আমফানের পর আসবে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ, তারপর গতি ও নিভার

16703
আমফানের পর আসবে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ, তারপর গতি ও নিভার
আমফানের পর আসবে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ, তারপর গতি ও নিভার

আমফানের পর আসছে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ। না, এখনই আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই। মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার; সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। সমস্ত দেশের কাছ থেকে ঝড়ের নাম চাওয়া হয়। তার থেকে দেশ প্রতিদেশের ৮টি করে নাম বাছাই করে; মোট ৬৪টি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। সেই তালিকায় শেষ নাম ছিল ‘আমফান’। আমফানের পর যে ঘূর্ণিঝড় টি আসবে; তার নাম হবে নিস্বর্গ।

রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না, বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে

২০১৮ সালে ওই আটটি দেশের সঙ্গে; যোগ করা হয় আরও ৭টি দেশকে। মোট ১৩টি দেশের থেকে চাওয়া হয় নতুন নাম। দেশ পিছু ১৩টি করে নাম নিয়ে; তৈরি হয় ১৬৯টি ঝড়ের নামের তালিকা। সেই তালিকা অনুসারে; আমফানের পরবর্তী ঝড়ের নাম হবে ‘নিস্বর্গ’। এই নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। তার পরের ঝড়টির নাম হবে; ‘গতি’ (ভারত) ও তার পরের ঝড়টির নাম হবে নিভার (ইরান)।

মমতার হাতে টাকা দেবেন না, একই দাবি মমতা করেছিলেন বামেদের বিরুদ্ধে

একের পর এক বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ের ‘আঁতুরঘর’; হচ্ছে বঙ্গোপসাগর। ‘ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড‌’ নামে একটি ওয়েবসাইটে; বিশ্বের ৩৬টি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা রয়েছে। যার ২৬টি-র জন্মই বঙ্গোপসাগরে। কেন এই সাগরে এত ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় ?

দরাজ প্রধানমন্ত্রী মোদী, ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ

আয়লা, বুলবুল, ফণী, আমফান…….একের পর এক ঘুর্ণিঝড় উঠে এসেছে বঙ্গোপসাগর থেকে। তুলনামূলক ভাবে আরবসাগর, ভারত মহাসাগরের তুলনায়; বঙ্গোপসাগর থেকে অনেক বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ধেয়ে আসে ভারতের স্থলভাগে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের ইতিহাসে প্রতি দশটি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে; ৮টি সৃষ্টি হয় বঙ্গোপসাগরে ৷ ইতিহাসের ৩৬ টি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে; ২৬ টিরই জন্মস্থান বঙ্গোপসাগরে ৷

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীকে, কানে কানে কথা রাজ্যপালের সঙ্গে

ভূতাত্ত্বিকদের মত, বঙ্গোপসাগরের ত্রিভুজাকৃতি ও অগভীর তলদেশই; ঘূর্ণিঝড় তৈরির আসল কারণ। বঙ্গোপসাগরের জলতলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ঘূর্ণিঝড় তৈরির আদর্শ। সারাবছর বঙ্গোপসাগরের জলতলের তাপমাত্রা থাকে; প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কাছাকাছি। ক্রমাগত বৃষ্টি ধরে রাখে আর্দ্রতা। ফলে নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় এবং ঘূর্ণিঝড় থেকে মহাঘূর্ণিঝড়ে; পরিণত হতে বেশি সময় লাগে না ৷

আমফান ক্ষতি দেখতে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ঝড়ের নামকরণের সময়; দেশগুলিকে যে সব বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হয়-
১) ঝড়ের নাম যাতে কোনওভাবেই; কোনও অনুভূতিকে আঘাত না করে।
২) ঝড়ের নাম লিঙ্গ, রাজনীতি, ধর্ম এবং সংস্কৃতি নিরপেক্ষ হতে হবে।
৩) ঝড়ের নাম হবে সংক্ষিপ্ত। ৮ বর্ণের মধ্যেই হওয়া চাই। আর যাতে সহজে উচ্চারণ করা যায়।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী; পরবর্তী ঘূর্ণীঝড়গুলির নাম হল; নিসর্গ (বাংলাদেশ প্রস্তাবিত); গতি (ভারত প্রস্তাবিত); নিভার (ইরান প্রস্তাবিত), বুরেভি (মালদ্বীপ প্রস্তাবিত); তৌকতাই (মায়ানমার প্রস্তাবিত) এবং ইয়াস (ওমান প্রস্তাবিত)।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন