রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না, বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে

9067
রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না, বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে
রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না, বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে

“রাজ্যের হাতে টাকা দেবেন না”; বিমানবন্দরেই দিলীপ ঘোষের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। আর এই নিয়েই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আমফান বিধ্বস্ত বাংলার বিভিন্ন এলাকা দেখতে; রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়েই; বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, সেই ছন্দে তাল কাটল; রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের চিঠিতে। রাজ্যের হাতে টাকা না দিয়ে; সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে টাকা দেবার দাবি তুলে; মোদীকে চিঠি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

দরাজ প্রধানমন্ত্রী মোদী, ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ

“মমতার হাতে টাকা দেবেন না; মানুষ পাবে না; কাটমানি হয়ে যাবে”; দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। সেই দাবি নিয়েই এবার; প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আমফান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের দাবি তুলেছেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই বাংলা বিজেপির তরফ থেকে দাবি ওঠে কেন্দ্রের কাছে; মমতা বা রাজ্য সরকারকে সরাসরি টাকা না দেবার জন্য। সেটাই লিখিতভাবে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দিলেন; রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

মমতার হাতে টাকা দেবেন না, একই দাবি মমতা করেছিলেন বামেদের বিরুদ্ধে

২০০৯ সালের মে মাসে আয়লা ঘূর্ণিঝড়ের সময়, মনমোহন সিং সরকারের কাছে ; ঠিক এই দাবিই তুলেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই এক দাবি মমতা করেছিলেন বামেদের বিরুদ্ধে; সরাসরি রাজ্য সরকারকে টাকা না দেবার জন্য। এবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীকে, কানে কানে কথা রাজ্যপালের সঙ্গে

২০০৯ সালের মে মাস। রাজ্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর বাম সরকার। আয়লার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর কংগ্রেস জোট সরকারের কাছে; ১০০০ কোটি টাকা ত্রাণের জন্য চান; তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী তৃণমূল নেত্রী ও মনমোহন সিং এর কংগ্রেস জোট সরকারের রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; পরিষ্কার চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রীকে। চিঠিতে তিনি জানান; “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর বাম সরকারকে; যেন কোন আর্থিক সাহায্য না করা হয়”। মমতা জানিয়েছিলেন; “রাজ্য সরকারকে টাকা দিলে; তা মানুষ পাবে না। তা চলে যাবে; সিপিএমের ক্যাডারদের হাতে”।

আমফানের পর আসবে ঘূর্ণিঝড় নিস্বর্গ, তারপর গতি ও নিভার

পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৯ এর মে মাসের আয়লার পর; ২০২০ এর মে মাসে আমফান। তবে রাজ্যে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তৃণমূল সরকার। আর বিরোধী এখন বিজেপি। দেশেও তাঁদের সরকার। এবার ত্রাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তবে, এর বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। আর প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধও এক। “দয়া করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের হাতে টাকা দেবেন না; তাহলে তা কাটমানি হয়ে, তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকে যাবে”। অনুরোধ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। কথাতেই আছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়; সেটা এবার দেখল বাংলার মানুষ।

শুক্রবার বাংলায় এলেন; প্রধানমন্ত্রী মোদী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আকাশপথে; আমফান বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখার আগেই; তাঁকে চিঠি দিলেন। প্রধানমন্ত্রী ১০০০ কোটি টাকা; ত্রাণের ঘোষণাও করলেন। তার, আগেভাগেই ত্রাণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে; নিজেদের দাবি জানিয়ে লিখিত চিঠি দিলেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। ঠিক ১১ বছর আগে যেটা জানিয়েছিলেন মমতা। আর এটাকেই “ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বা History Repeats”; বলছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন