বহাল তবিয়তে তৃণমূল নেতা, ইঞ্জেকশন চুরিতে শাস্তি ডাক্তার ও সিস্টার ইনচার্জের

3521
বহাল তবিয়তে তৃণমূল নেতা, ইঞ্জেকশন চুরিতে শাস্তি ডাক্তার ও নার্স ইনচার্জের
বহাল তবিয়তে তৃণমূল নেতা, ইঞ্জেকশন চুরিতে শাস্তি ডাক্তার ও নার্স ইনচার্জের

মানব গুহ, কলকাতাঃ বাংলায় ‘একুশে আইন’। বহাল তবিয়তে তৃণমূল নেতা; ইঞ্জেকশন চুরিতে শাস্তি ডাক্তার ও নার্স ইনচার্জের। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে; করোনার জীবনদায়ী টসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে; অভিযুক্ত মেডিক্যাল অফিসার দেবাংশী সাহার বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাস্তিস্বরূপ রাজ্য স্বাস্থ্যভবন তাঁকে বদলি করেছে; কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সোমবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সিস্টার ইনচার্জ; বিরুদ্ধেও বিভাগীয় পদক্ষেপ নিয়ে; তাঁকেও বদলি করা হল কোচবিহারের মাথাভাঙা হাসপাতালে। সবার প্রশ্ন একটাই, ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে; তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক নির্মল মাজির। তাঁর কি শাস্তি হবে?

টসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন চুরি নিয়ে; কড়া অবস্থান স্বাস্থ্য ভবনের। মেডিক্যাল অফিসারের পর; এবার সরানো হল অভিযুক্ত সিস্টারকেও। বদলির নোটিশ ধরানো হয়েছে, সিসিইউ-র সিস্টার ইনচার্জ; সুনীতা ভৌমিক কেও। ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে জড়িত থাকায়, ডাক্তার ও নার্স দুজনকেই; কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বদলি করা হয়েছে; কোচবিহারের গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালে। কিন্তু যার নির্দেশে, এই কাণ্ড ঘটেছে বলেই অভিযোগ; সেই তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক নির্মল মাজির কি শাস্তি হবে? উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ ‘ব্যবসা করতে বিজেপিতে আসিনি’, দলবদল নিয়ে মুকুলকে একহাত নিলেন মিহির নিশীথ

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে; উধাও হয়ে যায় অন্তত ২৬টি টসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন। করোনা চিকিৎসায় এই ওষুধ; নাকি জীবনদায়ী। চুরি যাওয়া ইঞ্জেকশনের বাজারমূল্য; প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। শুধুমাত্র ‘স্পেসিমেন এক্সামিনেশন ফর্ম’ (ল্যাবরেটরিতে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানোর কাগজ) থেকে; ওই ওষুধ চেয়ে কীভাবে লেখা হল এবং তা স্টোর থেকে দেওয়াও হল; তা নিয়ে রীতিমতো চাপানউতোর শুরু হয়ে যায় মেডিক্যাল কলেজে। যার রেশ পৌঁছয় স্বাস্থ্যভবন পর্যন্ত।

আরও পড়ুনঃ ‘ক্ষমতায় থাকতেই হবে’, ‘চামড়ামোটা’ লজ্জাহীন লোভী নেতাদের দেখে হাসছে বাংলার মানুষ

নবান্নের নির্দেশে গঠিত হয়; দু-দুটি তদন্ত কমিশন। তদন্তে অভিযুক্ত মেডিক্যাল অফিসার দেবাংশী সাহা; ও সিসিইউ-র সিস্টার ইনচার্জ সুনীতা ভৌমিক দোষী প্রমাণিত হন। অথচ যার নির্দেশে হাসপাতাল থেকে, ইঞ্জেকশন গায়েব হয় বলে সবার অভিযোগ; সেই তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক নির্মল মাজি ঘুরছেন বহাল তবিয়তে। তদন্ত কমিটি বলছে, “নির্মল মাজির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই; তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণও হয়নি”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন