জন্মদিনে কমরেড জ্যোতি বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জীবনের কিছু অজানা তথ্য

177
জন্মদিনে জ্যোতি বসুর জীবনের অজানা তথ্য/The News বাংলা
জন্মদিনে জ্যোতি বসুর জীবনের অজানা তথ্য/The News বাংলা

ব্যারিস্টার হয়েও আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নেননি; সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মুখের ওপর বলেছিলেন; ‘অসভ্য বর্বর’। টানা দুই যুগ ১৯৭৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন; সেই কমরেড জ্যোতি বসুর জন্মদিন ৮ই জুলাই।

রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ করেছেন বহুবার। মৃত্যুর আগেই স্বেচ্ছায় দুই চোখ এবং দেহ দান করে গেছেন। ত্যাগী, সংগ্রামী এই ব্যক্তির পুরো নাম জ্যোতিরিন্দ্র বসু। সবার কাছে পরিচিত জ্যোতি বসু নামে।

১৯১৪ সালের ৮ই জুলাই কলকাতার হ্যারিসন রোডে (বর্তমানে মহাত্মা গান্ধী) জন্ম নেন এই বিখ্যাত রাজনীতিবিদ। পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের সোনারগাঁর বারদীতে। ছোটবেলার কিছুদিন কেটেছিল সেখানেই।

আরও পড়ুনঃ Exclusive: অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠই কি হবেন নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি

নিশিকান্ত বসু ও হেমতলা বসুর তৃতীয় সন্তান; জ্যোতি ছবছর বয়সে ধর্মতলার লরেটো স্কুলে ভর্তি হন। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশুনা শেষ করে; ১৯৩৫ সালে আইনে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। লন্ডনে ভারতীয় ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা; ‘লন্ডন মজলিশ’-এর তিনি ছিলেন প্রথম সম্পাদক।

কমিউনিস্ট দার্শনিক ও লেখক রজনীপাম দত্তের আদর্শে; অনুপ্রাণিত হন লন্ডনে থাকাকালিনই। ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে; ১৯৪০ সালে দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ নেন। দেশভাগের পর; পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন জ্যোতি বসু।

১৯৭৭ সালের ২১ জুন; শপথ নেন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত; তিনি সিপিআইএম দলের পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গোটা দেশের সামনে সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে; উজ্জ্বল ও ব্যাতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গ।

১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে; তাঁর নাম বিবেচনা করে বিরোধী ঐক্য। কিন্তু বামফ্রন্ট সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। যা বাঙালিরা ও জ্যোতি বসু নিজেও ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন; জ্যোতিবাবু পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক ও বিভেদপন্থার রাজনীতির আঁচ পরতে দেননি।

জ্যোতিবাবু বলতেন; “রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে কখনও মেশাতে নেই। দুটো মিশে গেলেই মানুষের সর্বনাশ। সংবিধানে আছে; ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তার জন্য আমাদের গর্বিত থাকা উচিত”। কমিউনিস্ট ভাবাদর্শের অনুসারী জ্যোতি বসু আজীবন সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি; মহান এই নেতা মারা যান।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন