‘ডিকো ফ্লেয়ারস’ হয়ে গেল ‘তালিবানি হামলা’, বাংলা মিডিয়ায় শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাক দিনদিন বাড়ছে

960
'ডিকো ফ্লেয়ার' হয়ে গেল 'তালিবানি হামলা', বাংলা মিডিয়ায় শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাক দিনদিন বাড়ছে
'ডিকো ফ্লেয়ার' হয়ে গেল 'তালিবানি হামলা', বাংলা মিডিয়ায় শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাক দিনদিন বাড়ছে

‘ডিকো ফ্লেয়ারস’ হয়ে গেল ‘তালিবানি হামলা’; বাংলা মিডিয়ায় শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাকটা দিনদিন বাড়ছে। সোমবার সারাদিন বাংলার সংবাদমাধ্যম দেখিয়ে গেল; কাবুল বিমানবন্দর থেকে ওড়ার সময়; ফ্রান্সের একটি বিমানে মর্টার হামলা করেছে তালিবানরা। অথচ এতবড় ঘটনা ঘটলেও, গোটা বিশ্বের মিডিয়াতে; কোন খবরই নেই। সেটা আবার হয় নাকি! আর যাদের সামান্য পড়াশোনা আছে; তারা জানেন উড়ন্ত বিমানে, আর যাই হোক; মর্টার হামলা করা যায় না। তাহলে বাংলার মিডিয়া, ফ্রান্সের বিমানে; তালিবানি হামলার ঘটনা দেখাল কি করে!?

ওই যে বললাম; শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাক। আসলে ফ্রান্সের কার্গো বিমান (French A400 M cargo plane) ব্যবহার করেছে; ডিকয় ফ্লেয়ারস বা ডিকো ফ্লেয়ারস। সেটা কি? আসলে কোন যুদ্ধের সময় বা কোন অশান্তির সময়ে; রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে; বিমানবন্দর থেকে বিমান ওড়ার সময়; ডিকো ফ্লেয়ারস ছাড়ে বিমানগুলি। ইনফ্রারেড হোমিং বা ‘তাপ-সন্ধানী’ ক্ষেপণাস্ত্র; মোকাবিলা করার জন্য এই ডিকো ফ্লেয়ার ছাড়া হয়।

আরও পড়ুনঃ পঞ্জশির দখলের স্বপ্নে জল ঢালল মাসুদ ও সালেহ বাহিনী, বিদ্রোহীদের হাতে খতম ৩০০ তালিবান

তালিবান রকেট হামলা থেকে বাঁচতে; এদিন ডিকো ফ্লেয়ার ছাড়ল ফ্রান্সের বিমান। ইনফ্রারেড হোমিং বা ‘তাপ-সন্ধানী’ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করার জন্যই; এই ডিকো ফ্লেয়ার ছাড়া হয়। এই ফ্লেয়ারগুলিতে ম্যাগনেসিয়াম ১০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি জ্বলে; ফলে বিমানের ইঞ্জিন নিষ্কাশনের চেয়ে বেশি গরম হয়; যা তাপ আকর্ষণ ক্ষেপণাস্ত্রকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়; অক্ষত থাকে বিমান।

আরও পড়ুনঃ কাবুলিওয়ালাকে বিয়ে করে ধর্ম পাল্টে সঙ্ঘামিত্রা হন সোনা খান, এবার ফিরতে চান ভারতে

অনেকটাই আমাদের; উৎসবের রংমশালের মতন। এই ফ্লেয়ারগুলিতে, ম্যাগনেসিয়াম ১০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি তাপে জ্বলে; ফলে বিমানের ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি গরম হয়; যা তাপ আকর্ষণ ক্ষেপণাস্ত্র বা হিট টার্গেটেড ক্ষেপণাস্ত্রকে; বিমানের পাশ থেকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। অক্ষত অবস্থায়; উড়ে যায় বিমান। ফ্রান্সের কার্গো বিমান আজ সেই কাজটিই করেছে; যে ছবি দেখিয়ে বাংলা টিভি মাধ্যম বলছে; ফ্রান্সের বিমানে তালিবানি হামলা। বুঝুন অবস্থাটা!

মানুষকে কতটা ভুল খবর; দেওয়া হচ্ছে। ওই যে বললাম; শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের ফারাক। এবং দাদা-দিদি ধরে নিউজ চ্যানেলে ঢুকে পরলে যা হয়; বাংলার মিডিয়ায় এখন ঠিক তাই হচ্ছে। দুদিন আগে দেখলেন না ; একটি বাংলা নিউজ চ্যানেল বেমালুম দেখিয়ে দিল; মার্কিন বিমানের পাখায়, চাদর বালিশ নিয়ে; আরাম করে শুয়ে যাচ্ছেন এক আফগান নাগরিক। ওই একই অবস্থা; হাঁটুজলে সাঁতার কাটার মতন। দাদা ধরে চ্যানেলে ঢুকে পরলে; যা হয় আর কি। আর এই সব কারণে বাংলা মিডিয়া এখন; মানুষের হাসির খোরাক। তাই আপনারা ঠিক করুন; কোনটা দেখবেন আর কোনটা দেখবেন না? সবকিছুই আপনাদের হাতে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন