দায়িত্ব নিয়ে গোটা ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

26505
দায়িত্ব নিয়ে গোটা ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল
দায়িত্ব নিয়ে গোটা ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

গল্প মনে হলেও সত্যি। দায়িত্ব নিয়ে গোটা ভারতে করোনা ভাইরাস; ছড়িয়ে দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রথমে, দেশ জুড়ে লক ডাউনের মধ্যেই; দিল্লি থেকে লাখ লাখ অন্য রাজ্যের কর্মী শ্রমিককে; নিজের রাজ্যে ফিরে যেতে বাধ্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। তারপর দিল্লির নিজামউদ্দিন কাণ্ড প্রকাশ্যে আসায়; গোটা দেশে সমালোচনার মুখে মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। কেন এমন উদাসীন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল? সবটাই কি মোদী সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য? না, নিজের গদি বাঁচানোর জন্য? মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল এর উদাসীনতায়; চরম বিপদে গোটা ভারত।

দিল্লিতে কাজ করতে আসেন; দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মী ও শ্রমিকরা। লক ডাউনে সব বন্ধ হয়ে যাবার পরেও; এই লাখ লাখ কর্মী ও শ্রমিকদের নিয়ে কিছুই ভাবে নি দিল্লি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। নিজেদের রাজ্যে ফেরার জন্য; দিল্লির আনন্দ বিহার বাস স্ট্যান্ডে ভিড় করেন; হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা ভাইরাস বা COVID-19 মোকাবিলায়; যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই মূল কাজ; তখন আনন্দ বিহারের এই দৃশ্য দেখে কার্যত শিউরে ওঠে দেশবাসী। একদিকে যখন দেশে হুহু করে বাড়ছে; করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। তখন চিকিৎসকরা বারবার বলছে; ভিড় না করার কথা। সেখানে ভিড় করে দাঁড়িয়ে; এত হাজার হাজার মানুষ; ফলে স্বাভাবিক ভাবেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

তবে দিল্লির বাস স্ট্যান্ডের ঘটনাকেও ছাপিয়ে গেল; দিল্লির নিজামউদ্দিন কাণ্ড। লক ডাউন ঘোষণার পরেও; সোমবার সেখান থেকে বের করা হয় প্রায় ১৪০০ মুসলিম ধর্মের মানুষকে। আতঙ্কের মূলে রয়েছে তবলিঘি জামাত নামে; একটি মুসলিম ধর্মীয় সংগঠনের জমায়েত। মার্চ মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলা সেই জমায়েতে; দেশ-বিদেশের ২০০০-এর বেশি প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। হাজির ছিলেন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবের অনেকও। সেই সময় দেশজুড়ে লকডাউন শুরু না হলেও; ততদিনে ভারতে করোনার প্রকোপের প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে। ফলে বড় জমায়েত এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সরকারিভাবে গত ১৬ মার্চ থেকে; যে কোনও ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তখনও নিজামউদ্দিনের জমায়েত ঘিরে; তেমন কোনও তৎপরতা শুরু হয়নি। প্রশাসনিক আধিকারিককরা জানিয়েছেন; একাধিক ছোটো ছোটো জমায়েত হয় জামাতের সদর দফতরে। সেখানে কমপক্ষে ২,৫০০ জনের; থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। লক ডাউনের পরেও; সেখানে ছিল কয়েকশো মানুষ। আর বাকিরা করোনা ভাইরাস নিয়ে; ছড়িয়ে পরে গোটা দেশে। ইতিমধ্যেই এখানে যোগ দেওয়া; ১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ৪০ জন। গোটা সময়েই চুপ করে ছিল; দিল্লির কেজরি সরকার।

কেজরি সরকারের এই চরম উদাসীনতায়; আজ গোটা দেশ এখন বিপদের মুখে। কেন এমন করলেন; বুদ্ধিমান মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল? মোদীকে বিপদে ফেলতে গিয়ে কি; গোটা দেশের মানুষকেই বিপদে ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল? ঘটনা কিন্তু তাই বলছে। এর জন্য গোটা দেশের মানুষের কাছে; জবাবদিহি করতে হবে মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন