বুদ্ধদেবের ঘরে চার্লি চ্যাপলিন না মা কালী, তুমুল বিতর্কে বাম বিজেপি

1064
বুদ্ধদেবের ঘরে চার্লি চ্যাপলিন না মা কালী, তুমুল বিতর্কে বাম বিজেপি/The News বাংলা
বুদ্ধদেবের ঘরে চার্লি চ্যাপলিন না মা কালী, তুমুল বিতর্কে বাম বিজেপি/The News বাংলা

তৃষা ঘোষঃ বাংলায় ক্ষমতা হারিয়েছে ৮ বছর আগে; মে ২০১১ তে। শেষ লোকসভা নির্বাচনেও; ভোট প্রায় তলানিতে। কিন্তু তাও আজও বাম শক্তিকে ভয় পায় বিরোধীরা। সে তৃণমূল শিবির হোক আর গেরুয়া শিবির! সাম্প্রতিককালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের; একটি ছবি ছড়িয়ে পরে নেট দুনিয়ায়। তরুণ থেকে প্রবীন সব রাজনৈতিক প্রিয় বাঙালির কাছে অবিশ্বাস্য হয়ে দাঁড়ায়; বুদ্ধদেবের বর্তমান শারীরিক অবস্থা। মন খারাপ করা সেই ছবি নিয়েও; রাজনীতির নামে নোংরামি শুরু করে বিজেপি সমর্থকরা; এমনটাই অভিযোগ বামেদের।

কয়েকদিন আগেই রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে; বাংলায় এসেছেন জগদীপ ধনখড়। মূলত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বাস্থ্যের খবর নিতেই; রাজভবন থেকেই পাম অ্যাভিনিউয়ে সস্ত্রীক এসে হাজির হন তিনি। সাক্ষাৎ যে কেবলই সৌজন্য মূলক ছিল তা তিনি জানান সাংবাদিকদের।

এরপরই সেই ছবি ঘুরে বেড়ায় নেট দুনিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল; বুদ্ধদেবের নিজের ঘরের কিছু অংশ। একজন সাধারণ বাঙালি মধ্যবিত্তের ঘরের মত; সেই ঘরেও আছে রবীন্দ্রনাথ সহ বহু মনীষীদের ছবি। আছে বিখ্যাত অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের ছবিও।

বিতর্ক শুরু হয় চার্লি চ্যাপলিনের ছবি নিয়ে। কিছু গেরুয়া সমর্থক ওই ছবিকে; কালী ঠাকুরের ছবি বলে নোংরা কটূক্তিও করতে দেখা যায়। বাদ যাননি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বুর্জোয়া কবি’ও বলা হয়।

ওই ছবি খুঁটিয়ে দেখলেই; চোখে পরে গেরুয়া সমর্থকদের অশিক্ষার নমুনা; বলছে রাজনৈতিক মহল। স্পষ্টভাবে বোঝা যায় মা কালী নয়; বরং সত্যিই চার্লি চ্যাপলিনের ছবিই আছে; বুদ্ধদেবের ঘরের দেওয়ালে। অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকরা; নোবেল জয়ী কবিকে নিয়ে কুৎসা ছড়াতে থাকলে; থেমে থাকেনি বাম ও সাধারণ বাঙালিও। বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ওঠে নেট দুনিয়া জুড়ে।

এখানেই শেষ নয়; মৃত্যু কামনাও করেছে তাঁর অনেকেই। এক জনৈক বিজেপি সমর্থকের মতে; মারা যাওয়ার আগে সবাই অসুস্থ হন, এ আর নতুন কথা কি! বলাই বাহুল্য, নন্দীগ্রাম নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বহু চেষ্টা করেও; “সাদা ধুতিতে রক্তের দাগ” লাগাতে পারেননি। সাম্প্রতিকালে ক্লিন চিট দিয়েছে তদন্তকারী কমিটি। মনে করিয়ে দিয়েছে; রাজনৈতিক মহল।

তাই সেই ধারা বজায় রেখে; বুদ্ধকে বদনাম করতে; তৃণমূলের পর এবার এগিয়ে এল গেরুয়া শিবির; এমনটাই অভিযোগ বাম শিবিরের। সবমিলিয়ে ফের খবরের শিরনামে ব্র্যান্ড বুদ্ধ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন