বিচারব্যবস্থার লজ্জা, দুর্নীতির দায়ে হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত

239
বিচারব্যবস্থার লজ্জা, দুর্নীতির দায়ে হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত/The News বাংলা
বিচারব্যবস্থার লজ্জা, দুর্নীতির দায়ে হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত/The News বাংলা

একদিকে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের ঘটনা যখন দেশের বিচায়ব্যবস্থায় প্রশ্ন তোলে; অন্যদিকে সেই প্রশ্নে শিলমোহর লাগায় এলহাবাদ হাইকোর্ট। ইতিহাসে প্রথম; দেশের কোনও হাইকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত করবে; কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। এই তদন্তের অনুমতি দিয়েছেন; সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। বিচারপতিদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সিবিআই-কে; বিচারপতি শুক্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় এফআইআর দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন।

শীর্ষ আদালতের অনুমতি নিয়েই; এবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই তদন্ত করবে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি এসএন শুক্লার বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালে অন্যায় ভাবে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করেন তিনি।

লখনউয়ের জিসিআরজি ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে; ২০১৭-১৮ সালের শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভিযোগ ছিল; সেখানকার পরিকাঠামো নিম্নমানের এবং প্রয়োজনীয় শর্তও পালন করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে দিল উন্নাও এর ঘটনা

কিন্তু এই ঘটনায়; মেডিকেল কলেজটিকে ছাত্র ভর্তিতে সাহায্য করেন বিচারপতি শুক্লা। পরবর্তীকালে এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বিচাপতিদের প্যানেল; দোষী সাব্যস্ত করেছে বিচারপতি শুক্লাকে।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যায়নি। কারণ শীর্ষ আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মরত বিচারপতি বা বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায় না। সেকারণেই সিবিআই এই মামলায় বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে লিখিত আবেদন জানিয়েছিল।

শীর্ষ আদালতের আগের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন অথবা আগাম অবসব নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি এসএন শুক্লা। শেষে ২০১৮ সালে বিচার সংক্রান্ত সব রকম কাজ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় তাঁকে।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নিজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে শুক্লকে ‘ইমপিচ’ করার জন্য সংসদে প্রস্তাব দিতে বলেছিলেন। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী; লখনউয়ের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ছাত্র ভর্তির মামলায়; এসএন শুক্লা নাকি শীর্ষ আদালতের জারি করা নির্দেশ অমান্য করেই নিজের নির্দেশ বহাল রেখেছিলেন। হাতে লিখে সেই সুপ্রিম নির্দেশ বদল করেছিলেন। পরে সেই মেডিকেল কলেজকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন