করোনা পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যগুলিকে ১২,০০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্র, বাংলার জন্য ৫২৫ কোটি

2078
করোনা পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যগুলিকে ১২০০০ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র, বাংলাকে ৫২৫ কোটি
করোনা পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যগুলিকে ১২০০০ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র, বাংলাকে ৫২৫ কোটি

করোনা পরিস্থিতি সামলাতে, রাজ্যগুলিকে বিনা সুদে; ১২,০০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে কেন্দ্র। বাংলার জন্য বরাদ্দ ৫২৫ কোটি টাকা। জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে; সংঘাত অব্যাহত। তারই মধ্যে করোনা ভাইরাসের ধাক্কায়, ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে; রাজ্যগুলিকে ১২,০০০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চলেছে কেন্দ্র। সেজন্য রাজ্যগুলিকে কোনও সুদ গুনতে হবে না। ৫০ বছরের মধ্যে সেই অর্থ; কেন্দ্রকে মিটিয়ে দিলেই হবে। বড় ঘোষণা মোদী সরকারের। তবে, “এই টাকায় কিছুই হবে না”; বলছে বিরোধীরা।

লকডাউনের জেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলিকে; ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। সোমবার এই ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। জিএসটি ক্ষতিপূরণ নিয়ে, কেন্দ্র বনাম রাজ্যের টানাপোড়েনের মধ্যেই; এই প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে; ৫০ বছর মেয়াদের লোন হিসেবে। এই ঋণে কোনও সুদ নেবে না কেন্দ্র। ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে; আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে; হিমালয় পর্বত সংলগ্ন রাজ্যগুলিকে। সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা; দেওয়া হবে বাকি রাজ্যগুলিকে। আর ২ হাজার কোটি টাকা; পৃথক করে রাখা থাকবে।

আরও পড়ুনঃ সরকারি টাকায় মাদ্রাসা বন্ধ করার পরে লাভ জিহাদের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড, ঘোষণা অসম সরকারের

এই টাকা থেকে লোন পাবে সেই রাজ্যগুলি; যারা কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত আত্মনির্ভর প্যাকেজের মধ্যে; অন্তত তিনটি সংস্কার কর্মসূচির যথাযথ প্রয়োগ করেছে নিজের রাজ্যে। সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা রাজ্যগুলিকে দেওয়া হবে; কেন্দ্রীয় ট্যাক্সের ভাগ যে ফর্মুলায় রাজ্যগুলি পায়; ঠিক সেই মডেল মেনে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শতকরা হারে। এই শতাংশের হিসেব কার্যকর হলে, সাড়ে ৭ হাজার কোটি মধ্যে; পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য দাঁড়াচ্ছে ৫২৫ কোটি টাকা। এই টাকা রাজ্যগুলি নতুন কিংবা পুরনো প্রকল্পেও; ব্যবহার করতে পারে।

তবে শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নেই ব্যবহার করা যাবে; যাকে অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার। একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকার পরিকাঠামো গঠনে; বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকা; ব্যয় করবে রাস্তা, জল সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পে। স্বাভাবিকভাবেই এই টাকা পরিকাঠামোয় লগ্নি করা হলে; গ্রাম ও শহরে নতুন নির্মাণ কাজের সৃষ্টি হবে। তৈরি হবে জীবিকা ও রোজগার। শুরু হবে আর্থিক লেনদেন। এই লেনদেন প্রত্যক্ষভাবে; অর্থনীতিকেই সাহায্য করবে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকে চমকে দিয়ে, প্রলয় মিসাইলের টেস্টিং করতে চলেছে ভারত

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান; “মূলধনী খাতে ব্যয়ের জন্য রাজ্যগুলিকে; সর্বমোট ১২,০০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হবে। তাতে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্য; এবং উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র পথে, আরও একটি ধাপ হিসেবে; উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ১,৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। ৯০০ কোটি পাচ্ছে; উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ।

পাশাপাশি বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির জন্য; কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হাতে; বাড়তি অর্থের সংস্থান করেছে কেন্দ্র। হাতে বেশি টাকা থাকলে; তাঁরা বেশি খরচ করবেন। তার জেরে বাজার কিছুটা চাঙ্গা হবে; বলে আশাবাদী কেন্দ্র। সীতারামন জানিয়েছেন, এলটিসি ক্যাশ ভাউচার এবং অগ্রিম উৎসব ভাতার ফলে; কর্মীদের যে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, তার পরিমাণ হবে ৩৬,০০০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত; বাজারে ৭৩,০০০ কোটি টাকার চাহিদা বাড়বে; বলে দাবি করেছেন সীতারামন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন