কি করে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা, রোগীর যত্ন নেবেন কিভাবে

569
কি করে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা, রোগীর যত্ন নেবেন কিভাবে/The News বাংলা
কি করে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা, রোগীর যত্ন নেবেন কিভাবে/The News বাংলা

গোটা রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপে জেরবার মানুষ। সামান্য জ্বর হলেও; আর অবহেলা করতে বারন করছে ডাক্তাররা। কি করে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা; কি করবেন তারপর? আসুন জেনে নিন, ডেঙ্গি নিয়ে কিছু জরুরী কথা।

কি করে বুঝবেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনাঃ

২ থেকে ৭ দিনের আকস্মিক জ্বরের সঙ্গে; চোখের পিছনে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা; পেশীতে ব্যথা; মাথাব্যথা, শরীরের কোথাও রক্তক্ষরণ বা লালচে র‍্যাস এই লক্ষণগুলির মধ্যে অন্ততঃ যে কোনো দুটি থাকলে তা সম্ভাব্য ডেঙ্গু বলে ধরতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর অল্প, র‍্যাস বেশী হতে পারে। শিশু ও অল্পবয়সীদের হেমারেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক্ সিন্ড্রোমের আশঙ্কা বেশী।

লক্ষণ দেখা দিলে কি করণীয়ঃ

অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান; তিনি আপনাকে রক্ত পরীক্ষা করতে বলবেন। rapid kit-এ পরীক্ষা করাবেন না, কারণ এর রেজাল্ট সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য নয়। ELISA পদ্ধতিতে রক্তপরীক্ষা করুন কোনো স্বীকৃত ল্যাবরেটরি থেকে। আপনার জ্বর যদি চার-পাঁচ দিনের বেশী না হয়, NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট করাতে হবে। ডেঙ্গির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গি আপনা থেকেই সেরে যায়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

আপনার নিজের বা প্রিয়জনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষতঃ জ্বরের সঙ্গে এই বিপদ লক্ষণগুলি দেখা দিলে- পেটে ব্যথা; বারবার বমি হয়েই যাচ্ছে; বুকের ভিতর বা পেটে জল জমার লক্ষণ; শ্লৈষ্মিক ঝি‍‌ল্লি থেকে রক্তপাত; তন্দ্রাচ্ছন্নতা; লিভার বড় হলে।

এছাড়াও মারাত্মক ডেঙ্গুর লক্ষণগুলি হল; রক্তনালী থেকে প্লাজমা চুঁয়ে বেরিয়ে আসছে। একেই বলা হয় ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। বুকে জল জমছে, ফলে শ্বাসকষ্ট। শরীরের নানা জায়গায় সাংঘাতিক রক্তপাত। শরীরের অন্যান্য যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিগড়ে যায় লিভারের AST এবং ALT-র মাত্রা, মস্তিষ্কে আচ্ছন্নতা।

রোগীর যত্নঃ

কারোর ডেঙ্গু হয়েছে সন্দেহ হলে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। রোগীর প্রতি ২৪ ঘণ্টা মনোযোগ দিতে হবে। রোগী পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেবে। তাকে প্রচুর জল খাওয়াতে হবে, অন্তত দিনে ২/৩ লিটার। সব কিছু খেতে পারে। অরুচি হলে বারবার রোগীর পছন্দ মতো খাবার রোগীকে দিতে হবে। তার শরীরের তাপমাত্রা ৪/৬ ঘণ্টা অন্তর নিতে হবে।

৩-৭ দিনের মাথায় স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা যদি কমতে থাকে, তাহলে সতর্ক হতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনও ওষুধ চলবে না। রক্ত চাপও রোজ মাপতে হবে ও কমছে কিনা দেখতে হবে। সেইরকমই প্লেটলেট কমছে কি না দেখতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন কিভাবেঃ

ডেঙ্গু ছড়াতে পারে; এই দুধরনের মশার ডিম পাড়ার জায়গা বা আঁতুড়ঘর একইরকম। এরা ডিম পাড়ে ঘরের ভিতরে; এবং ঘরের বাইরে আশপাশে কোনও ছোট-বড় পাত্রে পরিষ্কার জল জমে থাকলে। ডিম পাড়ে কলসিতে; বালতিতে; মগে; জারিকেনে; ব্যাটারির খাপে; এয়ারকন্ডিশনার বা রেফ্রিজারেটরের ট্রেতে; অব্যবহৃত টায়ারে; ড্রামে, বাগানে বা চাতালে কোথাও অল্পস্বল্প জল জমলে, খানাখন্দে, চৌবাচ্চায়, ফুলদানিতে বা ফুলের টবে, ইঁট ভেজানো জলে, ছাদে জমা জলে। ঈডিস অ্যালবোপিকটাস কখনও সখনও বাঁশবনে, বাঁশের বা গাছের কোটরে জমা জলে ডিম পাড়ে।

ডিম ফুটে লার্ভা হয়, আর এই লার্ভা থেকে পিউপা হয়ে পূর্ণাঙ্গ মশা হ’তে প্রায় ১১ দিন সময় লাগে। আমরা যদি প্রতি সাতদিনে একবার বাড়ির ভিতর ও আশপাশের মশার ডিম পাড়ার সম্ভাব্য সমস্ত জমা জল ফেলে দিয়ে পাত্রগুলোকে হয় নষ্ট করে দিই বা ঘষেমেজে পুনরায় ব্যবহার করি, তা’হলেই মশার ঘনত্ব বিপদসীমার নীচে নেমে আসবে।

এছাড়া বাড়িতে দিনেরাতে মশারী ব্যবহার করা দরকার; বিশেষতঃ ডেঙ্গু রোগীকে জ্বর না ছাড়া অব্দি সবসময় মশারীর মধ্যেই রাখতে হবে। ডেঙ্গুর মশা অন্ধকারে সাধারণতঃ কামড়ায় না; দিনের আলোয় বা রাতে কৃত্রিম আলোতেও কামড়াতে পারে। ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পড়ুন, বাইরে কোথাও গেলে; সিনেমা হলে গেলে হাতে-পায়ে-গলায় ওডোমস বা রোল্-অন্ মাখুন।

The News বাংলা কে পরামর্শ দিয়েছেন; ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন