চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে কথা রাখেন নি মমতা

1536
চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে কথা রাখেন নি মমতা/The News বাংলা
চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে কথা রাখেন নি মমতা/The News বাংলা

চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে কথা রাখেন নি মমতা। বন্দুক ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলে; চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মত কাজও হয়েছে; উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায়। কিন্তু মালদায় কেএলও(কামতাপুর লিবারেশন অফ অর্গানাইজেশন) সংগঠন ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরেছেন; প্রায় ৫০ জন সদস্য। 

এখন তারা কর্মসংস্থানের জন্য হন্যে হয়ে; পুলিশ ও প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ওই সংগঠনের প্রায় ৫০ জন সদস্যরা মালদার পুলিশ সুপার অফিসে এসে; তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন তৃণমূল নেতার কীর্তি ফাঁস, পঞ্চায়েত অফিসেই গৃহবধূর শ্লীলতাহানি</strong>

ওই সংগঠন ছেড়ে আসা অধিকাংশের বাড়ি হবিবপুর এবং বামনগোলা থানা এলাকায়। ওই সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য; রাজ্য সরকার বলেছিলো বন্দুক ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুন। তাহলে সকলকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সেই মতো জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলায় কেএলও সংগঠন ছেড়ে আসা বেশ কিছু সদস্যরা; হোম গার্ডের চাকরি পেয়েছেন।কিন্তু মালদার ক্ষেত্রে কোনওরকম চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। কাজ নেই; সংসারের অভাব; আর চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিন কাটছে; ওই সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যদের।

তাই এদিন কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে; কেএলও সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যরা পুলিশ সুপারের অফিসে গিয়ে; তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়ার কোনও প্রতিক্রিয়া মিলে নি। তবে জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন; রাজ্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কর্মসংস্থানের বিষয়ে কোন অর্ডার আসলেই কাজ হবে। এদিন পুলিশ সুপার অফিসে কেএলও জঙ্গি সংগঠন ছেড়ে আসা এক সদস্য প্রকাশ বর্মন বলেন; বিগত দিনে আমাকে কেএলও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারপর প্রায় দেড় বছর জেল খেটেছি। পরে জামিনে মুক্তি পাই। 

রাজ্য সরকার বলেছিল; এই সংগঠন ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু ২০১৬ সালের পর কেটে গিয়েছে; তিন বছর। এখনো পর্যন্ত আমরা কোন কাজ পাই নি। প্রায় দিনই পুলিশ ও প্রশাসনের দুয়ারে কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যদি কাজ না পায়; তাহলে আবার আমাদের বন্দুক ধরতে হবে। ফিরে যেতে হবে সেই অন্ধকার জগতে।

ওই সংগঠন ছেড়ে আসা আরও; দুই সদস্য সুকুমার রায় ও সৌমেন সরকার বলেন; মালদায় কেএলও সংগঠনের যারা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন; আমাদের কাজ দিবে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও; এখনো কাজ পায় নি কেউই।

পুলিশ ও প্রশাসনের দুয়ারে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু নতুন করে; কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হচ্ছে না। অথচ উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের এই সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যরা হোমগার্ডে চাকরি পেয়েছেন। আমরা কাজ পাচ্ছি না।

কর্মসংস্থানের অভাবের সংসার নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। যদি কাজ না পাই তাহলে; পেটের তাগিদে আবার আমাদের বন্দুক ধরতে হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। একথা ওই দিন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের দাবিতে কেএলও সংগঠন ছেড়ে আসা সদস্যরা বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার অফিসে ডেপুটেশন দিয়ে ফিরছেন। কথা কি রাখবেন মমতা? এটাই এখন তাদের কাছে বড় প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন