‘শান্তির ধর্মে’ এত অশান্তি কেন, আইএস তালিবান কোপে শৈশব

618
'শান্তির ধর্মে' এত অশান্তি কেন, আইএস তালিবান কোপে শৈশব
'শান্তির ধর্মে' এত অশান্তি কেন, আইএস তালিবান কোপে শৈশব

মানব গুহ, কলকাতাঃ ‘শান্তির ধর্মে’ এত অশান্তি কেন; আইএস তালিবান কোপে শৈশব। ইসলামের উদ্দেশ্য ইহকালীন শান্তি; ও পরকালীন মুক্তি। ইসলামি জীবনাদর্শ; বিশ্বের সব মানুষের জন্য। ইসলামের লক্ষ্য হলো; মানুষের সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ; ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা। ইসলামি বিধিবিধানের মূল লক্ষ্য, মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা; এবং যাবতীয় অকল্যাণ ও ক্ষতিকর দিক থেকে মানবসমাজকে রক্ষা করা। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে; ঠিক উল্টোটা হয় কেন? কেন ইসলাম আজ বিশ্বের; সবচেয়ে বড় আতঙ্কের কারণ? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; পৃথিবীর সব দেশের মানুষের কাছে।

তুরস্ক সৈকতে মৃত, সিরিয়ার শিশু আয়লান কুর্দি থেকে; আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে পরিত্যাক্ত কন্যাশিশু। শৈশব আজ সন্ত্রাসের কবলে। সিরিয়ায় আইএস, আফগানিস্তানে তালিবান; সবচেয়ে সমস্যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশুরা। রাষ্ট্রসংঘের তরফে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে; আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করতেই; তালিবান-আফগান সেনা সংঘর্ষে বিগত কয়েকদিনে; আফগানিস্তানে ১০০র বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। গত একদশকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে; অনাথ হওয়া বাচ্চার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের শিশুদের এই হাল; যা থেকে সন্ত্রাসবাদ ও শিশুদের যন্ত্রণার ছবিটা; অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ তালিবানের পরের টার্গেট কি পাকিস্তান, পরমাণু বোমা তালিবানের হাতে গেলে কি হবে চিন্তায় বিশ্ব

অথচ ইসলাম সব জাতির সঙ্গেই; বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ইসলাম সবার সঙ্গে ন্যায়পরতা; সুবিচার ও সুন্দর আচরণ করার শিক্ষা দেয়। ইসলামি শরিয়াহ বিশ্বব্যাপী মানবভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে; যুদ্ধ সংঘটনের কারণ দূর করতে চায়। ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যনীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে; মানবভ্রাতৃত্বের নীতিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে; সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হলে যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যায়। মানবভ্রাতৃত্বের পাশাপাশি ইসলাম বিশ্বাসের ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে; বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো হয় কেন? সন্ত্রাসবাদের বড় ধরণের ঝুঁকি আর আধুনিক দাসত্বের সূচকে; পাকিস্তান আফগানিস্তান সিরিয়া ইরাক ও বাংলাদেশের অবস্থা খুব খারাপ কেন? কেন শান্তির ধর্মের বাণী; অশান্তির পরিহাস হয়েই র‍য়ে যায়? শুধু সিরিয়া ও আফগানিস্তানের অবস্থাই; গোটা বিশ্বকে চমকে দেয়। মারছে মুসলিম, মরছে মুসলিম; তা দেখে সমর্থনও করছে বেশ কিছু মুসলিম দেশ ও গোটা বিশ্বের মুসলিম মানুষরা! শান্তির ধর্মে শান্তির বাণী; উধাও কেন?

আরও পড়ুনঃ “ভারতে থাকা যায় না” বলেছিলেন বুদ্ধিজীবীরা, ‘ভারতই নিরাপদ” বলছেন আফগানরা

নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস
শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস
বিদায় নেবার আগে তাই
ডাক দিয়ে যাই
দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে
প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্ন সফল হয় কিনা; সেটাই এখন দেখার। গোটা বিশ্ব চুপ করে এখন দেখছে; বিশ্ব জুড়ে অশান্তির এই ঝড়। কবে এই অশান্তির ঝড় থামে; শান্তির ধর্মে কবে শান্তি ফেরে; ততদিন পৃথিবী সুস্থ থাকবে কিনা; এইসব প্রশ্নই এখন বিশ্বের মানুষের মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন