সংকটে কর্ণাটকের জোট সরকার, প্রস্তুতিপর্ব শুরু গেরুয়া শিবিরে

139
সংকটে কর্ণাটকের জোটসরকার, প্রস্তুতিপর্ব শুরু গেরুয়া শিবিরে/The News বাংলা
সংকটে কর্ণাটকের জোটসরকার, প্রস্তুতিপর্ব শুরু গেরুয়া শিবিরে/The News বাংলা

সংকটের মুখে কর্ণাটকের কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার। জোট রক্ষায় মরিয়া চেষ্টায় কংগ্রেস এবং জেডিএস সরকার। সমঝোতা সূত্র হিসেবে; বিদ্রোহী বিধায়কদের মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দিল দু’দল। এছাড়া; নিজেদের এলাকার উন্নয়নের জন্য; ‘পর্যাপ্ত অর্থ’ বরাদ্দ করা হবে বলেও নেতৃত্বরা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও বিদ্রোহীরা; তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

শনিবার ১০ কংগ্রেস এবং ৩ জেডিএস বিধায়ক স্পিকারের কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর তাঁরা দেখা করেন রাজ্যপাল ভাজুভাই ভালার সঙ্গে। গত ১লা জুলাই কংগ্রেস বিধায়ক আনন্দ সিং পদত্যাগ করেছিলেন।

বিধায়কদের পদত্যাগের সময় স্পিকার উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান; এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী বিধানসভা বৈঠকে হবে। স্পিকারের সঙ্গে দেখা না হওয়ায়; বিদ্রোহী বিধায়কেরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন ওইদিন। তাঁর কাছেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রসঙ্গত; ওই ১৪ বিধায়ক শনিবারই ফ্লাইটে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন: উপকারিতা জেনে বাড়িতে মরসুমি ফুলের গাছ লাগান

জোট সরকারের ১৪ জন বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণ হলে; ২২৪ সদস্যের কংগ্রেস-জেডিএস জোট বিধানসভায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। আপাতত শাসকজোটের মোট বিধায়ক সংখ্যা ১১৮। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৭৮; জেডিএসের ৩৭ জন এবং বিএসপির ১ জন। সঙ্গে নির্দল ২ বিধায়ক। ইস্তফা গৃহীত হলে শাসকজোটের সংখ্যা কমে হবে ১০৪। অন্যদিকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১০৫।

অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই ব্যপারে কোন বিজেপি বিধায়ক মুখ খোলেননি। অন্যদিকে; ঘরোয়া বিদ্রোহের জেরে ব্যক্তিগত মার্কিন সফর বাতিল করেন কর্ণাটক মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার রাতেই বেঙ্গালুরুতে ফিরে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী। সোমবার রাজ্যমন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক টানা পড়েন এবং গেরুয়া বাহিনীর রাজ্যে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করাই এই বৈঠকের উদ্দেশ্য। বিদ্রোহীদের মন রাখতে মন্ত্রীসভার বদলের সম্ভাবনাও আছে বলে জানা যাচ্ছে।

গত বছর কর্ণাটকে একক গরিষ্ঠতা পেয়েও জোটসরকারের কাছে মাথানত করতে হয় বিজেপিকে। কিন্তু ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার মোদী সরকার আসায় জট বাড়তে থাকে শাসক মহলে। বর্তমানে ইস্তফার কারণে গেরুয়া শিবির এগিয়ে একটি আসনে। ১২ জুলাই কর্নাটক বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশন। রাজ্যে জোট সরকার থাকবে; নাকি গেরুয়া পতাকা উড়বে; আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে ওইদিন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন