চাণক্যকে নিয়েও টানাটানি, ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য কে

412
চাণক্যকে নিয়েও টানাটানি, রাজনীতিতে বাড়ছে চাণক্যের সংখ্যা/The News বাংলা
চাণক্যকে নিয়েও টানাটানি, রাজনীতিতে বাড়ছে চাণক্যের সংখ্যা/The News বাংলা

মানব গুহঃ চাণক্যকে নিয়েও টানাটানি, রাজনীতিতে বাড়ছে চাণক্যের সংখ্যা। তবে ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য কে? ইতিহাসে ছিলেন একজনই; তবে ভারতের রাজনীতিতে এখন চাণক্যের ছড়াছড়ি। একজন রাজনৈতিক নেতা; বড় কোন রাজনৈতিক খেলায় জিতলেই; তাঁকে এখন ‘চাণক্য’ খেতাব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় তৃণমূল আমলে প্রথম শোনা যায়; চাণক্য শব্দটি। বাংলার মিডিয়া তৃণমূলের মুকুল রায়কে; চাণক্য বলতে শুরু করে। তারপরেই দেখা যায় সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসকেও; দলের চাণক্য বলা হত বলে দাবী করা হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।

পরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকেও চাণক্য বলা হতে থাকে। দক্ষিণে কে কামরাজকেও; রাজনীতির চাণক্য বলে দাবী করে থাকে তাঁর সমর্থকরা। আর এখন বিজেপির অমিত শাহের পর; এনসিপির শরদ পাওয়ারকেও চাণক্য বলা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ চাণক্যকে নিয়েই টানাটানি কেন?!

কে এই চাণক্য?

খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দে চাণক্য ছিলেন; একজন প্রাচীন ভারতীয় গুরু বা শিক্ষক, দার্শনিক ও রাজ-উপদেষ্টা। তিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে; অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন। তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে; প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন। মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের নথিভুক্ত ইতিহাসে; প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য। রাজনীতিতে খুব বেশি নৈতিকতার উপর জোর দেন নি চাণক্য। কুটিল নীতির উপর নির্ভর করতেন বলেই; তাঁর আর এক নাম কৌটিল্য।

চাণক্য, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের; রাজ-উপদেষ্টার কাজ করেছিলেন। চাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয়। তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ; অর্থশাস্ত্র-এর রচয়িতা। তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয়। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে; তাঁর অর্থনীতি তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। চাণক্যকে “ভারতের মেকিয়াভেলি” বলা হয়। যদিও তিনি নিকোলো মেকিয়াভেলির; ১৮০০ বছর আগের মানুষ ছিলেন!

চাণক্য মুকুল রায়ঃ

একসময় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড; মুকুল রায়কে তৃণমূলের চাণক্য বলা হত। বিজেপিকে রাজ্যে শক্তিশালী করতে; তৃণমূল থেকে তাদের চাণক্যকে ভাঙিয়ে দলে তানে বিজেপি। ঘাসফুল শিবিরের এই চাণক্য; পদ্ম শিবিরে যাওয়ার পর কতটা সফল হলেন বা হবেন; সেটাই এখনও বাংলার রাজনীতির প্রশ্ন। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে; চাণক্য মুকুল রায় তাঁর ভূমিকায় ১০০ শতাংশ সফল। নীরবে অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, সব্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায়-দের বিজেপিতে টেনেছেন।

যার ফসল বিগত লোকসভা নির্বাচনে; সুদে আসলে তুলে নিয়েছে বিজেপি। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার কাজেই; তৃণমূলের চাণক্যকে ব্যবহার করেছে বিজেপি। তবে তৃণমূল শিবিরের কাছে; চাণক্য এখন গদ্দার।

চাণক্য অনিল বিশ্বাসঃ

তৃণমূলকে বাংলায় ক্ষমতায় আনতে; মুকুল রায়ের নির্বাচনী লড়াই; পশ্চিমবঙ্গে প্রয়াত বাম নেতা অনিল বিশ্বাসের সমতুল্য বলেই মনে করেন রাজনৈতিক মহল। একসময় বামেদের চাণক্য ছিলেন অনিল বিশ্বাস। তাঁর রাজনৈতিক কৌশলে; সব সমস্যার সমাধান খুব সহজেই হয়ে যেত। অনিলবাবুর প্রয়াণের পর; বামেদের নির্বাচনী রণকৌশলে যে খরা দেখা গিয়েছে; তাতে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হয়েছে এক সময়ের শাসক পক্ষের। আর ২০১১ সালে পরিবর্তনের পর; তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর; সংগঠনকে ধরে রাখতে মুকুল রায় ছিলেন স্তম্ভের মতো। এক চাণক্যের অবসানে আরেক চাণক্যের উদয় হয়েছিল।

চাণক্য অমিত শাহ ও চাণক্য শরদ পাওয়ারঃ

২০১৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে দেশের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। মোদী ঝড় বা নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি যে ব্যক্তির সবচেয়ে বেশি প্রভাব চোখে পরে; তিনি হলেন অমিত শাহ। ২০১৪ এর পর ফের ২০১৯; ফের গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত বিরোধী শিবির। আর এরপরেই উদয় হয় আর এক চাণক্য; অমিত শাহ। তাঁকে বলা হতে থাকল বিজেপির চাণক্য। এতদিন সেই চাণক্যের নীতি দারুণ চলছিল।

কিন্তু মহারাষ্ট্রে জোর ধাক্কা খেল; অমিত শাহের নীতি। উদয় হল আরেক চাণক্যের। শরদ পাওয়ার। বলা হচ্ছে, ভারতীয় রাজনীতির নয়া চাণক্য। সিপিএম নেতা অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে; সেই কল্কে কোনদিন পাবেন না মুকুল রায়। তাই আপাতত বাংলায় কোন চাণক্য নেই। ভারতের রাজনীতিতে আপাতত দুই চাণক্য; অমিত শাহ ও শরদ পাওয়ার। তবে আবার যে নতুন কোন চাণক্য-র উদয় হবে না; তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন