নেতা মন্ত্রী থেকে পুলিশ, রাজ্যের অনেক ‘রাঘববোয়াল’ জড়িত গরু পাচারের সঙ্গে, সিবিআই তদন্তে উঠে আসছে নাম

1601
নেতা মন্ত্রী থেকে পুলিশ, রাজ্যের অনেক 'রাঘববোয়াল' জড়িত গরু পাচারের সঙ্গে, সিবিআই তদন্তে চোখ কপালে
নেতা মন্ত্রী থেকে পুলিশ, রাজ্যের অনেক 'রাঘববোয়াল' জড়িত গরু পাচারের সঙ্গে, সিবিআই তদন্তে চোখ কপালে

নেতা মন্ত্রী থেকে পুলিশ, রাজ্যের অনেক ‘রাঘববোয়াল’ জড়িত; গরু পাচারের সঙ্গে। সিবিআই তদন্তে চোখ কপালে উঠেছে গোয়েন্দাদের। রাজ্যের অনেক ‘প্রভাবশালী’ জড়িত গরু পাচারের সঙ্গে; উঠে এল সিবিআই তদন্তে। শুধু বিএসএফ আধিকারিকরাই নন; গরু পাচারের সঙ্গে নেতা মন্ত্রী থেকে পুলিশ কর্তা; অনেকেই জড়িয়ে আছেন বলেই; প্রমাণ পেয়েছে সিবিআই গোয়েন্দারা। তদন্তে উঠে আসছে; প্রভাবশালীদের নাম। আর টাকার অঙ্ক দেখে; জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।

হাজার হাজার কোটি টাকার গরু পাচার; বাংলা থেকে বাংলাদেশে। যুক্ত রাজনীতিবিদ থেকে আমলা; তদন্তে নেমেছে সিবিআই। রাজ্যের সীমান্তবর্তি জেলাগুলি দিয়ে; বাংলাদেশে গরু পাচার করার অভিযোগ বহুদিনের। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সীমান্তে বসবাসকারী মানুষজন; গরু পাচারকারীদের অত্যাচারে নাজেহাল। এবার সেই গরু পাচারের বিরুদ্ধেই; অভিযানে নেমেছে সিবিআই। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলে তল্লাশি। বুধবার সকাল থেকে অভিযান চলে; রাজারহাট, সল্টলেক, তপসিয়ায়। এছাড়াও মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, লালগোলা এবং শিলিগুড়ি-সহ; বিভিন্ন জায়গায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার গরু পাচারে যুক্ত রাজনীতিবিদ থেকে আমলা, তদন্তে নামল সিবিআই

রাজ্যের সীমান্ত দিয়েই; প্রতিদিন এভাবে গরু পাচার হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ এর পাশাপাশি; উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে; প্রতিদিন পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার গরু। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই গবাদি পশু; নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। সবার চোখের সামনে দিয়েই; চলে এই গরু পাচার।গরু পাচার নিয়ে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই; ২০১৮ সালে যে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেছিল; তার রিপোর্টেই উঠে এসেছিল বিশু শেখের সিন্ডিকেটের কথা।

২০১৫ সাল থেকে মালদহ-মুর্শিদাবাদ সীমান্তে; গবাদি পশু পাচারের সব সিন্ডিকেটকে ছাপিয়ে; কী ভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল ওই সিন্ডিকেট। আর এই একচেটিয়া কারবার করার সুযোগের পিছনে যে; এ রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ‘আশীর্বাদ’ আছে; তা সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন জেরায় স্বীকার করে নিয়েছিল বিশু শেখ ওরফে এনামুল হক। এমনটাই দাবি সিবিআইয়ের গোয়েন্দাদের।

আরও পড়ুনঃ “গরু পাচারের টাকায় নির্বাচনী তহবিল ভরাচ্ছে তৃণমূল”, বিস্ফোরক অধীর

প্রাথমিক তদন্তে সিবিআই আধিকারিকরা জেনেছেন; গবাদি পশু পাচার ওই এলাকার দীর্ঘ দিনের কারবার। একাধিক সিন্ডিকেট যুক্ত ছিল ওই ব্যবসায়। ২০১৫ সালে ব্যবসায় নামে এনামুল। সেই সময়ে মুর্শিদাবাদ জেলার এক ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতা; তাঁকে সাহায্য করেন। আর তার জোরেই বাকি সিন্ডিকেটগুলোকে; কার্যত ‘গিলে’ নিয়ে পাচারে একচ্ছত্র হয়ে ওঠে বিশুর সিন্ডিকেট। ছোট সিন্ডিকেটগুলো বিশুর সিন্ডিকেটের অধীনে; কাজ করা শুরু করে বা মিশে যায় বিশুর চক্রের সঙ্গে।

প্রতিটি গবাদি পশুর গায়ে বিশুর সিন্ডিকেটের চিহ্ন হিসাবে; ইংরেজিতে ‘বিএস’ লেখা স্ট্যাম্প মারা হত। এই স্ট্যাম্প দেখে বিশুর গরুদের আটকাত না; কোন পুলিশ কর্মী। সিবিআই তদন্তকারীরা বলছেন; স্ট্যাম্প মেরে রীতিমতো ঘোষণা করে ব্যবসা করত বিশু। তার অর্থ রাজ্য প্রশাসনেরও একটা বড় অংশ; বিএসএফ বা শুল্ক দফতরের মতো আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে বিশুর কাছ থেকে। কারণ জেরায় বিশু ওরফে এনামুল নিজেই জানিয়েছেন; শহর বা গ্রাম থেকে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত; কেউ যাতে তার গবাদি পশু না আটকায়; তার জন্যই স্ট্যাম্প মারা হত।

এক সিবিআই আধিকারিকের কথায়; ‘‘রাজ্য রাজনীতিতে খুব ভাল রকম প্রতিপত্তি না থাকলে; এ ভাবে রমরমিয়ে বেআইনি কারবার চালানো সম্ভব নয়”। সীমান্তে না হয় পাচারে সাহায্য করত; বিএসএফ এবং কাস্টমস। কিন্তু বাকি পথে বিশুর গবাদি পশু; আটকানো হত না কেন?” সূত্রের খবর, বিশু নিজেই সিবিআই আধিকারিকদের জানিয়েছেন; “বিএসএফ, কাস্টমস ছাড়াও; অনেক নেতা মন্ত্রী ও পুলিশ কর্তাও; অর্থনৈতিক ভাবে দারুণ লাভবান হয়েছেন এই পাচারে। একে একে উঠে আসছে; সেই সব রাঘববয়ালের নাম।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন