২. খেজুরঃ যৌনশক্তির সঙ্গে খেজুরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। খেজুর শরীরের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গ্রন্থেও খেজুর ব্যবহার যৌন শক্তির জন্য উপকারী বলা হয়েছে।

ডিম: সকালে প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খান। এটি যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে এবং সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়; ও শরীর চাঙ্গা থাকে। কারণ সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন; প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। তাড়াহুড়ার যদি সকালে খাওয়ার সময় না থাকে তাহলেও অবশ্যই একটি সেদ্ধ ডিম খান দুপুরের খাবারের সঙ্গে।

পালং শাক ও অন্যান্য সবজি : পালং শাকে আছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। জাপানের গবেষকদের মতে; শরীরে রক্ত চলাচল বাড়লে যৌন উদ্দীপনাও বাড়ে। পালং শাক ও অন্যান্য বিভিন্ন রকম শাক; ব্রকলি; লেটুস; ফুলকপি; বাঁধাকপি; এগুলোতে রয়েছে ফলেট; ভিটামিন বি সহ অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান।
দুধঃ যৌন শক্তি বৃদ্ধি এবং যৌবন ধরে রাখতে দুধের কোন তুলনা হয় না। গরুর দুধ সব বয়সেই খাওয়া যায়। কিন্তু; বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।

স্ট্রবেরিঃ স্ট্রবেরি মানুষের দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ফলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা পুরুষের স্পার্মের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

কলাঃ কলায় রয়েছে ব্রমেলাইন নামক একরকম এনজাইম; যা পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও রিবফ্লাবিন যা শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে দেহকে সুস্থ রাখে এবং বীর্যের মান উন্নত করে।

তরমুজঃ তরমুজকে মূলত প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলা হয়ে থাকে। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে তরমুজে রয়েছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা দেহের যৌন উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করে।

বাদামঃ সকল ধরনের বাদামেই আছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল যা দেহের যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বীর্য তৈরি ও ঘন হতে সাহায্য করে। এর মধ্যে এ্যলমন্ড (কাঠ বাদাম) চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম খাওয়া বেশি ভাল।

তৈলাক্ত মাছ :- তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড DHA O EPA শরীরে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ খেলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং গ্রোথ হরমোনের নিঃসরন হয়। ফলে যৌন স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

রসুন :- রসুনে অনেক উপকারিতা রয়েছে। রসুন ফোড়া ভালো করে; ঋতুস্রাব চালু করে; প্রস্রাব স্বাভাবিক করে। পাকস্থলী থেকে গ্যাস নির্গত করে, নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌন ক্ষমতা সৃষ্টি করে, বীর্য বৃদ্ধি করে। গরম স্বভাব লোকদের বীর্য গাঢ় করে, পাকস্থলী ও গ্রন্থির ব্যথার উপকার হয়। এ্যাজমা এবং কাঁপুনি রোগেও উপকার সাধন করে। আজ থেকেই এই খাবারগুলো আপনার খাবার তালিকায় রাখুন। দেখুন কি ভাবে উপকার পান কয়েকদিনের মধ্যেই।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন