হাসপাতাল থেকে গায়েব করোনা রোগীর মৃতদেহ, দু মাস কেটে গেলেও খোঁজ দিতে পারল না কলকাতা মেডিক্যাল

2060
হাসপাতাল থেকে গায়েব করোনা রোগীর মৃতদেহ, দু মাস কেটে গেলেও খোঁজ দিতে পারল না কলকাতা মেডিক্যাল

হাসপাতাল থেকে গায়েব করোনা রোগীর মৃতদেহ; দু মাস কেটে গেলেও খোঁজ দিতে পারল না কলকাতা মেডিক্যাল। করোনা আবহে সবচেয়ে বেশি যদি কোনও হাসপাতালের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে; তা হল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু হোক; বা বেডের অভাবে চিকিৎসা পরিষেবার বিলম্বের কারণে রোগীর মৃত্যুমুখে ঢলে যাওয়া; খবরের শিরোণামে এক নাম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ। এবার যা ঘটল, তাতে তো বাক্যরুদ্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া; কোনও উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ ৫ টাকার কাজে ১ টাকা কাটমানি নেয় তৃণমূল, জানিয়ে দিলেন খোদ জেলা সভাপতি

প্রায় দু-মাস পরেও মৃতদেহের কোনও হদিস পায়নি পরিবার। দেহ মর্গে পড়ে নাকি দাহ হয়ে গিয়েছে; কেউ জানে না। মেলেনি ডেথ সার্টিফিকেটও। অভিযোগ, থানা, হাসপাতাল থেকে করোনা মৃতদেহ দাহ করার শ্মশান সর্বত্র হন্যে হয়ে ঘুরেও; কোনও তথ্য পাচ্ছেন না মৃতের পরিবার। আবারও, নজিরবিহীন হয়রানির অভিযোগে কাঠগড়ায় সেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

আরও পড়ুনঃ আটকে যাবে একে ৪৭ এর গুলি, ভারতীয় সেনার হাতে ‘ভাবা কবচ জ্যাকেট’

অভিযোগকারী পরিবার জানাচ্ছে; গত ১৭ জুলাই মেডিক্যালে আনা হয়, এয়ারপোর্ট দু-নম্বর গেটের বাসিন্দা ৫৪ বছরের প্রশান্ত ঘোষকে। মৃত্যু হয় তাঁর। কোয়ারেন্টিনে যেতে হয় গোটা পরিবারকে। কোয়ারেন্টিন থেকে বেরিয়ে; খোঁজ মেলেনি প্রশান্ত ঘোষের দেহের। মৃতের ভাই বলছেন, “দাদার করোনা হয়েছিল। ১৭ জুলাই কলকাতা মেডিকেল কলেজ জানায়; রাস্তাতেই মৃত্যু হয়েছে দাদার। দেহ রেখে আমাদের পরিবারকে; সরকারিভাবে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর; আমরা খোঁজ করতে শুরু করি দাদার দেহ দাহ হয়েছে কিনা; পাশাপাশি ডেথ সার্টিফিকেট চাই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁরা বলেন ধাপার মাঠ থেকে; তথ্য নিয়ে আসতে। সেখানে গিয়ে আমরা খোঁজ করে জানতে পারি; এই নামে কোনও করোনা আক্রান্তের মৃত দেহ দাহ হয়নি”।

পরিবারের দাবি, এরপর থেকেই শুরু হয় হয়রানি। বউবাজার থানায় অভিযোগ জানাতে যায় প্রশান্ত ঘোষের পরিবার; সেখান থেকে তাঁদের পাঠানো হয় মেডিক্য়ালে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তাঁরা ওয়ার্ড মাস্টারের কাছে পাঠান রোগীর পরিবারকে; সেখান থেকে রেকর্ডরুমে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও তথ্যই মেলেনি। সুপারের অফিসে গিয়ে লিখিত আবেদন করতে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে জানান; “লিখিত আবেদন পেলে; গোটা বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে। এরপরই বাকিটা বলা সম্ভব হবে”। করোনা আবহে যখন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন; তখন তো দিতে পারেইনি, তার ওপর হাসাপাতাল থেকে রোগীর মৃত দেহ গায়েব হয়ে যাওয়ার পরেও; হুশ নেই কর্তৃপক্ষের, এরপরেও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার দিকে দৃষ্টি দেবেন; নাকি আবারও একই ঘটনাই ঘটবে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন