ভাগাড়ের মাংস থেকে জাল করোনা ভ্যাকসিন, সব হজম করে দেবে বাঙালি

710
ভাগাড়ের মাংস থেকে জাল ভ্যাকসিন, সব হজম করে দেবে বাঙালি
ভাগাড়ের মাংস থেকে জাল ভ্যাকসিন, সব হজম করে দেবে বাঙালি

মানব গুহ, কলকাতাঃ কোন চিন্তা নেই! হ্যাঁ, ঠিক এরকমটাই বলছে; বাংলার আধুনিক নেট নাগরিকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই বার্তা; ‘ভাগাড়ের মাংস থেকে জাল ভ্যাকসিন; সব হজম করে দেবে বাঙালি’। বছরকয়েক আগেই ভাগাড়ের মরা পশুর মাংস; হোটেল, রেস্তোরাঁর কাছে বিক্রি করে; এমন একটি চক্রকে আটকের খবর প্রচার হওয়ার পর থেকেই; কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে মানুষের ভেতর চরম মাংস-আতঙ্ক তৈরি হয়। কিন্তু কোন মানুষের সেরকম; শরীর খারাপের খবর পাওয়া যায়নি। হাজার হাজার মানুষ, ফেক ভ্যাকসিন নিলেও; অভিনেত্রী মিমির পেট খারাপ ছাড়া কোন অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়নি।

দীঘা, তাজপুর, মন্দারমণি, উদয়পুর, কাছাকাছি যে সব সমুদ্র তীরে; বাঙালি সপ্তাহের শেষে গিয়ে নাচন-কোঁদন করে; সেখানে গিয়ে একবার দেখুন। সমুদ্রে পা ডুবিয়ে ভাজা পচা মাছ; গোগ্রাসে গিলছে বাঙালি। কড়াই করে ভেজে বিক্রি হচ্ছে সামুদ্রিক পচা মাছ; লোকে হামলে পড়ে খাচ্ছে একটু সস্তা হচ্ছে বলে। অনেকে আবার সেই পচা মাছ ভাজায় কামড় দিয়ে বলেন; “যেখানে যেটা চলে, এখানে এটাই নিয়ম; পচামাছ ভাজার স্বাদই আলাদা”।

আরও পড়ুনঃ মমতার ‘ভোলবদল’, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল” থেকে “ও বিজেপির সদস্য”

বাঙালির প্রিয় ফুচকার স্বাদও নাকি ভালো হয়; বিক্রেতার হাতে চর্মরোগ থাকলে। অবশ্য সারাদিন তেঁতুল জলে হাত ডুবিয়ে; ফুচকা বিক্রেতার হাতে চর্মরোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। আর তাতে কোন অসুবিধা নেই; আম বাঙালির। ফুচকা থেকে রাস্তার পাশে, বিলকুল খোলা ঘুগনি আলুচাট বা পাপড়ি চাট; শরীরে কি গেল, তাই নিয়ে অধিকাংশ বাঙালির কতটা হেলদোল আছে; তা বলা খুব মুশকিল।

মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য রাখা বরফ দিয়ে; নিত্যদিন শহরের রাস্তায় বিক্রি হচ্ছে শরবৎ। লোকে জেনেশুনেই; সেই বিষ পান করছেন। ১০ টাকা দিয়ে শরবৎ না খেয়ে; বোতলবন্দি ছোট জলও তাঁরা পান করতে পারেন, কিন্তু করেন না। তাতে কি হয়েছে? কোন মহামারী কখনও দেখেছেন। শহর গ্রামে অনেক সচেতনতা সত্ত্বেও; বিক্রি হয় কাঁটা ফল। অফিস ফেরতা বা লাঞ্চের পর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে; সেই কাটা ফল খান শয়ে শয়ে লোক। কার কি হয়েছে?

আরও পড়ুনঃ মানস ভুঁইয়া, শঙ্কর সিং, মুকুল রায়, বিধানসভায় মমতার ‘পিএসি খেলা’ অব্যহত

বড় পোলট্রি ফার্মগুলোতে অনেক মুরগিই; বিক্রির আগে মরে যায় গরমে বা রোগে ভুগে বা অন্য কোনও কারণে। রোজই সকালেই দেখা যায়; বেশ কয়েকটি করে মুরগি মরে আছে। মালিকদের জানিয়ে বা তাঁদের অলক্ষ্যে; সেই সব মুরগি জলের দরে বিক্রি করে দেয় খামারের কর্মীরা। নির্দিষ্ট লোক এসে তাঁদের কাছ থেকে; সেই সব মুরগি জলের দরে কিনে নিয়ে যায়। তারা আবার সেগুলি বিক্রি করে দেয়; বিভিন্ন জেলাশহর ও কলকাতায়। এই মরা মুরগির কম দামে বিরিয়ানি খান; শহর গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। কখনও শুনেছেন; একসঙ্গে অনেকের পেট খারাপ হতে?

এটা বাঙালির পেট মশাই! বাঙালির শরীর। কত কিছু হজম; হয়ে গেল! আর সামান্য জাল ভ্যাকসিন; কি করবে বাঙালির? ভ্যাকসিন না দিয়ে; পেট খারাপের ওষুধ দিয়েছে! আরে বাবা, ভ্যাকসিনের বদলে বিষ দিলেও; বেমালুম হজম করে দিত আম বাঙালি। মিমির পেটের রোগও, দুদিনে সেরে যাবে; চিন্তা করবেন না। ভাগাড়ের মাংস থেকে জাল ভ্যাকসিন; বাঙালির শরীরে ঢুকে কেউ কিস্যু করতে পারেনি, আর পারবেও না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন