বৈঠকের পরেও গালওয়ান থেকে সরে নি বিশ্বাসঘাতক চিন, ধরা পরে গেল উপগ্রহে

3527
বৈঠকের পরেও গালওয়ান থেকে সরে নি চিন, ধরা পরে গেল উপগ্রহে
বৈঠকের পরেও গালওয়ান থেকে সরে নি চিন, ধরা পরে গেল উপগ্রহে

বৈঠকে চুক্তির পরেও; গালওয়ান থেকে সরে নি চিন; ধরা পরে গেল উপগ্রহ চিত্রে। পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায়; গত ১৫ জুন ভারত ও চিন সেনাদের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষ এলাকা থেকেই সরে নি চিনিরা। শুধু তাই নয়, সংঘর্ষস্থলের কাছে বড় মাপের নির্মাণ কাজ; এখনও রেখে দেবার ছবি ধরা পড়ল স্যাটেলাইট চিত্রে। বিষয়টি সামনে এল এমন সময়; যখন দুদিন আগেই ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে; সেনা সরাতে রাজি হয়েছে দুদেশই। বৈঠকে চুক্তির কিছুই মানে নি চিন; উলটে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায়; প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক গতিবিধি আরও বাড়াল চিন।

উপগ্রহ চিত্রে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে; চিনের তরফে বাড়ানো হয়েছে সৈন্য সমাবেশ; সাঁজোয়া গাড়ি, মাটি খননকারী যন্ত্র। গত ২২ জুনের উপগ্রহ চিত্রে; সেই বিষয়টি ধরা পড়েছে। একই কথা জানিয়েছেন দুই সেনা আধিকারিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান; প্যাট্রোলিং পয়েন্ট-১৪-র কছে একটি নতুন এবং বড় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। খুব সম্ভবত, সেটি একটি নজরদারি পোস্ট। যে এলাকার কাছে গত ১৫ জুন; ভারতীয় এবং চিনা সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ এটা ৬২র ভারত নয়, লাদাখে চিন সীমান্তে কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল বসাল ভারত

গালওয়ান নদী উপত্যকায় পেট্রোল পয়েন্ট ১৪-এ; চিনের কেবল একটি তাঁবু ছিল। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে; সেই এলাকায় রীতিমতো কাঠামো তৈরি করে; সেনাঘাঁটি বানিয়ে ফেলেছে চিন। বুলডোজার, মাটি সরানোর যন্ত্র ব্যবহার করে; পাহাড়ের দেয়াল কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। তৈরি হয়েছে সেনাবাহিনী থাকার জায়গা। বসেছে ভারী অস্ত্রশস্ত্র। পেট্রোল পয়েন্ট ১৪ পর্যন্ত; যেন দ্রুত পৌঁছানো যায়; সেজন্য নদীর উপরে বানানো হয়েছে কালভার্ট। দুপক্ষের বৈঠকের পরেও; তাতে কোনো ছেদ পড়েনি।

আরও পড়ুনঃ ভারতের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়ে, নেপালের ৩৩ হেক্টর জমি দখল করল চিন

মার্কিন সংস্থা ম্যাক্সার টেকনোলজিস, যে উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে; তাতে স্পষ্ট যে শুধু গালওয়ান উপত্যকায় নয়; অন্যান্য জায়গাতেও ক্রমশ সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চিন। যেদিন এই ছবি ধরা পড়েছে; সেদিনই মলডোয় ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করেছিলেন; দুদেশের সেনা কম্য়ান্ডাররা। সেখানে পারস্পরিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে; সেনা সরানোর বিষয়ে রাজি হয়েছে দু’দেশই। ফলে চিনের এই দ্বিমুখী নীতি; এবার প্রকাশ্যে চলে এল বলেই মনে করছে ভারত।

নদীখাতে স্পষ্টভাবে অসংখ্য তাঁবু, সাঁজোয়া গাড়ি; ভারী ট্রাক এবং বুলডোজার দেখা যাচ্ছে। রাস্তা নির্মাণও করা হচ্ছে। চিনা সেনার অবস্থান; একেবারে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার উপর। ডেসপ্যাং, গোগরা পোস্ট, হট স্প্রিং এবং প্যাংগং সো লেক জায়গাতেও; সৈন্য সমাবেশ কমেনি। চিনের এলাকা থেকে গোগরা পোস্ট-হট স্প্রিং সেক্টর এবং ডেসপ্যাংয়ে; পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সাঁজোয়া গাড়ি এবং আর্টিলারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন