২ মাস ধরে খুঁজে হয়রান পরিবার, কলকাতা মেডিক্যালের মর্গেই মিলল করোনা মৃতের দেহ

4390
২ মাস ধরে খুঁজে হয়রান পরিবার, কলকাতা মেডিক্যালের মর্গেই মিলল করোনা মৃতের দেহ
২ মাস ধরে খুঁজে হয়রান পরিবার, কলকাতা মেডিক্যালের মর্গেই মিলল করোনা মৃতের দেহ

খুঁজে হয়রান পরিবার, ২ মাস পরে কলকাতা মেডিক্যালের মর্গেই মিলল; করোনায় মৃতের দেহ। হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিল; করোনা রোগীর মৃতদেহ। দু মাস কেটে গেলেও; খোঁজ দিতে পারে নি কলকাতা মেডিক্যাল। প্রায় ২ মাস পর; সেই করোনায় মৃতের দেহ পাওয়া গেল, কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালের মর্গে। করোনা আবহে সবচেয়ে বেশি যদি কোনও হাসপাতালের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে; তা হল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু হোক; বা বেডের অভাবে চিকিৎসা পরিষেবার বিলম্বের কারণে রোগীর মৃত্যুমুখে ঢলে যাওয়া; খবরের শিরোণামে এক নাম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। এবার যা ঘটল, তাতে তো বাক্যরুদ্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া; কোনও উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ ইমাম ভাতা ২৫০০ পুরোহিত ভাতা ১০০০, দুই ধর্মে বৈষম্য কেন, উঠে গেল প্রশ্ন

হাসপাতালের মর্গ থেকে ধাপা; সেখান থেকে থানা। ফের থানা থেকে হাসপাতাল। পরিবারের সদস্যের দেহের সন্ধানে; এভাবেই এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটেছে; এয়ারপোর্ট এলাকার ঘোষ পরিবার। কিন্তু লাভ হয়নি। মৃত্যুর ২ মাস পর, অবশেষে মঙ্গলবার করোনায় মৃত; ওই ব্যক্তির দেহের সন্ধান পেলেন পরিবারের সদস্যরা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মর্গ থেকে; উদ্ধার হয়েছে প্রশান্ত ঘোষের দেহ। গোটা ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে; ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।

জুলাই মাসের শুরুতেই, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভরতি করা হয়; এয়ারপোর্ট ২ নম্বরের বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষকে। করোনার উপসর্গ থাকায়; তাঁর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট এলে জানা যায়; তিনি করোনা আক্রান্ত। এরপরই প্রশান্তবাবুর পরিবারের সদস্যদের; কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। ১৭ জুলাই মৃত্যু হয় প্রশান্তবাবুর। অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা কোয়ারেন্টাইন থেকে ফেরার পর; প্রশান্তবাবুর দেহের আর কোনও হদিশ পাননি।

আরও পড়ুনঃ “যেখানে ভোট কম, সেখানে সব সরকারি কাজ বন্ধ”, নির্দেশ তৃণমূল জেলা সভাপতির

একাধিকবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে; থানায়, শ্মশানে যান তাঁরা। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়; ধাপার মাঠে গিয়ে খোঁজ করতে। সেখানে জানানো প্রশান্ত ঘোষ নামে; কারও দেহ দাহ করা হয়নি। দেহ মর্গে পড়ে, নাকি দাহ হয়ে গিয়েছে; কেউ জানতে পারে নি। মেলেনি ডেথ সার্টিফিকেটও। অভিযোগ, থানা, হাসপাতাল থেকে করোনা মৃতদেহ দাহ করার শ্মশান; সর্বত্র হন্যে হয়ে ঘুরেও; কোনও তথ্য পাচ্ছিলেন মৃতের পরিবার।

শেষ পর্যন্ত, বউবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করে; মৃতের পরিবার। থানার তরফে ফের তাঁদের পাঠানো হয়; কলকাতা মেডিক্যালে। এরপর ওয়ার্ড মাস্টার, রেকর্ড রুম সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও; লাভের লাভ কিছুই হয়নি। অবশেষে সুপারের কাছে; লিখিত অভিযোগ করেন তাঁরা। এরপরই নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল। খোঁজ শুরু করতেই, ২ মাসের মাথায়; হাসপাতালের মর্গ থেকে মেলে প্রশান্তবাবুর দেহ। দেহ হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও, কেন রোগীর পরিবারকে; বারবার এভাবে হয়রানির শিকার হতে হল, সবার প্রশ্ন এটাই।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন