তৃণমূল নেতা ও পুলিশের দুর্নীতির খবর করে, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার সাংবাদিক

8357
তৃণমূল নেতা ও পুলিশের দুর্নীতির খবর করে, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার সাংবাদিক/The News বাংলা
তৃণমূল নেতা ও পুলিশের দুর্নীতির খবর করে, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার সাংবাদিক/The News বাংলা

তৃণমূল নেতা ও পুলিশের, একের পর দুর্নীতি প্রকাশ্যে এনে; এবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার সাংবাদিক। গ্রেফতার করা হয়েছে; আরামবাগ টিভি ইউটিউব চ্যানেলের সম্পাদক সেখ সফিকুল ইসলামকে। এর আগেও, ‘ভুয়ো খবর’ দেখানোর অভিযোগে মামলা হয়েছিল; সাংবাদিক সেখ সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এবছরের জুন মাসের শুরুতেই, সেই মামলায়; কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে; ওই সাংবাদিক-কে এখন গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ। এরপর ফের তোলাবাজির নতুন অভিযোগে; গ্রেফতার ওই সাংবাদিক।

শুধু আরামবাগ টিভি ইউটিউব চ্যানেলের সম্পাদক, সেখ সফিকুল ইসলাম-কেই নয়; গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী আলিমা বিবি; এবং আরামবাগ টিভির আর এক সাংবাদিক সুরজ আলি খান-কেও। এর আগেও বারবার হামলা হয়েছে; ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের উপর। তৃণমূল নেতাদের ও পুলিশের, একের পর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে; নিউজ করত ওই সাংবাদিক ও তার ইউটিউব চ্যানেল।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম ক্ষমতায় এনেছিল মমতাকে, সেই নন্দীগ্রামেও দুর্নীতি কি ডোবাবে তৃণমূলকে

করোনা লকডাউনের মধ্যেই; আরামবাগ থানা থেকে স্থানীয় ক্লাবগুলিকে; রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তার চেক বিলির ব্যবস্থা নেওয়া হয়; এবং লকডাউনের মধ্যে সেদিন রাজ্য সরকারের চেক নেওয়ার জন্য; আরামবাগ থানার সামনে ক্লাব কর্তাদের একটি লম্বা লাইন পড়ে। এই খবর তুলে ধরেছিল আরামবাগ টিভি। করোনা সংকট মুহূর্তেও রাজ্য প্রশাসন; কিভাবে লকডাউন উপেক্ষা করে; ক্লাবগুলিকে অর্থ সাহায্য করার কাজটিকে এতটা প্রাধান্য দিতে পারে? উঠে যায় প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, একটি ভুয়ো ক্লাবের নামেও; সরকারি সাহায্য নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তারপরেই, পুলিশ ও তৃণমূল নেতাদের চক্ষুশূল হয়ে পরে; ওই টিভির সম্পাদক শেখ সফিকুল ইসলাম; এমনটাই অভিযোগ।

খানাকুলে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের একটি দল; এলাকায় মিছিল বের করে এবং সেদিনই রাতে তার বাড়িতে বেশ কিছু দুষ্কৃতীদের একটি দল; চড়াও হয়ে তাঁকে শাসায় বলেই অভিযোগ ছিল। আরামবাগ থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে; ঐ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দুটি কেস করে। পরে প্রমাণ হয়ে যায়; ওইদিন আরামবাগ থানায়, সত্যি সরকারি সাহায্য বিলি করা হচ্ছিল। এর আগেও, পুলিশ কিভাবে মাঝরাতে গাড়ি থামিয়ে ঘুষ নেয়; তার ভিডিও প্রকাশ করে; পুলিশের মামলার মুখে পরেছিলেন ওই সাংবাদিক।

আরও পড়ুনঃ শাসক বদলেছে, বাংলার খেজুরি রয়েছে সেই সন্ত্রাসের মধ্যেই

আগের মামলায়, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক নির্দেশ দিয়েছিলেন; সফিকুলকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু ফের একটি নতুন এফআইআর দায়ের হয়; সফিকুল ও আরামবাগ টিভির সাংবাদিক সুরজের বিরুদ্ধে। তাতে বলা হয়, গাছ কাটা নিয়ে; এক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পুলিশকে বলেন; “সুরজ তাঁকে হুমকি দেন, ৩০ হাজার টাকা না দিলে গাছ কাটার খবর ফাঁস করে দেবেন!” তাঁর বক্তব্য, তিনি সুরজকে বলেছিলেন; পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছ কাটছেন। তাও টাকা চাওয়া হয়।

এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়; সাংবাদিক সেখ সফিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী আলিমা বিবি এবং আরামবাগ টিভির আর এক সাংবাদিক সুরজ আলি খান-কে। সফিকুলের দুটি শিশু সন্তানকেও; পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল; বলেই অভিযোগ করেন তাঁদের আইনজীবীরা। পরে তাদের ছাড়া হয়। সোমবার সফিকুলদের; আরামবাগ আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাঁদের সাতদিনের; পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ আমফান দুর্নীতি তদন্তে তৃণমূলের টাস্ক ফোর্সে রয়েছে অভিযুক্তই

স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ; সফিকুলের উপর পুলিশের রাগ অন্য কারণে। তাঁদের বক্তব্য, সম্প্রতি নদী থেকে বালি চুরির সঙ্গে, তৃণমূল নেতা ও প্রশাসনিক যোগের খবর; আরামবাগ টিভিতে দেখানো হয়েছিল। তারপর জেলাশাসক ব্যবস্থা নেন; আপাতত বন্ধ বেআইনি বালি তোলা। তাঁদের বক্তব্য, ওই ঘটনার পর তৃণমূল নেতাদের ও পুলিশের বেআইনি বালি তোলা থেকে; অবৈধ রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

যদিও, পুলিশের বক্তব্য, “যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; সবটাই আইন মেনে”। আরামবাগের শাসকদলের কোনও নেতা; এই নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চান নি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালাচোনা করলেন; রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। “সাংবাদিক-দের চুপ করিয়ে দিলে; গণতন্ত্র স্তব্ধ হয়ে যাবে”; মুখ্যমন্ত্রী মমতা-কে উদ্দেশ্য করে লেখেন রাজ্যপাল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন